শিরোনাম
প্রকাশ : ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২০:১৯
প্রিন্ট করুন printer

কুড়িগ্রামে মাছ ব্যবসায়ীকে পেটালেন ছাত্রলীগ নেতা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামে মাছ ব্যবসায়ীকে পেটালেন 
ছাত্রলীগ নেতা

কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে স্থানীয় একটি হাটে মাছের দাম কম না রাখায় মাছ ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে রাজিবপুর থানায় কোন অভিযোগ কিংবা মামলা করতে সাহস পাননি ভুক্তভোগী ওই মাছ ব্যবসায়ী। তবে স্থানীয় নেতা ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতিসহ সকলেই মীমাংসা করার উদ্যোগ নিলেও শুক্রবার পর্যন্ত কোন সুরাহা হয়নি। 

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার নামাবাজার হাটে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তারেকের বড় ভাই আরিফ হোসেন মাছ বিক্রেতা মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে দুইটি পাঙ্গাশ মাছ কিনতে দর কষাকষি করেন। পরে ১১০ টাকা কেজিতে দুইটি পাঙ্গাস ৩ কেজি ১শ গ্রাম ওজন হলে তিনি বিক্রেতাকে ১শ গ্রাম ওজন বাদ দিয়ে দাম নিতে বলেন।

এ সময় বিক্রেতা তার লস হবে বলে দিতে অস্বীকার করেন। এ সময় দুজনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। তে ক্ষিপ্ত হয়ে আরিফ দোকানির ওপর মাছ ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে টাকা ফেরত চান। পরে মাছ না নিয়ে মাছ ব্যবসায়ীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তার ছোটভাই ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান তারেককে মোবাইলে ডেকে আনেন। সেখানকার মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, কিছুক্ষণের মধ্যেই মেহেদী হাসান এসে মাছ বিক্রেতার ওপর চড়াও হয়ে তাকে উপর্যুপুরি মারধর করেন।

এ অবস্থায় ওই মাছ ব্যবসায়ী আহত হলে অন্য ব্যবসায়ীগণ তাকে উদ্ধার করেন। উপজেলা মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল জলিল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দাম কম না নেওয়ার কারণে এভাবে একজন ব্যবসায়ীকে মারপিট করে তার ক্যাশ বাক্সের টাকা নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আমরা সবাই আতঙ্কিত। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। তবে উপযুক্ত বিচার না পেলে বাজারে মাছ বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন তিনি।

রাজিবপুর উপজেলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিউর রহমান বলেন, আমি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবহিত করেছি। তিনি মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এ ব্যাপারে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, আমার সাথে তার তেমন কিছুই হয়নি। ওই মাছ ব্যবসায়ী আমার ভাইয়ের ব্যাগ থেকে মাছ বের করে নিয়েছে। ক্রেতার সাথে কোন ব্যবসায়ী এমন করা উচিত নয়। তবে গায়ে হাত দিইনি। আমি সেখানে গিয়ে তাকে মারতে উদ্যত হয়েছিলাম।

রাজিবপুর থানার ওসি নবিউল হাসান জানান, মাছ বিক্রেতাকে মারপিট করার বিষয়ে শুনেছি কিন্তু কোন অভিযোগ পাইনি নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিডি প্রতিদিন/আল আমীন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর