শিরোনাম
৩ জুলাই, ২০২১ ২২:০৮

বসেছে ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট, তবে...

মো. নাসির উদ্দিন, টাঙ্গাইল

বসেছে ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট, তবে...

গত কয়েক দিনে যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার গয়হাটায় শত বছরের পুরানো ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাটে আসতে শুরু করেছে বিভিন্ন আকৃতির নৌকা

যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি গত কয়েক দিনে বৃদ্ধি পাওয়ায় টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার গয়হাটায় শত বছরের পুরানো ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাটে আসতে শুরু করেছে বিভিন্ন আকৃতির নৌকা। তবে লকডাউনের কারণে এ বছর এখনো হাটে লোকজনের আনাগোনা কম। আর এজন্য এখনও তেমন বাড়েনি নৌকা বিক্রি।

নাগরপুর উপজেলার একপাশ দিয়ে যমুনা অন্যপাশ দিয়ে যমুনার শাখা নদী ধলেশ্বরীসহ বয়ে গেছে ছোট-বড় বেশ কয়েকটি নদী। আর এ কারণে বর্ষার শুরু থেকেই নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর একমাত্র ভরসার যান নৌকা। পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার চোহালী, মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন চরাঞ্চল হওয়ায় এসব নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষ সাধ্যের মধ্যে নৌকা কিনতে এ হাটে ছুটে আসছে। আর এসব নিম্নাঞ্চলের মানুষের মালামাল পরিবহন ও যাতায়াতের একমাত্র বাহন হয়ে উঠেছে নৌকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহামারি করোনার জন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠে চলছে নৌকার হাট। নাগরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এই হাট শুধু নামেই বিখ্যাত নয়। এখানে সাধ্যের মধ্যে রয়েছে নানা ধরনের নৌকা। নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা আগাম প্রস্তুতি হিসেবে নৌকা কিনতে হাটে আসতে শুরু করেছেন।  তবে করোনার কারণে আগের মতো জমেনি হাট।
 
নৌকার কাঠামো তৈরিতে মেহগনি, কড়ই, আমচাম্বল ও রেন্ডি কাঠের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। প্রতিটি নৌকার মান ও আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে। একেকটি নৌকা ৪ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তবে এ বছর নৌকার দাম নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে ক্রেতাদের মধ্যে।

দৌলতপুর উপজেলার শিমুল মিয়া বলেন, বর্ষার সময় নৌকা ছাড়া আমাগো চলাফেরা করার কোনো উপায় নেই। আর সেজন্যই প্রতি এক বা  দুই বছর পরপর এ হাট থেকে নৌকা কিনি। তবে এ বছর এখনো পুরোদমে নৌকার বেচাকেনা শুরু না হওয়ায় পাইকাররা তাদের ইচ্ছামতো নৌকার দাম চাচ্ছেন। আর বাধ্য হয়েই বেশি দাম দিয়ে নৌকা কিনতে হলো।
  
নৌকার কারিগর কালিপদ বলেন, লকডাউনের জন্য সব জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ার এ বছর কিছুটা খরচ বেশি হচ্ছে নৌকা তৈরি করতে। আর সে অনুযায়ী নৌকার দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় একটু বেশি। নৌকার দর একটু বেশি হওয়ায় হাটে নৌকার বেচাকেনা কম হচ্ছে। 

এ বিষয়ে গয়হাটা হাটের ইজারাদার খায়রুল ইসলাম বলেন, এই নৌকার হাটটি আমাদের উপজেলার ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে। আমার জন্মের পর থেকে দেখে আসছি এই নৌকার হাটটি। আর তিন পুরুষের কাছে গল্প শুনেছি এই হাটের ইতিহাস ঐতিহ্যের কথা। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে হাটের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমি চাই, এই নৌকার হাটের সেই হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্য যেন ফিরে আসে। আমাদের এই গয়হাটার নৌকার হাটের সুনাম রয়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এ হাটে নৌকা কিনতে আসে বিভিন্ন মানুষ। 

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ

এই বিভাগের আরও খবর