শিরোনাম
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল, ২০২০ ২০:০৮
প্রিন্ট করুন printer

চলনবিলে বোরো ধান কাটতে আসবে ১৪ হাজার শ্রমিক

নাটোর প্রতিনিধি :

চলনবিলে বোরো ধান কাটতে আসবে ১৪ হাজার শ্রমিক

চলমান করোনাভাইরাস দুর্যোগে কৃষি প্রধান চলনবিল অঞ্চলে বোরো ধান কাটতে কোন শ্রমিক সংকট হবে না। স্থানীয় শ্রমিক ছাড়াও প্রতি বছরের চাহিদা অনুযায়ী এবছরেও নাটোরের সিংড়া উপজেলায় বোরো ধান কাটতে পাবনা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, বগুড়া ও গাইবান্ধাসহ ১৬টি জেলা থেকে প্রায় ১৪ হাজার শ্রমিক আসবেন। এরই মধ্যে এই অঞ্চলে আগাম জাতের বোরো ধান কাটতে বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিকরা এসে ধান কাটা শুরু করেছেন। ধান কাটা মৌসুম শুরু হলে সঠিক সময়ের মধ্যেই শ্রমিকরা এসে প্রতিবছরের মত ধান কেটে কৃষকের ঘরে তুলে দিবেন। এমনটাই তথ্য জানালেন সিংড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস। 

এ বিষয়ে কৃষি অফিসার মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সিংড়া উপজেলায় প্রতি বছর বোরো ধান কাটার এই মৌসুমে স্থানীয় শ্রমিক ছাড়াও চাহিদা অনুযায়ী ১৬টি জেলা থেকে প্রায় ১৪ হাজার শ্রমিক আসেন। এবছর করোনার কারণে যাতে শ্রমিক সংকট না হয় সেজন্য গত ১ সপ্তাহ আগে থেকেইে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট জেলার প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। শ্রমিকদের চলাচলের সমস্যা হবে না। শ্রমিকরা প্রশাসনের সহযোগিতাই ধান কেটে নিরাপদে বাড়ি ফিরবেন। কাজেই সিংড়ার চলনবিল এলাকায় ধান কাটা নিয়ে কোনও শ্রমিক সংকট হবে না আশা করি।

এদিকে জমিতে আধা পাকা ধান রেখে যতই দিন যাচ্ছে ততই শঙ্কা বাড়ছে কৃষকদের। একদিকে করোনার আতঙ্কে শ্রমিক সংকটের শঙ্কা অন্যদিকে ঝড়-বৃষ্টিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কায় নির্ঘুম 
রাত কাটছে তাদের। ইতিমধ্যে এই অঞ্চলে আগাম জাতের কিছু মিনিকেট ধান কাটা শুরু হয়েছে। আর এই আগাম জাতের ধান কাটতে বিভিন্ন জেলা থেকে কিছু শ্রমিক দলও এসেছে। এসব 
কৃষকদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার জানান, প্রতি বছর যে সকল শ্রমিকরা আসেন তারাই এসে ধান কাটছেন।

উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের পূর্বভেংরী গ্রামের কৃষক হাবিব দুলাল বলেন, গত তিনদিন আগে থেকে ধান কাটা শুরু করেছি। আমার বাড়িতে জয়পুরহাট থেকে ৬৫ জন শ্রমিক এসেছেন। তারা প্রতি বছরই আসেন। প্রায় ২০০ বিঘা মিনিকেট ধানের মধ্যে তিন দিনে ৩০ বিঘা কাটা হয়েছে। বাকি ধান কাটতে ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগবে।

চৌগ্রাম ইউনিয়নের হুলহুলিয়া সামাজিক উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরশ তৌফিক বলেন, আমার গ্রামে প্রায় দুইশ’ শ্রমিক এসে ছেন। এরা বেশির ভাগ লালপুর, বাগাতি পাড়া ও রাজশাহীর চারঘাট এলাকা থেকে এসেছেন। করোনাভাইরাস রোধে গ্রামবাসীর সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী বিশেষ ব্যবস্থায় জমির কাছে পুকুর পাড়ে শ্রমিকদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা নিজেরাই রান্না করে খাচ্ছেন। এতে গ্রামের লোকজনের সাথে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে চলতি মৌসুমে উপজেলায় বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৪ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমি। সেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বোরো ধানের চাষ হয়েছে ৩৬ হাজার ৬শ’ ৫০ হেক্টর।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর