শিরোনাম
বুধবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০ টা

এবার পিঁয়াজে ঝুঁকছেন কৃষক

আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া

এবার পিঁয়াজে ঝুঁকছেন কৃষক

উত্তরাঞ্চলের শস্যভান্ডার খ্যাত বগুড়া। এ জেলার মাটি খুবই উর্বর। সব রকমের ফসল আবাদ হয় এখানে। সবজি চাষের পাশাপাশি এখন বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলায় পিঁয়াজ চাষে ব্যস্ত কৃষকরা।  সংশ্লিষ্টরা জানান, জেলার শিবগঞ্জ, সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, ধুনটসহ অন্য উপজেলায় পিঁয়াজ চাষ করা হয়। বাজারে  পিঁয়াজের দাম বাড়ায় পিঁয়াজ চাষে বেশি ঝুঁঁকছেন কৃষকরা। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে কৃষকরা অধিক পরিমাণে জমিতে পিঁয়াজ চাষ করছেন। কৃষকরা আধুনিক চাষাবাদ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। প্রায় জমিতেই বছরে ৪টিসহ সাথী ফসল আবাদ হয়ে থাকে। এবার জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে পিঁয়াজের চাষ চোখে পড়ার মতো।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান জানান, এ বছর জেলায় পিঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। এ পর্যন্ত অর্জন হয়েছে ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমি। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৩ হাজার মেট্রিক টন। জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার, আলীগ্রাম, উথলী, ডাবইর, মোকামতলা এলাকায় পিঁয়াজের চাষ বেশি হয়েছে। কৃষকদের পিঁয়াজের খেতে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায়। তারা আগাছা, বালাইনাশক স্প্রেসহ পিঁয়াজ জমি থেকে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শিবগঞ্জ কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় গত বছরের তুলনায় এবার পিঁয়াজের চাষ অনেক বেশি হয়েছে। এ বছর উপজেলায় পিঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩১৫ হেক্টর জমিতে। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৩৭০ হেক্টর জমিতে দেশি জাতের পিঁয়াজ আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৭৯৫ মেট্রিক টন। গত বছর আবাদ হয়েছিল ২৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়ে ছিল ৩ হাজার মেট্রিক টন। কৃষকদের দাবি, উপজেলায় এবার প্রায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে পিঁয়াজ চাষ হয়েছে। প্রতি বিঘায় গড়ে ৭৫-৮০ মণ পিঁয়াজ উৎপাদন আশা করছেন তারা। আলী গ্রামের পিঁয়াজ চাষি শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি এবার ৩ বিঘা জমিতে পিঁয়াজ চাষ করেছেন। গত বারের তুলনায় বীজ ও সার-কীটনাশকের দাম কিছুটা বেশি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে দ্বিগুণ স্প্রে করতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি বিঘায় গড়ে ৮০ মণ পিঁয়াজ উৎপাদন হতে পারে। যা সাড়ে ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন, আশা করছেন এই কৃষক।

শিবগঞ্জ কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি প্রতিমণ ৩ হাজার ৪০০ টাকায় কিনছেন। প্রতি কেজি পিঁয়াজ তিনি ১১০ টাকায় বিক্রি করছেন। দাম বেশি হওয়ায় অনেক কৃষক আগেভাগেই জমি থেকে পিঁয়াজ তুলছেন। তাই ২ দিনের ব্যবধানে এর দাম অনেক কমে এসেছে। শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আল-মুজাহিদ সরকার জানান, কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের বিভিন্ন কৃষি উপকরণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এবার ১১৫ বিঘা জমিতে কৃষকদের প্রণোদনা হিসেবে প্রতি বিঘার জন্য ১ কেজি করে পিঁয়াজ বীজ ও ২০ কেজি করে সার দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আশা করছি শিবগঞ্জে উৎপাদন হওয়া পিঁয়াজ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলায় বিক্রি করা হবে।

 

সর্বশেষ খবর