শিরোনাম
৩ জুলাই, ২০২২ ১৯:৫৯

দেবিদ্বারের বরকামতায় এমপি-উপজেলা চেয়ারম্যান মুখোমুখি, অবরোধ-বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক

দেবিদ্বারের বরকামতায় এমপি-উপজেলা চেয়ারম্যান মুখোমুখি, অবরোধ-বিক্ষোভ

কুমিল্লার দেবিদ্বারে বরকামতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে কাউন্সিল অধিবেশনে কমিটি ঘোষণা নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়াল স্থানীয় এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুল ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সমর্থিত আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপ। এ নিয়ে তুলকালাম পরিস্থিতিতে স্থানীয় এমপিসহ জেলার নেতারা প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকেন। পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে কমিটি ঘোষণা করা হয় ।

স্থানীয় এমপিকে অবরুদ্ধ করার সময় নেতাকর্মীরা দেবীদ্বার চান্দিনা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পরে বিষয়টি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে অবহিত করা হলে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে রাত সাড়ে ১০টায় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। পরে অবরোধকারীরা রাস্তা ছেড়ে দেন।

শনিবার উপজেলার নবিয়াবাদ কুমিল্লা মডেল কলেজ মাঠে আয়োজিত দেবীদ্বার উপজেলার বরকামতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় বিক্ষোভকারীরা ‘দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’ বলে শ্লোগান দিতে থাকে। তবে এসময় এমপি রাজীর গ্রুপের নেতৃবৃন্দকে নিরব ভূমিকায় দেখা গেছে।

বিক্ষোভ চলাকালে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাস্টার আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি ও মাহববুল আলম হানিফ এমপি’র সাথে মুঠোফোনে কথা বলেন এবং তাদের হস্তক্ষেপে সভাপতি পদে মো. শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক পদে মো. রুকুনুজ্জামানের নাম ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ কুমিল্লা (উ.) জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সম্মেলনে প্রার্থীদের মধ্যে সমোঝোতা না হওয়ায় কাউন্সিলররা ভোট চেয়েছিল। তখন এমপি সাহেব জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের বলেন- ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে কমিটি ঘোষণা করবেন। অতঃপর নেতৃবৃন্দ রুদ্ধদ্বারকক্ষে সভাপতি পদে শাহ আলম এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রুকুনুজ্জামানকে মনোনীত করেন। তারপর কমিটি ঘোষণা না দিয়ে এমপি চলে যেতে চাইলে নেতাকর্মীরা পথ অবরোধ করে। সবশেষে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কমিটি ঘোষণা করেন।

কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাস্টার বলেন, ‘সর্বশেষ নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্তটি এমপি সাহেবের মাধ্যমে ঘোষণা দিতে বললে এমপি সাহেব এখানে ঘোষণা না দিয়ে দু’দিন পর ঘোষণা দিতে বলেন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কমিটি ঘোষণার দাবিতে এমপি সাহেবের গাড়ি অবরোধ করে রাখলে আমি মীমাংসার চেষ্টা করি। এমপি সাহেবের গাড়িতে নেতাকর্মীরা লাথি মারার ঘটনায় এখানে ঘোষণা দিতে রাজী হননি এমপি রাজী।’

বিডি-প্রতিদিন/শফিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর