৩০ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৯:২৫

বিজয়ের মাসে বসুন্ধরার ঘর পেলেন মুক্তিযোদ্ধা বিজয় দাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিজয়ের মাসে বসুন্ধরার ঘর পেলেন মুক্তিযোদ্ধা বিজয় দাস

বিজয়ের মাসে বসুন্ধরার ঘর পেলেন মুক্তিযোদ্ধা বিজয় দাস

শীতের রাতে পুরনো কাপড় বা পলিথিনের জোড়াতালির বেড়া দিয়ে ঘরে আর ঢুকবে না হিমেল হাওয়া। অথবা বৃষ্টির দিনে চালের ফুটো দিয়ে বিছানায় গড়িয়ে পড়বে না পানি। শীত কিংবা গ্রীষ্ম-বর্ষা যে ঋতুই হোক, এখন থেকে প্রতিদিন নিজ ঘরে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন গাজীপুর সদর উপজেলার বারিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা বিজয় দাস।

দরিদ্র বিজয় দাসের ঘর তৈরির সামর্থ্য না থাকায় ভাঙা ঘরে চরম কষ্টে স্ত্রী গীতা রানী দাসকে নিয়ে দিনযাপন করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেয়ে এগিয়ে আসেন কালের কণ্ঠ শুভসংঘের সদস্যরা। পরে বিজয় দাসের দুই কাঠা জমিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় কালের কণ্ঠ শুভসংঘ দুই কক্ষের একটি পাকা ঘর তৈরির উদ্যোগ নেয়।

শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের পরিচালক ও দৈনিক কালের কণ্ঠ'র প্রধান সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন বীর মুক্তিযোদ্ধা বিজয় দাস ও তাঁর স্ত্রী গীতা রানী দাসের হাতে নবনির্মিত ঘরের চাবি তুলে দেন।

এ সময় কালের কণ্ঠ'র উপসম্পাদক হায়দার আলী, গাজীপুর শুভসংঘের প্রধান উপদেষ্টা সমাজসেবক মো. আক্রাম হোসেন, শুভসংঘের কেন্দ্রীয় পরিচালক মো. জাকারিয়া জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় কালের কণ্ঠ'র প্রধান সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘বিজয় দাসের মতো বীর মুক্তিযোদ্ধারাই অসীম সাহস ও বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করে স্বাধীন করেছেন। তাদের ঋণ শোধ করার মতো নয়। বিজয়ের মাসে তার জন্য ঘর তৈরি করে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। বিজয় দাসের মতো অসহায় আরো মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়াতে চায় বসুন্ধরা গ্রুপ। ’

তিনি আরো বলেন, "বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অসহায় মানুষজনের পাশে দাঁড়াতে, তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে ‘শুভ কাজে সবার পাশে’ - এ স্লোগানে কাজ করে যাচ্ছে শুভসংঘ। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় দেশের অসহায় মানুষের কল্যাণে শুভসংঘ এই কাজ করে চলছে। "

কালের কণ্ঠ'র উপসম্পাদক হায়দার আলী বলেন, ‘সরকারের পাশাপাশি বসুন্ধরা গ্রুপ দরিদ্র, এতিম, বিধবা ও পিছিয়ে পড়া নারীদের আত্মকর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। বিজয় দাসের মতো অসহায় মুক্তিযোদ্ধার ঘর করে দেওয়ার কাজটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত প্রশংসনীয়।’

পাকা ঘর পেয়ে খুশিতে আত্মহারা বিজয় দাস বলেন, ‘বিৃষ্টিতে ভিজেছি, শীতে কষ্ট করেছি। সামর্থ্য না থাকায় কল্পনাতেও ছিল না মৃত্যুর আগে পাকা ঘরে ঘুমাব। বসুন্ধরা গ্রুপ পাকা ঘর তৈরি করে দিয়ে আমার কষ্টের অবসান করে দিয়েছে। আমি অনেক অনেক খুশি। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের কাছে আমি ও আমার পরিবার চিরকৃতজ্ঞ। তাঁর জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া ও মঙ্গল কামনা করছি, তিনি যেন আমার মতো আরো হাজারো অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারেন। কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি শুভসংঘের প্রতিও। ’

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর শুভসংঘের সভাপতি মুসাফির ইমরান, সদস্য আহসান হাবিব, রিয়াজ, আলভী, ওমরা, কলি, উর্মি, নিলয়, আবু সালেহ মুসা, নওশীন, শ্রাবণ, শামীম, এমরান, হৃদয় প্রমুখ।

 

 

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর