শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ মার্চ, ২০২১ ২৩:২৯

করোনার টিকায় অনীহা ফেরত গেল ৩১০০ ডোজ

বরগুনা প্রতিনিধি

করোনার টিকায় অনীহা ফেরত গেল ৩১০০ ডোজ

দেশের সর্বদক্ষিণের উপকূলীয় জেলা বরগুনায় করোনার টিকা নিতে কিছু অনীহা দেখা দিয়েছে। এ জেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মাঝে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আশঙ্কায় জেলার তিনটি উপজেলা থেকে ৩ হাজার ১০০ ডোজ টিকা ফেরত পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান।  জানা গেছে, করোনাভাইরাসের টিকাদান কার্যক্রম এর এক মাস অতিবাহিত হলেও কাক্সিক্ষত সংখ্যক ব্যক্তি করোনাভাইরাসের টিকা গ্রহণ না করায় মেয়াদ শেষ হওয়ার আশঙ্কায় গত ৭ মার্চ বরগুনা থেকে ৩ হাজার ১০০ ডোজ টিকা বরিশালে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে বরগুনার আমতলী থেকে ২ হাজার ডোজ, বেতাগী থেকে ৩৩০ ডোজ ও পাথরঘাটায় ৭৭০ ডোজ। আগামী ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত করোনাভাইরাসের প্রথম ডোজ টিকার মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশের ন্যায় বরগুনাতেও টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। টিকা কার্যক্রম শুরুর আগে বরগুনার চাহিদার ভিত্তিতে ২৪ হাজার ডোজ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী টিকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে বরগুনা সদর উপজেলায় ৭ হাজার ৩০ ডোজ, আমতলীতে ৭ হাজার ২৮০, পাথরঘাটায় ৪ হাজার ৪১০, বামনায় ২ হাজার ১৪০ ও বেতাগীতে ৩ হাজার ১৪০ ডোজ টিকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। শুধু তালতলী উপজেলায় হাসপাতালের আন্তবিভাগীয় সেবা বন্ধ থাকায় সেই উপজেলায় কোনো টিকা বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বরগুনা জেলায় এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার ২৩৯ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ রয়েছে ১১ হাজার ৩৪ জন ও নারী রয়েছে ৬ হাজার ২০৫ জন। আমতলী উপজেলার কাওসার মাতুব্বর নামের এক গণমাধ্যম কর্মী বলেন, করোনা টিকা নেওয়ার বিষয়ে আমাদের সাধারণ মানুষের মাঝে এখনো সচেতনতা গড়ে উঠেনি। তাই করোনা টিকা গ্রহনের বিষয়ে কমিউনিটি ভিত্তিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, মানুষকে সচেতন করা সত্ত্বেও করোনাভাইরাসের টিকা নিতে চাচ্ছে না। মেয়াদ উত্তীর্ণের কারণে ২০০ ভায়েল অর্থাৎ ২ হাজার মানুষের টিকার ডোজ ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে হাসপাতালে টিকার কোনো সংকট নেই। বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান বলেন, সেন্ট্রাল থেকে নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা টিকা ফেরত পাঠিয়েছি। আমাদের কে বলা হয়েছে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে টিকা অব্যবহৃত থাকলে সেগুলো ফেরত পাঠানোর জন্য। কেননা দেশের অনেক জায়গা রয়েছে যেসব এলাকায় এখনো টিকার চাহিদা রয়েছে তাই সমবণ্টনের জন্যই টিকা ফেরত পাঠিয়েছি। প্রথম ডোজ টিকা দেওয়ার জন্য আমাদের যে পরিমাণ টিকার প্রয়োজন তা আমাদের কাছে মজুদ রয়েছে।