শিরোনাম
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর, ২০২০ ১৭:০২

লাগামহীন রাঙামাটির সবজি বাজার

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি

লাগামহীন রাঙামাটির সবজি বাজার

লাগামহীন রাঙামাটি সবজির বাজার। দফায় দফায় বাড়ছে নিত্য পণ্যের দামও। কোন সবজি ৮০ টাকার নিচে মিলছে না রয়েছে এমন অভিযোগও। এরপরও বাজার নিয়ন্ত্রণে নেই প্রশাসনের কোন তৎপরতা। বিপাকে মধ্য ও নিম্নআয়ের মানুষগুলো।

রাঙামাটির বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, করলা ১০০ টাকা, পিয়াজ ৯০ টাকা, বেগুন ৯০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, পটল ১২০ টাকা, পাহাড়ি ছোট কাঁচা মরিচের দাম কেজি ২০০ টাকা। আর দেশীয় কাঁচামরিচের দাম কেজি ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ী মো. করিম আলী বলেন, বৃষ্টিপাতের কারণে কাঁচা তরিতরকারি নিয়ে কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে। তাছাড়া করোনার কারণে স্থানীয়ভাবে সবজি উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ফলে বেশিরভাগ সবজি আনতে হচ্ছে চট্টগ্রাম ও রানিরহাট থেকে। তাই পাইকারি বাজারে সবজির দাম না কমলে খুচরা বাজারেও কমবে না। 

শুধু বৃষ্টিপাত নয়, সবজি সংকটের কারণে সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না বলে জানালেন আর ব্যবসায়ী মো. কাদের।

অন্যদিকে সবজির দাম বৃদ্ধি থাকার ফলে ক্রেতাদের সাথে বিপাকে পড়েছে বিক্রেতারাও। স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ী মো. লাল মিয়া বলেন, দাম বেশি তাই চাহিদা কম সবজির। মানুষ তেমন বাজারে আসছে না। একদিকে করোনায় ব্যাপক সংকট তৈরি করেছে, অন্যদিকে বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। তাই ক্রেতা-বিক্রতা উভয়ে সংকটে রয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে সবজি না আসলে স্থানীয় সবজি দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

তবে স্থানীয়রা বলছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ করা না হলে একটি সিন্ডিকেট গ্রুপ ফায়দা লুটে যাবে, হয়রানির শিকার হবে সাধারণ মানুষ।

এ ব্যাপারে রাঙামাটি বনরূপা বাজারে কথা হয় ক্রেতা পিয়ার আহমেদের সাথে। তিনি বলেন, কোন সবজি ৮০ টাকার নিচে নেই। গরিবের খাবার আলু তার দামও আকাশছোঁয়া। মানুষ কী খেয়ে বাঁচবে। মধ্য ও নিম্ন আযের মানুষগুলো আজ বেশি কষ্ট পাচ্ছে। বাজারে প্রশাসনের নজড়দাড়ি বাড়ানো উচিত।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) মো. আরিফ বলেন, স্থানীয় কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। বাজারের প্রতিটি দোকানে দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে কেউ দাম বেশি নিয়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করা হবে। 

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর