শিরোনাম
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২০:২২

দলিত জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান বাদশার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

দলিত জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান বাদশার

দলিত সম্প্রদায়ের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ সব নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক সংসদীয় ককাসের আহ্বায়ক ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা। 

তিনি বলেন, একটি শ্রেণিকে পেছনে রেখে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রকৃত সুফল অসম্ভব। তাই দলিত জনগোষ্ঠীর সব ধরনের সাংবিধানিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে।
‘স্থায়ীত্বশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-২০৩০ অর্জনে দলিত ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

সোমবার দুপুরে রাজশাহীর ডাসকো ট্রেনিং সেন্টারে এ সভার আয়োজন করে বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ দলিত ও বি ত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন (বিডিইআরএম)।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, যুগ যুগ ধরে সমাজে দলিতদের প্রতি যে অবহেলা গভীরভাবে প্রোথিত, তাকে উৎখাত করে এ জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় আনতে হলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় অর্থ বরাদ্দ করলেই হবে না, প্রস্তাবিত ‘বৈষম্য বিলোপ আইন’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নসহ দলিতদের জন্য সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তাদের বাসস্থান, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে, দলিত শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ঝরে পড়া রোধ করতে হবে এবং তাদেরকে বিকল্প পেশায় নিয়ে আসতে হবে।

এ সময় সরকারের সব মন্ত্রণালয়, অধিদফতর ও পরিদফতরের পাশাপাশি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানসমূহকেও দলিতদের উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা।

নাগরিক উদ্যোগ’র সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিডিইআরএমের সহ-সভাপতি দিভূতোষ রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী শহর সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাসিনা মমতাজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম ও নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আয়েশা খাতুন, কমিউনিস্ট পার্টির নেতা এনামুল হক, শফিউদ্দীন আহমদে, শাহনাজ পারভীন, হাসিবুল ইসলাম প্রমুখ।

উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে এক কোটিরও বেশি দলিত সম্প্রদায় রয়েছেন। এর মধ্যে ৫৫ লাখেরও বেশি রয়েছে ঋষি সম্প্রদায়। এছাড়া ৩৫ লাখ চা-শ্রমিক ও ১৬ লাখ হরিজন রয়েছে। সমাজের মূল স্রোতধারা থেকে তারা অনেক পিছিয়ে।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য