বিস্ফোরক সরবরাহ সংকটের কারণে মধ্যপাড়া পাথর খনির পাথর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আর এ কারণে শনিবার থেকে পাথর উত্তোলন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সাময়িক ছুটি দেওয়া হয়েছে।
এমজিএমসিএল কর্তৃক বিস্ফোরক সরবরাহ সংকটের কারণে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। গত ৩১ মে পাথর উত্তোলন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সাময়িক ছুটি দিয়ে উৎপাদন সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি। রোজার মাসে ছুটি দেওয়ায় শ্রমিকরা চিন্তিত হয়ে পড়েছে। তবে পৌনে সাত শত শ্রমিকের মধ্যে শতাধিক শ্রমিক জরুরি ও খনির ভু-গর্ভে রক্ষনাবেক্ষন কাজ চালু রাখতে কাজ করবে বলে জানায় জিটিসি।
খনি সূত্রে জানা যায়, চুক্তি অনুয়ায়ী পাথর উৎপাদন কাজে অতি প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক দ্রব্য (অ্যমোনিয়াম নাইট্রেট) সরবরাহ করবে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড (এমজিএমসিএল) কর্তৃপক্ষ। কিন্তু খনি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসিকে চাহিদা মোতাবেক নির্দিষ্ট সময়ে বিস্ফোরক দ্রব্য সরবরাহ না করায় এবং প্রয়োজনীয় মালামাল বহু পূর্বেই শেষ হয়ে যাওয়ার ফলে খনির ভু-গর্ভে উত্তোলনযোগ্য পর্যাপ্ত পাথর না থাকার কারনে ২রা জুন থেকে উৎপাদন সংশ্লিষ্ট সকল অপারেশনাল কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে বলে জানায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি। তবে জরুরি ও খনির ভু-গর্ভে রক্ষনাবেক্ষন কাজ চালু থাকবে।
মধ্যপাড়া পাথর খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এস. এম. নুরুল আওরঙ্গজেব জানান, বিস্ফোরক সংকট হওয়ার কথা নয়। এরপরেও চট্টগ্রামে লোডিং চলছে। আরও বিস্ফোরকসহ মালামাল আসছে। আর এ কারণে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার কথা নয়।
উল্লেখ্য, দিনাজপুরের মধ্যপাড়া পাথর খনিতে গত সাড়ে চার বছরে ৩ বার পাথর উৎপাদন বন্ধ হয়। এর পূর্বে গত ২০১৫ সালে এক্সক্লুসিভের অভাবে দুই মাস উৎপাদন বন্ধ হয়। একই বছর থেকে উৎপাদন যন্ত্রের অভাবে দুই বছর উৎপাদন বন্ধ থাকে। এই বার এক্সক্লুসিভের অভাবে আরো এক দফা উৎপাদন বন্ধ হল খনির উৎপাদন কার্যক্রম।
খনির একটি সূত্র জানায়, মধ্যপাড়া পাথর খনির ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জার্মানীয়া-ট্রেষ্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) পাথর উৎপাদনের রেকর্ড তৈরি করেছে এবং প্রতিমাসে ১ লক্ষ ২০ হাজার মেট্রিক টন পাথর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বিগত মাসগুলোতে ধারাবাহিকভাবে মাসিক ১ লক্ষ টনের অধিক পাথর উৎপাদন করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে খনির নতুন স্টোপ নির্মাণসহ উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এরপরেও মাইন অপারেশনাল কাজে বার বার বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে জিটিসিকে।
বিডি প্রতিদিন/২ জুন ২০১৮/হিমেল