শিরোনাম
প্রকাশ : ৩০ জুন, ২০২০ ১৯:১৪

শিশুকে শারীরিক নির্যাতনের মামলায় আসামির জামিন, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

শরীয়তপুর প্রতিনিধি:

শিশুকে শারীরিক নির্যাতনের মামলায় আসামির জামিন, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

শরীয়তপুরের ছয়গাঁও ইউনিয়নের কাজল কোর্ট এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে এক স্কুল পড়ুয়া শিশুকে শারীরিক নির্যাতন করে স্থানীয় রিপন মুন্সী (৪৫) ও তার স্ত্রী শেফালী বেগম (৩৫)। 

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত আসামি রিপন ও তার স্ত্রী শেফালীকে গত (১১ জুন) বৃহস্পতিবার আটক করে পুলিশ। পরে (২২ জুন) সোমবার তারা আদালত থেকে জামিনে বের হোন। 

এদিকে আসামির জামিনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগি পরিবার এবং স্থানীয় এলাকাবাসী। আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ছয়গাঁও ইউনিয়নের নাজিমপুর আনন্দবাজার এ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে দুই শতাধিক লোক অংশগ্রহণ করে। আসামিদের পুনরায় গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয় স্বপন ব্যাপারী, আলমগীর ব্যাপারী ও আজগর ব্যাপারীসহ অনেকেই বলেন, তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর সাথে এমন জঘন্য কাজ করেছে, তার জন্য রিপন মুন্সী ও তার স্ত্রীর ফাঁসি হওয়া উচিৎ। কিন্তু ১০দিন না যেতেই তাদের জামিন হয় কিভাবে? তারা আরও বলেন, রিপন এলাকায় বিভিন্ন খারাপ কাজ করেছে এমন বহু অভিযোগ আছে। নিজের বোন, সৎ মায়ের সাথেও এমন করার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। তাকে আবার গ্রেফতার করা হোক। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক এটাই আমাদের দাবি।

শিশুটির বাবা জানান, রিপন মুন্সী ও তার স্ত্রী আমার সন্তানের সঙ্গে খারাপ কাজ করেছে। খারাপ কাজ করে জামিনে আছে। আমাকে মামলা তোলার জন্য হুমকি দিচ্ছে। তাকে আবার গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি। 

উল্লেখ্য, শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। গত ২৩ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে টিভি দেখার কথা বলে শিশুটিকে ডেকে নেন রিপন ও শেফালী। পরে তাদের ঘরে নিয়ে শিশুটির স্পর্শকাতর স্থানে সুতা বেঁধে নির্যাতন করা হয়। এ সময় শিশুটিকে মেরে ফেলার ভয় দেখান তারা। ফলে কাউকে বিষয়টি জানায়নি শিশুটি। ৮ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিশুটির স্পর্শকাতর স্থানে ব্যথা শুরু হলে বিষয়টি তার বোনকে জানায়। পরে শিশুটিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায় পরিবার। এ ঘটনায় ১০ জুন রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে দুজনকে আসামী করে ভেদরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। 


বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য