শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ জুন, ২০২১ ২৩:১৪

সিলেটে প্রস্তুত কিশোর অপরাধীদের তালিকা

শিগগির অভিযান

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

সিলেটে প্রস্তুত কিশোর অপরাধীদের তালিকা
Google News

সিলেটে দিন দিন বেড়েই চলেছে কিশোর অপরাধ। বেপরোয়া কিশোর অপরাধীরা গড়ে তুলেছে এলাকাভিত্তিক গ্রুপ। আধিপত্য বিস্তার ও অপরাধমূলক কর্মকান্ড নিয়ে এসব গ্রুপের মধ্যে প্রায়ই ঘটছে সংঘাত, সংঘর্ষ, হানাহানি। নিজেদের মধ্যে মারামারি ছাড়াও চুরি, ছিনতাই, এমনকি খুনোখুনিতেও জড়িয়ে পড়ছে কিশোর অপরাধীরা। সিলেট মহানগরে কিশোর অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় শঙ্কিত অভিভাবকরা। এ অবস্থায় কিশোর অপরাধ দমনে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এত দিন অভিভাবকদের সতর্ক ও অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কিশোরদের কাউন্সেলিং করা হয়েছিল। কিন্তু এতেও যারা সংশোধন হয়নি তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযানে নামতে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ লক্ষ্যে কিশোর অপরাধীদের তালিকাও প্রস্তুত করেছে পুলিশ ও র‌্যাব। সূত্র জানায়, নগরের আম্বরখানা, বড়বাজার, ইলেকট্রিক সাপ্লাই, কাজিটুলা, কুমারপাড়া, টিলাগড়, শিবগঞ্জ, নয়াসড়ক, মিরাবাজার, লামাবাজার, পূর্ব জিন্দাবাজার, মেডিকেল রোডসহ বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে এলাকাভিত্তিক কিশোর গ্যাং। এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রায়ই মারামারিতে লিপ্ত হয়। গ্রুপের নিয়ন্ত্রিত এলাকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, মাদকস্পট নিয়ন্ত্রণ, জুয়ার আসর, চুরি-ছিনতাই, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ইভ টিজিংসহ সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করে তারা। এক গ্রুপ অন্য গ্রুপের এলাকায় হস্তক্ষেপ করলেই লেগে যায় মারামারি। সন্ধ্যা হলেই পাড়া-মহল্লার গলির মুখে আড্ডা বসায় এসব গ্রুপের কিশোররা। তাদের হাতে প্রায়ই নাজেহাল হন বয়স্করাও। ইতিমধ্যে এসব কিশোর অপরাধীকে চিহ্নিত করেছে র‌্যাব। কিশোর গ্যাংগুলোর অপকর্ম নির্মূল করতে শিগগিরই অভিযানে নামার কথা জানিয়েছেন র‌্যাব-৯-এর গণমাধ্যম কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার ওবাইন। তিনি জানান, কিশোর অপরাধীদের গতিবিধি লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে গ্যাং লিডারসহ কিশোর অপরাধে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেফতারে শিগগির অভিযান শুরু করবে র‌্যাব। সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) সূত্র জানান, কিশোর অপরাধীদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে নিতে বর্তমান পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

এর অংশ হিসেবে দেড় শতাধিক কিশোর অপরাধীর তালিকা তৈরি করা হয়। প্রথমে এসব অপরাধী ও তাদের অভিভাবককে ডেকে আনা হচ্ছে। অভিভাবককে তার সন্তান সম্পর্কে সতর্ক করা হচ্ছে। আর কিশোর অপরাধীকে সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে কাউন্সেলিং করা হয়। এর পরও যারা অপরাধ থেকে সরে আসেনি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ বলেন, ‘কিশোর বয়সে সবার মধ্যে একটা হিরোইজম কাজ করে। এ সময় না বুঝে বা বন্ধুবান্ধবদের পাল্লায় পড়ে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে তারা। আমরা চাই না এদের জেলে পাঠিয়ে ক্রিমিনাল বানাতে। সেজন্য তালিকা করে এদের অভিভাবকদের ডেকে এনে তার সন্তানের ব্যাপারে খেয়াল রাখতে সতর্ক করা হচ্ছে। অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোরদেরও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সঠিক পথে আনার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এ মানবিক উদ্যোগের পরও যারা অপরাধ জগতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছে না তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ ব্যাপারে পুলিশ কোনো ছাড় দেবে না।’

এই বিভাগের আরও খবর