Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৭ জুন, ২০১৯ ১৫:৪০

সুনামগঞ্জে শিক্ষার্থী রুবেল হত্যায় বাবাসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জে শিক্ষার্থী রুবেল হত্যায় বাবাসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শিক্ষার্থী রুবেল হত্যার আলোচিত মামলায় বাবা ও তার দুই ছেলেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আসামিদের প্রত্যেককে আরও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ২ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- তাহিরপুর উপজেলার চিকসা গ্রামের মৃত জোয়াহের আলীর ছেলে মীর্জা হাছন আলী ও তার দুই ছেলে নোমান মিয়া ও কালা মিয়া।  

সোমবার দুপুরে আসামিদের বিরুদ্ধে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। 

এছাড়াও এই ঘটনায় মীর্জা মশ্রব আলী, নাছির উদ্দিন খান, শায়েস্তা মিয়া ও বাবুল মিয়া নামের ৪ জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালের ২০ আগস্ট রাতে তাহিরপুর উপজেলার চিকসা গ্রামের রনজিৎ পুরাকায়স্থের বড় ছেলে রুবেলকে পড়ার টেবিল থেকে কাজের কথা বলে বাড়ির বাইরে নিয়ে যান প্রতিবেশি মীর্জা হাছন আলীর ছেলে নোমান মিয়া। মধ্যরাতেও ছেলে না আসায় ঘুমিয়ে পড়েন রনজিৎ ও তার স্ত্রী। রাত ২টায় বাইরে চোর চোর চিৎকার শুনে রনজিৎ ও তার স্ত্রী উষা রাণী এগিয়ে গেলে তখন প্রতিবেশী মীর্জা হাছন আলী ও তার দুই পুত্র নোমান মিয়া ও কালা মিয়া চোর অপবাদ দিয়ে ছেলে রুবেলকে খুনের হুমকি প্রদান করে শাসিয়ে যান। পরে রনজিৎ ও স্ত্রী উষারাণী ছেলে রুবেলের রক্তাক্ত দেহ পুকুর পারে পড়ে থাকতে দেখেন। গুরুতর আহত রুবেলকে দারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করে রক্তাক্ত করা হয়। আহত রুবেলকে তাহিরপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

এই ঘটনায় পরদিন চিকসা গ্রামের মৃত জোয়াহের আলীর পুত্র মীর্জা হাছন আলী ও তার দুই ছেলে নোমান মিয়া ও কালা মিয়াসহ ৭ জনকে আসামি করে নিহত রুবেলের পিতা রনজিৎ বাদি হয়ে তাহিরপুর থানায়  মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মীর্জা হাছন আলী ও তার দুই পুত্র নোমান মিয়া ও কালা মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় তাহিরপুর থানা পুলিশ। 

সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে সোমবার দুপুরে তিনজনকে যাবজ্জীবন দণ্ডাদেশ প্রদান করেন আদালতের বিচারক। 

রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন, এডিশনাল পিপি সোহেল আহমদ সইল মিয়া। বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন রবিউল লেইস ও আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী সৈয়দ জামিনুল হক। 

বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম


আপনার মন্তব্য