শিরোনাম
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৮:৫১
আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২১:০৬
প্রিন্ট করুন printer

নিঃসন্তান হওয়ায় দুই বাচ্চাকে চুরি করেন এই নারী

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

নিঃসন্তান হওয়ায় দুই বাচ্চাকে চুরি করেন এই নারী

নিঃসন্তান হওয়ায় প্রথমে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা সদর হাসপাতাল থেকে ২৩ দিনের বাচ্চাকে চুরি করা হয়। কিন্তু বাচ্চাটি অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ায় ফের সাকাওয়াত মেমোরিয়াল হাসপাতাল থেকে নবজাতক আরেকটি বাচ্চা চুরি করেন আল্পনা খাতুন নামে এক নারী। রবিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামের মৃত সোলায়মানের মেয়ে আল্পনা খাতুনের সাতবছর আগে বিয়ে হয়। কিন্তু দাম্পত্য জীবনে সন্তান না হওয়ায় পারিবারিক কলহ শুরু হয়। এজন্য আল্পনা বাচ্চা চুরির পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মাফিক নিজেকে গর্ভবতী পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে আসা-যাওয়া শুরু করে।

একপর্যায়ে হাসপাতালের এক স্টাফের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। ওই স্টাফের সাথে মোবাইলে কথা বলতে থাকে। ওই স্টাফ শর্ত সাপেক্ষে হাসপাতাল থেকে শিশু চুরি করতে সহায়তা করার আশ্বাস দেন। পরিকল্পনা মাফিক ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে আল্পনা খাতুন উল্লাপাড়া উপজেলার বাদালিয়াকান্দি থেকে চিকিৎসা নিতে আসা শিশু বাচ্চা মাহিমের মা মঞ্জুয়ারার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন। মাহিমের মা আল্পনাকে ভরসা করে তার কাছে বাচ্চা রেখে বাইরে গেলে সে বাচ্চাকে নিয়ে পালিয়ে বাবার বাড়ি আলোকদিয়ায় চলে যায় এবং বাচ্চাটি তার বলে মা, ভাইবোন ও প্রতিবেশীর কাছে প্রচারণা চালায়।

তিনি বলেন, ২৪ তারিখ শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক শরিফুলকে দিয়ে ইনজেকশন দেয়। ২৭ তারিখে শিশুটির অবস্থা খারাপ হয়ে মারা যাওয়ায় বাচ্চাটিকে ঘরের ধানের গোলায় লুকিয়ে রাখে। এরপর সে আবারো বোরকা পরে আরেকটি বাচ্চা চুরি করার জন্য সলঙ্গার হাটিকুমরুলের সাকাওয়াত এইচ হাসপাতালে যায়। সেখানে তাড়াশ উপজেলার মাজেম ও সমিতা দম্পতির সদ্য নবজাতক সামিউলের নানীর সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে এবং শিশুটিকে কোলে নিতে চাইলে নানী সরল মনে তার কোলে দেয়। এর কিছুক্ষণ পর নার্স তাকে ডাকছে বলে নানীকে কেবিনের ভেতরে পাঠিয়ে দিয়ে শিশুকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে ভ্যানযোগে আলোকদিয়া যায়।

পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম আরও বলেন, ঘটনার পর পুলিশ, র‌্যাব ও পিবিআই তাৎক্ষণিক মাঠে নামে। একপর্যায়ে সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে ভ্যান চালককে শনাক্ত করা হয়। ভ্যান চালকের দেওয়া তথ্য মতে, আলোকিয়ায় আল্পনার বাবার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শিশু বাচ্চা সামিউলকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সদর হাসপাতাল থেকে বাচ্চা চুরির কথাও আল্পনা খাতুন স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যে, ওই বাড়ির ধানের গোলা থেকে আরেক বাচ্চা ফাহিমকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং আল্পনা, তার মা ছায়রন, ভাই রবিউল ইসলাম, স্ত্রী মায়া খাতুন, চাচি মিনা খাতুন ও চিকিৎসক শরিফুলকে আটক করা হয়।

তিনি আরও জানান, আল্পনা খাতুনকে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের আটকে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় সলঙ্গা ও সদর থানায় দুটি মামলা হয়েছে। সলঙ্গা থানার মামলায় পাঁচজনকে আটক দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আর সদর থানার মৃত শিশু ফাহিমের বাবার মামলায় চিকিৎসককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও ফাহিমের বাবার দায়ের করা সদর থানার হত্যা মামলায় ওই পাঁচজনকে গ্রেফতার দেখানো হবে।

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর