গত এক মাসের বেশি সময় ধরে সাপ্তাহিক বাজার করতে গেলেই হতাশ হয়ে ফিরছেন সাধারণ মানুষ। সবজি, মাছ, মাংস কিংবা ডিম-কোনোটাতেই নেই স্বস্তি। প্রতিদিনের বাজারে বাড়তি দাম মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত
পরিবারের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকাল রাজধানীর মালিবাগ ও শান্তিনগর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আলু ও পেঁপে ছাড়া ৭০ টাকার নিচে কোনো সবজি মিলছে না। সরবরাহ কম থাকায় দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলে ব্যবসায়ীদের অভিমত। বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ৯০-১১০, বরবটি ১০০, পটোল ৭০-১০০, ঢ্যাঁড়শ ৮০-৯০, চিচিঙা ও ধুন্দল ৭০-৮০, কচুর লতি ৮০, মুখীকচু ৬০-৭০, টম্যাটো ১৬০, করলা ৮০-১০০, গাজর ১৬০, দেশি শসা ৯০ ও হাইব্রিড শসা ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১৭০-২০০ টাকার মধ্যে। পেঁপে ২০-২৫, আলু ২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও পিঁয়াজের দাম এখনো চড়া। খুচরা বাজারে ৮০-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শান্তিনগরের সবজি বিক্রেতা মুসা আহমেদ বলেন, গত এক মাস ধরে সরবরাহ কম, তাই দাম বেশি। আমাদের কিছু করার নেই। মানুষও আগের মতো কিনছে না। সবজির ঘাটতি, পরিবহন খরচ আর শ্রমিকের মজুরি-সব মিলিয়েই দাম বাড়ছে। এদিকে ডিমের বাজারেও উচ্চমূল্য অব্যাহত রয়েছে। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম ১৫০-১৫৫ টাকা, হাঁসের ডিম ২২০ টাকা, আর দেশি মুরগির ডিমের হালি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০-১৮০, সোনালি মুরগি ৩০০-৩৩০, সোনালি কক ৩৭০ এবং দেশি মুরগি ৬৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর কারওরান বাজারে মাছের দামও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। প্রতি কেজি রুই ৩৫০-৩৮০, কাতল ৪০০, পাঙাশ ২০০, তেলাপিয়া ২০০-২২০, চিংড়ি ৭০০-৭৫০, মাঝারি কই ২৮০-৩০০, দেশি শিং ৭০০-৭৫০, পাবদা ৪০০-৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে ইলিশের বাজারও চড়া। এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার, আর ছোট আকারের (৪০০-৫০০ গ্রাম) ইলিশ ১ হাজার ৩০০-১ হাজার ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সবজি, মাছ-মাংস ও ডিম, সব কিছুর একসঙ্গে দাম বাড়ায় নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ ক্রেতাদের। প্রতিদিনের বাজার এখন তাদের কাছে যুদ্ধের মতো।