Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ মে, ২০১৯ ১৫:৩১
আপডেট : ২০ মে, ২০১৯ ১৫:৪২

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে সেই পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

তদন্ত কমিটি গঠন

বেলাল রিজভী, মাদারীপুর

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে সেই পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

মাদারীপুর পৌরসভার টিবি ক্লিনিক সড়কে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মোক্তার হোসেন নামে এক পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বদরুল আলম মোল্লাকে প্রধান করে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্যাতিত স্কুলছাত্রীকে রবিবার রাতে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার সকালে বাংলাদেশ প্রতিদিনের অনলাইন ভার্সনে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে পুলিশের নজরে আসে। পরে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

জানা গেছে, মাদারীপুর পৌরসভার টিবি ক্লিনিক সড়কে এক স্কুলছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মোক্তার হোসেন নামে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় নির্যাতিত স্কুলছাত্রীকে রবিবার রাতে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর পুলিশ লাইনের পুলিশ সদস্য মোক্তার হোসেন দীর্ঘদিন থেকে শহরের টিবি ক্লিনিক সড়কে ভাড়া থাকেন। কয়েক দিন আগে মোক্তারের গর্ভবতী স্ত্রী গ্রামের বাড়ি চলে যায়। এই সুযোগ রবিবার রাতে শহরের টিভি ক্লিনিক সড়কের প্রতিবেশী এক স্কুলছাত্রীকে ঘরে ডেকে নেন। এসময় দরজা বন্ধ করে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে পুলিশ সদস্য মোক্তার হোসেন স্কুলছাত্রীকে পেছনের ভেন্টিলেটর দিয়ে ফেলে দেন। এতে করে স্কুল ছাত্রীর গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নির্যাতিত স্কুলছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘মোক্তার হোসেন আমাকে তার ঘরে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে আমার সাথে খারাপ কাজ করেছে। পরে স্থানীয়রা টের পেয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিলে আমাকে তিনি ভেন্টিলেটর দিয়ে ফেলে দেন। এতে আমার পায়ের হার ভেঙে গেছে। এর আগে তিনি আমাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছেন।’ 

এব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘক্ষণ ঘরের মধ্যে ওই মেয়েকে নিয়ে থাকায় আমাদের সন্দেহ হয়। পরে আমরা বাইরে থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিলে তিনি মেয়েটিকে ফেন্টিলেটর দিয়ে ফেলে দেন। এতে মেয়েটি গুরুতর আহত হয়ে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ব্যাপারে মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শশাঙ্ক ঘোষ বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে একটি মেয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মোক্তার হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমাকে শুধু শুধু স্থানীয়রা ঘরের বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল। ওই মেয়ে সাথে আমার কিছু হয়নি। বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলে আপনি পুলিশ সুপার বা ওসির সাহায্য নেননি কেন? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি।

মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার উত্তম প্রসাদ পাঠক বলেন, এই ঘটনায় দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিডি-প্রতিদিন/২০ মে, ২০১৯/মাহবুব

 


আপনার মন্তব্য