ইতিহাসের বইয়ে আছে ঢাকার হাজার বছরের ইতিহাস। এবার তরুণ প্রজন্মের শিল্পীর তুলিতে উঠে এসেছে ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও নগর জীবনের নানান বৈচিত্র্যময় দিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের পঞ্চম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের তুলির আঁচড়ে ক্যানভাসে নতুন মাত্রা পেয়েছে ব্যস্ত নগরীর জীবনযাত্রা, পুরান ঢাকার স্থাপত্য, লোকজ সংস্কৃতি এবং আধুনিক নগরের পরিবর্তিত রূপ। অ্যাক্রেলিক, মিশ্র মাধ্যম, জলরং বা চারকোলে শিল্পীরা নতুনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন প্রিয় ঢাকাকে।
গতকাল রাজধানীর চারুকলা অনুষদের জয়নুল আর্ট গ্যালারিতে শুরু হয়েছে ‘ঢাকা : বলা না বলা কথা’ শীর্ষক এ প্রদর্শনী। বিকালে সপ্তাহব্যাপী প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন আর্ট বাংলা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আর্টিস্ট মহম্মদ ইউনুস এবং চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আজহারুল ইসলাম চঞ্চল। প্রদর্শনী শেষ হবে ৫ সেপ্টেম্বর।
প্রদর্শনী ঘুরে দেখা যায়, বুড়িগঙ্গার তীরে ভেড়ানো ডিঙি, জনাকীর্ণ শাঁখারীবাজারের রাতের দৃশ্য, পুরান ঢাকার জীর্ণশীর্ণ বাড়ি, রাস্তা ও সরুগলিতে রিকশার ছুটে চলা, যান্ত্রিক শহরে কাজের খোঁজে কর্মজীবীদের ছুটে চলার ব্যস্ততা, কোলাহলমুখর মহানগরীর নীরব সকাল, লালবাগ কেল্লায় অবস্থিত পরীবিবির মাজার, রিকশা পেইন্টিং, রিকশাভ্রমণ, দূষিত বুড়িগঙ্গার দৃশ্যসহ ২৩ শিল্পীর ২৭ শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে এ প্রদর্শনীতে। শিল্পীরা হলেন শামসুন্নাহার নাসরিন, মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান, শাহরিয়ার রাসেল, মোহাম্মদ রাশেদ কামাল, আবদুস সাত্তার তৌফিক, সুমন বসাক, শামীমা সুলতানা, ঊর্মিলা শুক্লা, মোনতাসিরা আরজু সিমি, ফারহানা আক্তার স্বপ্না, সখিনা আক্তার শিমু, শিবানন্দ অধিকারী বিপ্লব, মোহাম্মদ মহিদুল হাসান, শক্তিপদ হালদার, রানীয়া আলম, মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, হাবিবা আক্তার পাপিয়া, তাহসিনা নাজনীন, এস এম বদরুল হাসান খান পাঠান, শাহনাওয়াজ সুধি, ফারহানা ইয়াসমিন নিপু, নুসরাত আহমেদ এবং দীপা ইসলাম। উদ্বোধনকালে অধ্যাপক মহম্মদ ইউনুস বলেন, ‘পঞ্চম ব্যাচের শিক্ষার্থী শিল্পীরা ঢাকাকে যেভাবে তুলে ধরেছেন সেটা প্রশংসার দাবিদার। ঢাকাকে তারা চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন।’ তিনি বলেন, ‘শিল্পীরা সমাজের আয়না। দায়বদ্ধতা থেকেই তারা ছবির মাধ্যমে নিজেদের প্রতিফলন ঘটান। একসঙ্গে অনেকে মিলে কাজ করায় দলীয় প্রদর্শনীতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা সম্ভব হয়ে থাকে। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিষয়ও তারা এভাবে তুলে ধরবেন বলে আমি মনে করি।’ চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আজহারুল ইসলাম চঞ্চল বলেন, ‘পঞ্চম ব্যাচ প্রতি বছর নিয়মিতভাবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে আসছে। তাদের এটি ষষ্ঠ আয়োজন। শিল্পকর্মে তারা ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য যেভাবে তুলে ধরেছেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। বিষয় উপজীব্য করে তারা প্রতি বছর প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। এ ব্যাচ শিল্পী হিসেবে তাদের ব্লেন্ড তৈরি করতে পেরেছে। দলীয় প্রদর্শনীতে নানান জনের নানান চিন্তাধারার সন্নিবেশ থাকে বলে একক প্রদর্শনী থেকে দলীয় প্রদর্শনীর ক্যানভাসে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। দলীয় প্রদর্শনীতে কাজ করার অনেক সুযোগ থাকে। আমি তাদের এ আয়োজনকে সাধুবাদ জানাই।’