যশোরের অভয়নগর ও বাঘারপাড়া উপজেলার পুরোটা এবং সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়ন নিয়ে যশোর-৪ আসন গঠিত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে এবারও মনোনয়ন চাইবেন ২০০৮-এ আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে ‘ক্লোজ ফাইট’ দেওয়া বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক প্রকৌশলী টি এস আইয়ুব। মনোনয়ন চাইবেন অভয়নগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফারাজী মতিয়ার রহমানও। অন্যদিকে যশোর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলকে এ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী।
সূত্রমতে, ২০০৮-এর নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির মধ্যেও জেলার ছয় আসনের ভিতরে এ আসনটিতেই সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়। বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী টি এস আইয়ুব সামান্য ভোটে পরাজিত হন। প্রকৌশলী টি এস আইয়ুব বলেন, ৩০ বছর ধরে অভয়নগর, বাঘারপাড়া উপজেলার গণমানুষের সঙ্গে মিশে আছি। আমার জীবন, যৌবন, সম্পদ উজাড় করে দল, এলাকা আর এলাকার মানুষকে ভালোবেসেছি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে ছিলাম। মামলা, হামলা, জুলুমের শিকার হয়েছি। দফায় দফায় জেল খেটেছি। বাকি জীবনও এই দুই উপজেলার গণমানুষের উন্নয়ন অগ্রগতিতে নিজেকে সমর্পণ করতে চাই। অভয়নগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফারাজী মতিয়ার রহমান বলেন, অভয়নগরে নৌবন্দর রয়েছে। শিল্পকারখানা আছে। ভবদহ জলাবদ্ধ এলাকার মতো সমস্যা রয়েছে। স্থানীয় একজন সংসদে না থাকলে এই এলাকার সমস্যার সমাধান করা কঠিন হবে।
এদিকে ২০০৮ নির্বাচনে কম ভোটের ব্যবধান ও ২০১৮ নির্বাচনে বৈরী পরিবেশে মাঠে থাকা এবং ফ্যাসিবাদী আন্দোলন সংগ্রামে ব্যাপক ভূমিকার কারণে টি এস আইয়ুব দলের হাইকমান্ডের খুব কাছে অবস্থান করছেন এবং তাঁর দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত বলে মনে করছেন স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা।
স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা বলছেন, দুই উপজেলা এবং তৃতীয় আরেকটি উপজেলার একাংশ নিয়ে যশোর-৪ আসন। বিশাল এ এলাকায় যে নেতার প্রভাব, পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা বেশি, তেমন নেতাকে প্রার্থী করলে জয় পেতে সহজ হবে। শুধু উপজেলাকেন্দ্রিক প্রভাব- এমন কাউকে দলীয় মনোনয়ন দিলে জয় পাওয়া কঠিন হবে।
এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া যশোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। মানুষ দুর্নীতিমুক্ত নেতা, দেশ ও প্রশাসন চায়। নতুন মুখ চায়। এসব কারণে আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।