শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০১:৩২

বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার ওসি ও এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

বগুড়ার শিবগঞ্জে এক গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার মামলা না নিয়ে পাল্টা তাকে যৌনকর্মী হিসেবে আদালতে চালান দেওয়ার অভিযোগে শিবগঞ্জ থানার ওসি বদিউজ্জামান ও এসআই রতন কুমারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। রবিবার বিকালে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটি নথিভুক্ত হয়। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ঘটনাটি তদন্তের জন্য চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন। বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটি করেন শিবগঞ্জ উপজেলার জানগ্রামের নুর ইসলামের স্ত্রী ছাবিনা বেগম। মামলায় আসামি করা হয়েছে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম বদিউজ্জামান ও এসআই রতন কুমারকে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সিহালী ফকিরপাড়া গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে কলেজছাত্র রামিম হাসান রিমনের সঙ্গে বাদীর মেয়ের            প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রিমনের পরিবার রাজি না থাকায় বাদী তার মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেন।

কিন্তু বিয়ের এক বছর পরও রিমন বাদীর মেয়ের সঙ্গে ফোনে সম্পর্ক অব্যাহত রাখে। তাকে প্রভাবিত করতে নানারকম কুপ্রস্তাব দেয়। এরই একপর্যায়ে স্বামী বাড়িতে না থাকায় রিমন গত ২৪ নভেম্বর দুপুরে বাদীর মেয়ের বাড়িতে ঢুকে এবং তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় পিরব ইউপি সদস্য আবুল কাশেম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রিমন ও বাদীর মেয়েকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন। পরে শিবগঞ্জ থানার ওসি এস এম বদিউজ্জামান ও এসআই রতন কুমার রায় দুজনকে আটক করে নিয়ে যান। থানায় গিয়ে ঘটনার শিকার গৃহবধূ এবং তার মা অভিযুক্ত রিমনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করতে চাইলে পুলিশ তা নেয়নি। উল্টো অভিযুক্ত রিমনের সঙ্গে ওই গৃহবধূকেও দ বিধির ২৯০ ধারায় মামলা দিয়ে (পতিতাবৃত্তি) আদালতে চালান দেওয়া হয়। পরে আদালত দুজনকে জামিনে ছেড়ে দেয়।

বাদীর আইনজীবী আবদুল বাছেদ জানান, ২০১৩ সালের নির্যাতন ও হেফাজত মৃত্যু নিবারণ আইনের ১৩ ও ১৫ ধারা অনুযায়ী নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম বদিউজ্জামান জানান, তার বিরুদ্ধে একটি মহল মিথ্যা অভিযোগ করছে। যে নারী মামলা করেছে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে কোনো নির্যাতন করা হয়নি। তাকে জনগণ ধরে থানায় দিয়েছিল।

এসআই রতন কুমার বলেন, আমি যা করেছি তা আইনিভাবেই করেছি। অভিযুক্ত মেয়ে যে খারাপ তার স্বীকারোক্তি স্থানীয় লোকজন তার কাছে দিয়েছে।

শিবগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় জেলার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তবে তিনি খোঁজ নিয়ে জেনেছেন যে, মেয়েটি পতিতাবৃত্তি করে না, স্বামীর বাড়িতেই থাকে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর