২ আগস্ট, ২০২১ ২২:৪২

শরণখোলায় পানিবন্দি গ্রামবাসীরা কেটে দিল পাউবো'র বাঁধ

বাগেরহাট প্রতিনিধি

শরণখোলায় পানিবন্দি গ্রামবাসীরা কেটে দিল পাউবো'র বাঁধ

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি থাকা ক্ষুব্দ গ্রামবাসী কেটে দিল পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ। গত ২৭ জুলাই থেকে পানিবন্দি থাকার পর সোমবার (২ আগস্ট) ভোরে উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের রাজাপুর বটতলা পয়েন্টে বাঁধ কেটে পানি নিষ্কাশন শুরু করেন তারা। এদিকে, একইদিন সকালে রায়েন্দা ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজাপুর এবং খোন্তাকাটা ইউনিয়নের রাজৈর গ্রামের কালিয়ার খালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ কাটতে গেলে পুলিশ গিয়ে তা বন্ধ করে দেয়।

এলাকাবাসী জানান, গত ২৭ জুলাই থেকে তিনদিনে প্রায় ৭০০ মিলিমিটার বৃষ্টিতে পানিবন্দি হয়ে পরে উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মাণাধীন ৩৫/১ পোল্ডারের বেড়িবাঁধে পর্যাপ্ত স্নুইসগেট নির্মান না করে অপরিকল্পিত ভাবে ছোট করে অল্প সংখক স্নুইসগেট নির্মানের কারণে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে কৃষি খামার রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন বাড়িঘরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে ৭০ হাজার মানুষ এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এক সপ্তাহের মধ্যে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে বাঁধ কেটে দেয়। 

এ ব্যাপারে ধানসাগর ইউপি চেয়ারম্যান মাইনুল ইসলাম টিপু বলেন, রাতের আধারে কারা বাঁধ কেটেছে তা আমার জানা নেই। তবে পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষের রান্নাবান্না বন্ধ এবং ঘর থেকে বের হতে না পেরে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। 

রায়েন্দা ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, পানি ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারিভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ কষ্ট সহ্য করতে না পেরে হয়তো বাঁধ কেটেছে।

উপকূল রক্ষা বেড়ি বাঁধ প্রকল্পের সিইসি সাইফুল ইসলাম বলেন, বাঁধ নির্মান প্রকল্পের টিম লিডার হেরির নের্তৃত্বে সোমবার ৫ সদস্যের একটি টিম সরেজমিন ঘুরে পাইপ স্থাপন করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাতুনে জান্নাত বলেন, পানিবন্দি মানুষ অতিষ্ট হয়ে বাঁধ কেটেছে। গনহারে বাঁধ কাটার উদ্যোগ নিলে আমি তাদের বুঝিয়ে তা বন্ধ করেছি। মঙ্গলবার (৩ আগষ্ট) থেকে পাইপ স্থাপনের মাধ্যমে দ্রুত পানি নিষ্কাশন শুরু করা হবে। এছাড়া স্থায়ী সমাধানের জন্য পর্যাপ্ত স্নুইসগেট নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ আল সিফাত

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর