শিরোনাম
প্রকাশ : ১৯ মে, ২০২১ ১৫:০৫
প্রিন্ট করুন printer

কৃষকের আশীর্বাদ ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র

রিয়াজুল ইসলাম, দিনাজপুর

কৃষকের আশীর্বাদ ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র
Google News

সোনালী অর্থকরী দানাদার শস্য ভুট্টা বাংলাদেশের কৃষকের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মূলে রয়েছে ভুট্টা মাড়াই যন্ত্রের অবদান। স্বল্প সময়ে, স্বল্প সেঁচে, স্বল্প ব্যয়ে মাড়াই যন্ত্র দিয়ে কৃষক ভুট্টার চাষ সম্প্রসারণ করতে সক্ষম হয়েছে। 

এই ভুট্টা মাড়াই যন্ত্রের ব্যাপক প্রয়োগ ও ব্যবহারে শত শত ওয়ার্কশপ, ম্যানুফেকচার ও ভুট্টা মাড়াই ড্রাইভার, অপারেটর তৈরীতে কর্মসংস্থানও বেড়েছে। বর্তমানে দেশে ভুট্টার চাহিদা ৬৫ লক্ষ মেট্রিক টন। গত বছর উৎপাদন হয়েছে ৫৪ লক্ষ মেট্রিক টন। এবছর ৬০ লক্ষ মেট্রিক টন ভুট্টা উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। 

১৯৮০ সালে ভুট্টার ফলন সন্তোষজনক হলেও মাড়াই যন্ত্র না থাকায় ভুট্টার মাড়াই বিড়ম্বনায় পড়ে সেই সময়ের উৎসাহী কৃষকরা। ওই সময় ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র না থাকায় ভুট্টা চাষে আগ্রহী চাষীরা পুরুষ ও নারী শ্রমিকদের দিন হাজিরার ভিত্তিতে হাত দিয়ে একটি করে ভুট্টা ছিলে ছিলে ভাঙ্গানো হতো। এতে হাতের আঙ্গুলে ফোসকা পড়ে ব্যথা হতো। অন্যদিকে কৃষকের অতিরিক্ত শ্রম ও অর্থ ব্যয় হতো।

এছাড়াও ভুট্টার গুণগত মান ধীরে ধীরে ভাঙ্গার কারণে ভুট্টার সোনালী রং বিনষ্ট হতো। এই সুযোগ নিয়ে স্থানীয় পাইকার ও ফড়েয়া ব্যাবসায়ীরা অল্প দামে ভুট্টা ক্রয় করত। ফলে লোকসানে পড়তো কৃষকরা এবং লাভবান হতো ব্যাবসায়ীরা। 

কিন্তু বর্তমানে ভূট্টা মাড়াই যন্ত্র উদ্ভাবন এবং এর সাহায্যে ভাঙানোর কারণে কৃষক যেমন লাভবান হচ্ছেন তেমনি এর চাষের প্রতি আরও ঝুকছেন তারা। বর্তমানে কয়েক হাজার বেকার যুবক এই মেশিনটি দিয়ে ভাড়া খাটিয়ে আয় রোজগার করছে।

বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (দিনাজপুর) সুত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশের প্রায় ৩০০ ওয়ার্কশপে মাঝারী ও বড় আকারের ২০ হাজার হতে ২৫ হাজার ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র তৈরী করে কৃষকের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ও ভুট্টা আবাদ সম্প্রসারণে এই ভুট্টা মাড়াই যন্ত্রটি অনন্য অবদান রাখছে। 

স্বল্প সময়ে, স্বল্প সেঁচে, স্বল্প ব্যয়ে মাড়াই যন্ত্র দিয়ে ভুট্টা আবাদ করে কৃষক ভুট্টার চাষ দিন দিন সম্প্রসারণ হচ্ছে। এই ভুট্টা মাড়াই যন্ত্রের ব্যাপক প্রয়োগ ও ব্যবহারে শত শত ওয়ার্কশপ, ম্যানুফেকচার ও ভুট্টা মাড়াই ড্রাইভার ও অপারেটর তৈরী হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশর নাগরিকদের জীবিকার মান উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থানও তৈরী হচ্ছে। 

ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র উদ্ভাবন সম্পর্কে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (দিনাজপুর) মহাপরিচালক ড. মো. এছরাইল হোসেন বলেন, '১৯৯২ সালের কৃষি প্রকৌশল বিভাগ, বারি, গাজীপুরে কনিষ্ঠ বিজ্ঞানী হিসেবে তার জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল এই ভুট্টা মাড়াই যন্ত্রটি উদ্ভাবনের। তখন বারির ফার্ম মেশিনারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কৃষি প্রকৌশলী মরহুম মো. আব্দুল্লাহর উৎসাহে ভুট্টা মাড়াই মেশিনটি গাজীপুর ওয়ার্কশপে প্রথম তৈরি করা হয়। এই মেশিনটি সত্যিই ভুট্টা চাষীদের জন্য আশীর্বাদ স্বরুপ।'

বর্তমানে কয়েক হাজার বেকার যুবক এই মেশিনটি দিয়ে ভাড়া খাটিয়ে আয় রোজগার করছেন। ভুট্টা চাষে ও মাড়াইয়ে নারী শ্রমিকদের চাহিদা বাড়ছে। গ্রামীণ যান্ত্রিকীকরণে মেশিনটির দ্বারা ভুট্টা চাষী, চালক, মেশিন প্রস্তুকারক, মেকানিকসহ অনেকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। এ বছরেই দেশে ধান ও আলুর মত ভুট্টা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে।  

উল্লেখ্য, বর্তমানে ৫০ শতক জমিতে দেশী ও বিদেশী জাতের ভুট্টার ফলন হয়ে থাকে ৮০ হতে ১১০ মণ পর্যন্ত। বৃহত্তর দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চলে ভুট্টা চাষীগণ কৃষিপ্রযুক্তি, দক্ষ ব্যাবস্থাপনা, আধুনিক কলাকৌশল প্রয়োগ করে ভুট্টা চাষ করে অধিক মুনাফা অর্জন করছে। 

বর্তমানে এক বস্তা (৮২ কেজি) কাঁচা ভুট্টার দাম ১১০০ হতে ১২০০ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে। ভুট্টা এখন উত্তরাঞ্চল পেরিয়ে দক্ষিণাঞ্চলসহ সারাদেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশের ভুট্টা বাংলাবান্ধা, হিলি চেকপোস্ট, বেনাপল ও বুড়িমারি চেকপোস্ট দিয়ে নেপাল ভুট্টান ও ভারতের রফতানি হচ্ছে। 

 

বিডি প্রতিদিন / অন্তরা কবির 

এই বিভাগের আরও খবর