মঙ্গলবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা

গো-খাদ্যের সংকটে কৃষক ও খামারি

বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ

নওগাঁর আত্রাইয়ে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উচ্চমূল্যে খড় কিনে গো-খাদ্যের চাহিদা পূরণ করতে হচ্ছে। এতে হাজার হাজার কৃষক ও গো-খামারি হিমশিম খাচ্ছে। অনেকে গো-খাদ্য সংকটের কারণে গরু-ছাগল বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। জানা যায়, চলতি বছর পরপর দুবার ভয়াবহ বন্যায় আত্রাইয়ের কোনো মাঠে আমন ধানের চাষ হয়নি। অন্যান্য বছর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হতো। এর মধ্যে মনিয়ারী, ভোঁপাড়া, শাহাগোলা ইউনিয়নে সর্বাধিক পরিমাণ জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়। আর এসব ধানের খড় এলাকার গো-খাদ্যের চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলায় এ খড়গুলো বিক্রি করা হতো। কিন্তু এবারের ভয়াবহ বন্যায় আমন ধানের চাষ না হওয়ায় গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে জেলার যেসব উপজেলায় আমন ধানের চাষ হয়েছে ওই এলাকা থেকে উচ্চমূল্য দিয়ে খড় কিনতে হচ্ছে কৃষক ও গো-খামারিদের। প্রতিদিন সেই কাকডাকা ভোরেই ভ্যানযোগে গো-খাদ্য নিয়ে হাজির হন উপজেলা সদরের সাহেবগঞ্জ ব্রিজে। আর মুহূর্তের মধ্যেই এগুলো বিক্রি হয়ে যায় খামারি ও কৃষকদের কাছে। ভ্যানযোগে আত্রাইয়ে খড় বিক্রি করতে আসা রানীনগরের জলকৈ গ্রামের ইদ্রিস আলী ও উজলপুর গ্রামের কেরামত আলী বলেন, আত্রাইয়ে গো-খাদ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এজন্য আমরা প্রতিদিন সকালে খড়বোঝাই ভ্যান নিয়ে এখানে আসি।

 রানীনগর এলাকায় আমন ধানের চাষ হওয়ায় সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ খড় পাওয়া যাচ্ছে। আমরা ওই এলাকার কৃষকের কাছ থেকে খড় কিনে এখানে নিয়ে আসি। প্রতি ভ্যান খড় ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হয়। আত্রাই উপজেলার জামগ্রামের সাইদুর রহমান বলেন, আমন ধানের খড়ের ওপর ভরসা করে আমরা ইরি বোরো ধানের খড় ওই সময় বিক্রি করে দিয়েছি। কিন্তু আমাদের সব ভরসা ম্লান হয়ে গেছে ভয়াবহ বন্যায়। না পেলাম ধান, না পেলাম খড়। শাহাগোলা গ্রামের সোহেল হোসেন বলেন, যে খড় আগে কিনতাম ৫০০ টাকায় সেই খড় এবার কিনতে হচ্ছে ২৫০০ টাকায়।

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর