বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত। সড়কপথে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরত্ব। কত শত নদী, পাহাড় আর গ্রামীণ আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ ছুটে চলে মানবিকতার বার্তা নিয়ে। দরিদ্র পরিবারের অসহায় নারীদের স্বাবলম্বী করতে আমাদের এই নিরন্তর পথচলায় সঙ্গী হন একঝাঁক তরুণ প্রাণ।
বসুন্ধরা গ্রুপের অর্থায়নে পরিচালিত দেশের সর্ববৃহৎ সামাজিক সংগঠন বসুন্ধরা শুভসংঘ টিমের মাথার ওপরে ছায়া হয়ে আছেন ইমদাদুল হক মিলন স্যার। দুই বাংলার খ্যাতিমান এই কথাসাহিত্যিকের হাত ধরেই বসুন্ধরা শুভসংঘের যাত্রা শুরু হয়েছিল। আর সারা দেশে আমাদের ছুটে চলা বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামানের নেতৃত্বে। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি।
জুলাইয়ের মাঝামাঝি ভরা বর্ষায় আমাদের যাত্রা ছিল টেকনাফের উদ্দেশে। কক্সবাজার থেকে মেরিন ড্রাইভ রোড ধরে যতই টেকনাফের দিকে আমাদের গাড়িটি এগিয়ে যাচ্ছিল, ততই বাড়ছিল মুগ্ধতা। পাহাড় আর সমুদ্রের যুগলবন্দি অবস্থান মন কেড়ে নিয়েছে ততক্ষণে। সমুদ্র আর নাফ নদীর মোহনায় গিয়েছিলাম আমরা।
ওখানকার শাহপরীর দ্বীপের বেশ কিছু নারী বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে সেলাই মেশিন পেয়েছেন। তাদের খবর নিতেই আমাদের প্রচেষ্টা চলছিল। টানা বৃষ্টির মাঝে সময় পেলেই আমরা চেষ্টা করেছি সেলাই মেশিন পাওয়া সবার খোঁজ নিতে। উখিয়া, টেকনাফ ও কক্সবাজারের ৬০ জন অতিদরিদ্র পরিবারের নারীর হাতে আমরা বসুন্ধরা শুভসংঘের মাধ্যমে সেলাই মেশিন তুলে দিয়েছি। ওই অঞ্চলে সেলাই মেশিন বিতরণ শেষে আমরা পুরো টিম ফিরে এসেছি ঢাকায়।
শরতের শুরুতেই আমাদের গন্তব্য বাংলাদেশের উত্তর সীমান্তের সর্বশেষ উপজেলা তেঁতুলিয়া। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। ভাবতেই কেমন একটা প্রশান্তি অনুভূত হয়। দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করা বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় টিম বসুন্ধরা শুভসংঘ দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে যাচ্ছে মানুষের কল্যাণ করার জন্য।
নাফ নদীর নোনা জলে ভেজা টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ থেকে শুরু করে উত্তর সীমান্তের মহানন্দার স্নিগ্ধ স্রোত বাংলার বুকজুড়ে এক অসাধারণ সুর তৈরি করেছে। বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় চারদিকে বেজে উঠছে মানবিকতার সুর, স্বাবলম্বিতার সুর। বসুন্ধরা শুভসংঘ যেন হয়ে উঠেছে অদৃশ্য এক সেতু, যা দূরত্ব মুছে মানবিকতার বন্ধন জুড়ে দিয়েছে। সেলাই মেশিন পাওয়া উপকারভোগী নারীরা জানান, এই মেশিনগুলো শুধু ধাতু আর সুতায় বাঁধা কোনো যন্ত্র নয়, বরং তাঁদের স্বপ্ন বুননের সরঞ্জাম। টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের নোনা বাতাসে যখন এক অসচ্ছল নারীর হাতে নতুন সেলাই মেশিন দেখা যায়, তখন মনে হয় এই মেশিনে শুধু কাপড় সেলাই হয় না, সেলাই হয় আশা, আস্থা ও আগামী দিনের নিশ্চয়তা। ঠিক তেমনি তেঁতুলিয়ার শীতল হাওয়ায়, সীমান্তঘেঁষা কোনো গ্রামে বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগ ছড়িয়ে দেয় রঙিন সুতায় বোনা এক প্রতিশ্রুতি। যেই নারীদের জীবন একসময় ছিল অভাবের অন্ধকারে ঢাকা, আজ তাঁদের চোখে জ্বলে উঠছে আত্মবিশ্বাসের দীপ্তি। বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে সেলাই মেশিন পেয়ে কারো ছেলে বই কিনতে পারছে, মেয়ে ভালোভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছে, কেউ হয়তো সংসারের অভাব মেটাচ্ছেন—সবই এই সেলাই মেশিনের সুতায় গাঁথা সম্ভাবনার গল্প। দেশের মাটিতে ছড়িয়ে পড়ছে স্বাবলম্বিতার এক অদম্য বার্তা। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে বসুন্ধরা শুভসংঘের ছোঁয়ায় হাজির হয় এক নতুন ভোর, যেখানে নারীরা এখন আর অসচ্ছল নন। তাঁরা প্রত্যেকে হয়ে উঠছেন সৃষ্টির কারিগর, স্বপ্নের বুননশিল্পী। বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগ মানুষের জীবনে আলো জ্বালায়। সেই আলো জ্বলছে নীরবে আর সুই-সুতায় বুনছে এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।
অভাব ঘোচাবে এই সেলাই মেশিন
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার সর্দারপাড়া এলাকার দরিদ্র পরিবারের মেয়ে রোকসানা আক্তার। বয়স ১৮ ছুঁই ছুঁই। সংসারে সীমাহীন কষ্টের মধ্যে বেড়ে ওঠা তাঁর। বাবা নুর আলম মানসিক ভারসাম্যহীন।
সন্তান রেখেই সংসার ছেড়েছেন মা। রোকসানাসহ তিন বোন ও এক ভাইয়ের দেখভাল করছেন বৃদ্ধা দাদি নুর নেহার। নিজেই যখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ, তখন মানসিক ভারসাম্যহীন সন্তান ও তাঁর চার সন্তানের দেখভালের ভার আর সইতে পারছেন না। চরম দারিদ্র্য আর সংকটে কাটছে পরিবারটির দিন।
অভাবের কারণে অষ্টম শ্রেণিতেই পাট চুকাতে হয় রোকসানাকে। চারদিকে যখন নিরাশা আর অন্ধকার, তখন অভাবী এই রোকসানার পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। তিন মাস প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর সম্প্রতি তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি সেলাই মেশিন। মেশিন হাতে পেয়ে দারুণ খুশি রোকসানা।
এই সেলাই মেশিনের মাধ্যমেই এখন নিজেদের দুমুঠো ভাতের সংস্থান করতে পারবেন তিনি। শুধু রোকসানা নন, তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন এলাকার অসহায় দরিদ্র নারী, স্বামী পরিত্যক্তা, দরিদ্র শিক্ষার্থীসহ ২০ জন নারীর ভাগ্য পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়েছে সেলাই মেশিন। রোকসানার মতোই এই নারীদের প্রত্যেকের কষ্টের গল্পগুলো প্রায় একই রকম। তাঁরা বলেন, একেকটি সেলাই মেশিন কেবল একটি যন্ত্র নয়, তাঁদের কাছে আশীর্বাদস্বরূপ।
আয়োজকরা জানান, সারা দেশেই অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের নির্দেশনায় বড় কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
বসুন্ধরা শুভসংঘের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার দরিদ্র নারীদের বাছাই করে তিন মাস প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হচ্ছে। তেঁতুলিয়ায় সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে তেঁতুলিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন রঞ্জু, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির জাহাঙ্গীর আলম, বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, রওশনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ, তেঁতুলিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক রমেশ চন্দ্র রায়, বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের সিনিয়র অফিসার মো. মামুন, তেঁতুলিয়া শাখার সভাপতি হুমায়ুন কবির ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আলম লিটনসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রোকসানা আক্তার বলেন, ‘অভাবের কারণে আমার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটছে আমাদের। এই সময়ে সেলাই মেশিন আমাকে সাহস জুগিয়েছে। আমি এই সেলাই মেশিন দিয়ে অন্তত আমার পরিবারের খরচের জোগানে সাহায্য করতে পারব।’ আরিফা আফরিন বলেন, ‘আমার বাবা নেই। মা খুব কষ্ট করে আমাদের লেখাপড়াসহ সংসার চালাচ্ছেন। এই সেলাই মেশিন ব্যবহার করে আমি এখন নিজের লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করার পাশাপাশি পরিবারেও সহযোগিতা করতে পারব।’
বসুন্ধরা শুভসংঘ তেঁতুলিয়ার সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের সম্মানিত চেয়ারম্যান মহোদয় বাংলাদেশের সর্ব-উত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়ার ২০ জন অসহায় নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন। এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সেই সঙ্গে আমরা আশা করি, এই নারীরা প্রতিটি সেলাই মেশিনের সঠিক ব্যবহার করে নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থান ও ভাগ্যের পরিবর্তন করবে। আমরা সব সময় এমন ভালো কাজের সাক্ষী হতে পেরে দারুণ আনন্দিত।’
বাবা ও ভাই হারানো আফিফার পাশে বসুন্ধরা গ্রুপ
তেঁতুলিয়া উপজেলার স্বপ্নবাজ কিশোরী আফিফা আফরিন বর্তমানে পড়াশোনা করেছ দশম শ্রেণিতে। প্রাথমিকের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় বাবাকে হারায় আফিফা। দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে সংসারের হাল ধরেন মা। প্রয়োজনের তাগিদে আফিফার মা কাজ করতেন বাইরে এবং কখনো কখনো মানুষের বাসায়।
ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, একসময় আফিফা আফরিনের ভাইটিও মৃত্যুবরণ করে। দুই মেয়েকে মানুষ করতে তার মায়ের কখনো পাথরের মেশিনেও কাজ করতে হয়েছে। অনেক কষ্টে মেয়ে দুটিকে লেখাপড়া করাচ্ছেন। মায়ের কষ্ট দূর করতে চায় আফিফা, কিন্তু কিভাবে, তা জানে না।
খুবই অসহায় বোধ করছিল। তার এমন অসহায়ত্বে পাশে দাঁড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘ। বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে তাকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়। সেলাই মেশিন পেয়ে আফিফা বলে, ‘এখন মা বৃদ্ধ হয়েছেন, চাইলেও বাইরে কাজ করতে পারেন না।
অনেক কষ্টে আমাদের দিন অতিবাহিত হচ্ছে । আমরা যখন একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলাম, ঠিক তখনই আমার এক স্যারের মাধ্যমে জানতে পারি, বসুন্ধরা শুভসংঘ থেকে বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়ানো হবে। আমি এখান থেকে তিন মাস সেলাই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। ভাবতেও পারিনি, আমি বিনামূল্যে একটি সেলাই মেশিন পাব। এখন আমি স্বপ্ন দেখছি, বড় মেয়ে হিসেবে আমি বাড়ির হাল ধরব এবং আমার পড়ালেখা চালিয়ে যাব।
সেই সঙ্গে আমার ছোট বোনটিকেও পড়ালেখা করাব। একটা সময় মনে হয়েছিল পৃথিবীতে মনে হয় আর বাঁচতে পারব না। এখন মনে আবার শক্তি জাগিয়েছে এই মেশিনটি। এটি দিয়ে আমি আমার বান্ধবীদের এবং আশপাশের মানুষের জামাকাপড় সেলাই করব, সেই সঙ্গে আমার ছোট বোনটিকেও সেলাইয়ের কাজ শেখাব। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াব এবং পড়াশোনা ও পরিবারের ভরণ-পোষণ নিজেরাই করব। দোয়া করি বসুন্ধরা শুভসংঘের জন্য, যারা আমার মতো অসহায় মেয়ের পাশে দাঁড়িয়েছে।’
বসুন্ধরা গ্রুপ দরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজ করে
জাহাঙ্গীর আলম, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, তেঁতুলিয়া উপজেলা, পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া। দেশের সর্ব-উত্তরের সীমান্তঘেঁষা উপজেলা। এই অঞ্চলে কোনো শিল্প-কারখানা নেই, যেখানে নারীরা কাজ করার সুযোগ পাবেন। আমাদের এই অঞ্চলের নারীরা চাইলেও সহজে কোনো পেশায় নিয়োজিত হতে পারেন না।
কেউ কেউ পুরুষের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাথর উত্তোলন করেন, কিন্তু এটাও সব সময় নয়। অভাব-অনটনেই দিন কাটে তাঁদের। বসুন্ধরা শুভসংঘ দেশের সীমান্তবর্তী এই উপজেলার দরিদ্র পরিবারের নারীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এ জন্য তাদের অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।
আরো ধন্যবাদ জানাই এ জন্য যে দরিদ্র নারীদের মাঝে শুধু সেলাই মেশিন বিতরণ নয়, তাঁদের দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য। বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগ খুবই মহতী এবং যুগোপযোগী। যে নারীরা আজকে সেলাই মেশিন পেলেন, তাঁরা চাইলেই নিজেদের সচ্ছল করতে পারবেন। মেশিনগুলো এই নারীদের আগামীর পথ চলতে সহযোগিতা করবে, তাঁদের পারিবারিক থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবনও পরিচালনা করতে পারবে।
বসুন্ধরা শুভসংঘ ‘শুভ কাজে সবার পাশে’ রয়েছে, এটাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। বসুন্ধরা গ্রুপ সারা দেশের দরিদ্র মানুষের জন্য কাজ করে। অনেকেই নানাভাবে মানুষকে সহযোগিতা করেন, তবে বসুন্ধরা গ্রুপের মতো এভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে মানুষের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার উদাহরণ বিরল।
অবহেলিত মানুষের পাশে থাকে বসুন্ধরা গ্রুপ
শাহাদাৎ হোসেন রঞ্জু, সভাপতি, তেঁতুলিয়া উপজেলা বিএনপি
অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘকে অনেক ধন্যবাদ জানাই। শুধু সেলাই মেশিনই প্রদান করা হয়নি, এর আগে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই নারীদের দক্ষ করে তোলা হয়েছে। তিন মাস প্রশিক্ষণে তাঁরা কাপড় কাটা ও সেলাই শিখেছেন। নিজেরা দক্ষ হয়ে অবশেষে তাঁরা বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে সেলাই মেশিন উপহার পেলেন।
এই সেলাই মেশিন দিয়ে দরিদ্র অসচ্ছল নারীরা নিজেদের স্বাবলম্বী করতে পারবেন। বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় বসুন্ধরা শুভসংঘ দীর্ঘদিন থেকে তেঁতুলিয়ায় কাজ করে যাচ্ছে। করোনার সময় হাজার হাজার পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। সমাজের অবহেলিত মানুষকে নিয়ে সব সময় বসুন্ধরা শুভসংঘ কাজ করে যাচ্ছে।
আমাদের নারীরা ইচ্ছা করলেই ঘর থেকে বাইরে গিয়ে কাজ করার সুযোগ পান না। এখন এই ২০ জন নারীর একটি কর্মসংস্থান হলো। তাঁরা যে সেলাই মেশিন পেয়েছেন, এটি দিয়ে তাঁদের পরিবারও উপকৃত হবে। আজকে এমন একটি মহতী কাজে থাকতে পেরে খুব ভালো লাগছে।
বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, প্রত্যন্ত এই অঞ্চলে আপনাদের দৃষ্টি আরো বেশি বেশি পড়ুক এবং এই এলাকার দরিদ্র মানুষের উন্নয়নে আপনারা বেশি করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন। আমরা সব সময় আপনাদের পাশে থাকব, ইনশাআল্লাহ।
নিঃস্বার্থভাবে দেশের সেবা করে যাচ্ছে বসুন্ধরা গ্রুপ
মামুনুর রশী, প্রধান শিক্ষক, রওশনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
বসুন্ধরা গ্রুপ সব সময় যে মানবিক কাজগুলো দেশের মানুষের জন্য করে যাচ্ছে, সেটি অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার এবং অনুকরণীয়। দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বী করতে তারা বসুন্ধরা শুভসংঘের মাধ্যমে এই নারীদের খুঁজে বের করে। তিন মাস বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই ও কাপড় কাটার কাজ শিখেছে নারীরা। দক্ষ হওয়ার পর প্রত্যেক নারীকে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে সেলাই মেশিন প্রদান করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।
এর মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে নারীরাও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারবে। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় যে ২০ জন নারীকে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকের বাবা নেই, অনেকের সংসারের হাল ধরার মতো কেউ নেই। এই মেশিন দিয়ে সে শুধু নিজেকে নয়, তার পরিবারকে আর্থিকভাবে সাপোর্ট দিতে পারবে। বসুন্ধরা শুভসংঘ শুধু সেলাই মেশিন বিতরণ কার্যক্রম নয়, তারা গরিব অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি, সবার মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল চালু করেছে।
অসহায় মানুষের জন্য সুদ ও সার্ভিজ চার্জমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এসব কাজ মানুষের কল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে করে যাচ্ছে তারা। তাদের এই মানবিক কাজ সব সময় চলমান থাকবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।