৪ আগস্ট, ২০২১ ১১:৪৮

সুদিন ফেরার আশায় রাজবাড়ীর পাট চাষিরা

দেবাশীষ বিশ্বাস, রাজবাড়ী

সুদিন ফেরার আশায় রাজবাড়ীর পাট চাষিরা

পাট কাটার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজবাড়ীর পাট চাষিরা

দেশের ‘সোনালী আঁশ’ খ্যাত পাট তার অতীত ঐতিহ্য হারিয়েছে বেশ আগেই। সময়ের বিবর্তনে পাটের কদর কমেছে অনেক। পাটের সেই সোনালী অতীত কেবলই ইতিহাস। এদেশের বড় বড় পাটকল বন্ধের খবর পৌঁছে গিয়েছে রাজবাড়ীর কৃষকের কাছে। তবুও সুদিন ফেরার আশায় রাজবাড়ীতে গত বছরের চেয়ে বেশি পাটের আবাদ করেছে এ জেলার কৃষকরা।

আশা-নিরাশার দোলাচলে প্রতিবছর লাভ-ক্ষতির হিসাব না করেই পাটচাষ করেন জেলায় কয়েক লাখ কৃষক। তবে কঠোর বিধি-নিষেধের মধ্যে পাট চাষ করে বেশ বিপাকের মধ্যে রয়েছেন এ জেলার কৃষকেরা। শুরু থেকে উৎপাদন খরচ বেশি ও পাটগাছ থেকে আঁশ এড়ানোর শ্রমিক সংকটের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়াতে হতাশ তারা।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জেলার ৫ উপজেলায় এ বছর ৪৮ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এ বছর জেলার সদর উপজেলায় ১০ হাজার ১৪০ হেক্টর, পাংশায় ১১ হাজার ৭০০ হেক্টর, কালুখালীতে ৯ হাজার ৩৫০ হেক্টর, বালিয়াকান্দিতে ১২ হাজার ৫৫০ হেক্টর, গোয়ালন্দতে ৪ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়। গত বছর এ জেলায় পাটের আবাদ হয়েছিল ৪৬ হাজার ৪৮৫ হাজার হেক্টর জমিতে।

সরেজমিনে মাঠগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকদের আবাদকৃত জমির বেশিরভাগ জমির পাট কাটা শেষের দিকে। পাট কেটে খাল-বিল-নদীর পানিতে পাট জাগ (পচাতে) ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে ‘রিবন রেটিং’ পদ্ধতির প্রচলন না হওয়ার কারণে একমাত্র ভরসা পানিতে পাট পঁচিয়ে সেখান থেকে আঁশ বিচ্ছিন্ন করা। জেলার প্রায় ৫০ শতাংশ পাট শুকিয়ে ঘরে তুলেছেন কৃষকেরা। তবে গত কয়েকদিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে পাট শুকানো বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের কৃষক আলম মিয়া বলেন, আমারা লাভ-ক্ষতির হিসাব করি শুধুমাত্র দামের সময়। তবে এ বছর পাটের আবাদের সময় বৃষ্টির দেখা মেলেনি। সে কারণে বেশ কয়েক বার সেচ দিতে হয়েছে। যে কারণে প্রথমদিকে খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে পাট কাটার সময় শ্রমিক সংকট রয়েছে। বেশি দাম দিয়ে শ্রমিক ক্রয় করাতে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হয়েছে। সেই তুলনায় বাঁজার মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না।

সদর উপজেলা মূলঘর ইউনিয়নের কৃষক মোস্তফা কামাল বলেন, আমাদের এদিকে ২২ শতাংশ জমিতে (এক পাখি) হিসাব করা হয়। এক পাখি জমিতে পাটের উৎপাদন ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার টাকার মতো। এই পরিমাণ জমিতে সর্বোচ্চ ৬ মণ পাট হয়েছে। প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে।

তিনি বলেন, সুদিন ফেরার আশা নিয়ে আমরা পাট চাষ করলেও আমরা লাভের মুখ থেকে বঞ্চিত হই। পাট পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি পেলে দাম বৃদ্ধি পাবে। তবে সুদিন ফিরবে পাট চাষিদের।
 
রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক এসএম শহীদ নূর আকবর বলেন, রাজবাড়ীতে ব্যাপক পাটের আবাদ হয়। গত বছরের তুলনায় এ বছর রাজবাড়ীতে ১ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ বেশি হয়েছে। করোনাকালে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে।  গতবারের তুলনায় পাটের বাজর কম নয়। তবে এ বছর উৎপাদন খরচ বেশি হয়েছে। কিছুদিন পর পাটের দাম আরও বৃদ্ধি পেলে কৃষকেরা বেশি লাভবান হবেন।

বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর

এই রকম আরও টপিক

এই বিভাগের আরও খবর