Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৮ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ জুন, ২০১৯ ২৩:২৮

তাড়াইলে যুবককে হাত-পা বেঁধে বেদম প্রহার

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

তাড়াইলে যুবককে হাত-পা বেঁধে বেদম প্রহার
তাড়াইলে পেটানো হচ্ছে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে ওসির সামনেই চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবককে  হাত-পা বেঁধে বেদম প্রহারের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ মামলার প্রধান আসামি হিটলারকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকালে দড়ি জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত কাস্টম কর্মকর্তা এম. আর. খান সাহানের বাড়িতে। নির্যাতিত যুবক মোশারফ হোসেনকে (১৯) তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শামুকজানি গ্রামের কেন্তু মিয়ার ছেলে মোশারফ হোসেন কাউকে না বলে বৃহস্পতিবার সকালে পার্শ্ববর্তী দড়ি জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত কাস্টম কর্মকর্তা এম. আর. খান সাহানের বাড়ির ছাদে চলে যায়। বাড়ির লোকজন দেখতে পেয়ে তাকে ধরে নিচে নামিয়ে আনে। পরে চোর সন্দেহে বাড়ির মালিক সাহানের নির্দেশে পাশের গুলবাগ জামে মসজিদের সামনে খোলা মাঠে মোশারফকে হাত-পা বেঁধে বেদম প্রহার করা হয়। আলম নামে এক ব্যক্তি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মোশারফকে জাপটে ধরে রাখে। আর সাজ্জাদ হোসেন হিটলার নামে একজন তাকে লাঠি দিয়ে পায়ের পাতাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান ঘটনার সময় কাস্টম কর্মকর্তা সাহানের বাড়িতে দাওয়াত খেতে গিয়েছিলেন। তার উপস্থিতিতেই মোশারফকে নির্যাতন করা হয়। তবে ওসি মুজিবুর রহমান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় তিনি সাহানের বাড়ির পাশের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। লোকজনের জটলা দেখে তিনি এগিয়ে যান। সেখানে তখন মোশারফের বাবাসহ আরও অনেকেই ছিলেন। তখন মোশারফের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়ার জন্য বাড়ির মালিক ওসিকে বললে তিনি পাগলের বিরুদ্ধে মামলা নিতে অস্বীকার করেন। সে সময় তাকে মারধরের বিষয়টি কেউ তাকে বলেনি বলে তিনি জানান।

এ অবস্থায় তিনি ছেলেটিকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করে থানায় চলে যান। এর কিছুক্ষণ পরে ফেসবুকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হলে ওসি আবারও সাহানের বাড়িতে যান এবং নির্যাতনকারী হিটলারকে আটক করেন। অথচ তখন বাড়ির মালিক এবং আলম বাড়িতে অবস্থান করলেও তিনি তাদের ধরেননি। তবে ওসি বলেন, তখন হিটলার ছাড়া বাড়িতে অন্য আসামিরা ছিলেন না।

এ ঘটনায় নির্যাতিত যুবক মোশারফের ভাই সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে তাড়াইল থানায় সাজ্জাদ হোসেন হিটলার (৩০), আলম (৩০) ও এম. আর. খান সাহানকে (৬০) আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। অন্য আসামিদের ধরার চেষ্টা চলছে বলে ওসি জানিয়েছেন। হিটলারের বিরুদ্ধে তাড়াইল থানায় আরও মামলা রয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর