শিরোনাম
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২১:০০
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২১:০৬

লবণ ও চিংড়ি চাষিদের ভাগ্য উন্নয়নে আর্টেমিয়া চাষ

কক্সবাজার প্রতিনিধি

লবণ ও চিংড়ি চাষিদের ভাগ্য উন্নয়নে আর্টেমিয়া চাষ

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আর্টেমিয়া চাষ পদ্ধতির গবেষণা শুরু হয়েছে। এই গবেষণার চাষ পদ্ধতি বাস্তবায়ন হলে দেশের লবণ চাষিদের ভাগ্য বদলে যাবে। মাঠে লবণ উৎপাদনের পাশাপাশি আর্টেমিয়া চাষ হলে লবণ চাষিরা একদিকে লবণের মূল্য, অন্যদিকে আর্টেমিয়া তথা চিংড়ি পোনার খাবারের মূল্য পাবে। 

এতে করে একদিকে লবণ চাষিদের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে, অন্যদিকে চিংড়ি খাত থেকে মৎস্যজীবীরা ব্যাপক লাভবান হবে। বিদেশ থেকে আর্টেমিয়া আমদানি করতে হবে না। দেশেরও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি হবে। এসব তথ্য দিয়েছেন আর্টেমিয়া ফর বাংলাদেশ প্রকল্পের টিম লিডার ড. মুহাম্মদ মীজানুর রহমান। 

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আর্থিক সহযোগিতায় ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশ কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘আর্টেমিয়া ফর বাংলাদেশ’ প্রকল্পের অধীনে ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের কলাতলিতে দুই দিনব্যাপী ‘কক্সবাজারের লবণ খামারে আর্টেমিয়া চাষ সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব তথ্য উঠে আসে। 

কর্মশালায় সূচনা বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ডফিশের সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. বিনয় কুমার বর্মন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. খালেকুজ্জামান, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের ডিজিএম মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান এবং সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র, কক্সবাজারের জেষ্ঠ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জাকিয়া হাসান।

পরবর্তী সময়ে উক্ত প্রকল্পের টিম লিডার ড. মুহাম্মদ মীজানুর রহমান আর্টেমিয়া চাষ পদ্ধতি সম্পর্কিত তথ্য তুলে ধরেন। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশে লবণ খামারে আর্টেমিয়া চাষ অনেক সম্ভাবনাময় একটি খাত, যা সম্ভব হলে লবণ চাষীদের তথা বাংলাদেশের মৎস্য সেক্টরে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে আশা করা যায়। 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর চিংড়ি হ্যাচারিতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে যে ৪০ মেট্রিক টন আর্টেমিয়া আমদানি করা হয়, কক্সবাজার জেলার লবণ খামারে আর্টেমিয়া চাষ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ হলে বাংলাদেশে আর্টেমিয়া আমদানি নির্ভরতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি আয় বৃদ্ধির নতুন দ্বার উন্মোচন হবে।

উক্ত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অনলাইন ভিডিও কলের মাধ্যমে বেলজিয়ামের ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. প্যাট্রিক সরগিলস্ প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। 

তিনি বলেন, আর্টেমিয়া হলো এমন এক ধরনের জলজ ক্ষুদ্র জীব যা অধিক ঘনত্বের লবণ পানিতে চাষ করা হয় এবং সারা বিশ্বের এটি মাছ ও চিংড়ির জীবনচক্রের প্রাথমিক ধাপে খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তিনি তার মূল বক্তব্যে আর্টেমিয়ার জীবনচক্র, চাষের সম্ভাবনা, বিভিন্ন দেশে-এর বর্তমান চাষ পদ্ধতি ও কক্সবাজারে বাণিজ্যিকভাবে চাষের ক্ষেত্রে আর্টেমিয়া চাষ পদ্ধতির সকল ধাপসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা করেন।

ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্রিস্টোফার প্রাইস প্রশিক্ষণ কর্মশালা বলেন, এশিয়ার অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশে আর্টেমিয়া চাষ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে লবণ চাষিদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন করা অতীব জরুরি। 

তিনি আরও বলেন, ‘আর্টেমিয়া ফর বাংলাদেশ’ প্রকল্প সফল হলে কক্সবাজারের লবণ চাষিদের আর্থসামাজিক অবস্থা তথা উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মাছ চাষের অধিকতর উন্নয়ন সম্ভবপর হবে।

উক্ত কর্মশালায় কক্সবাজার জেলার মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন ও সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ, গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা এবং ‘আরটেমিয়া ফর বাংলাদেশ’ প্রকল্পের সকল গবেষকরা অংশগ্রহণ করেন এবং প্রশিক্ষণ কর্মশালার শেষে সকলেই ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশকে সময় উপযোগী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ প্রদান করেন।

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর