ঈদ এলেই সড়ক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এবারের ঈদুল আজহাতেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বগুড়ায় ঈদের দিন এবং পরের দিনে সড়কে পাঁচজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আর আহত হয়েছেন ছয়জন। সবগুলোই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা।
ঈদের ছুটিতে ফাঁকা রাস্তা পেয়ে উঠতি বয়সী তরুণ এবং যুবকরা বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, ঈদের সময়ে রাস্তা ফাঁকা পেয়ে বন্ধুরা দল বেঁধে মদ্যপান করে সাপের মত এঁকেবেঁকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বাইক রাইড করেন। তারা একে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে চালান। এদের বেশিরভাগ কমবয়সি কিশোর ও তরুণ। যারা খুব একটা দক্ষও নন। কারও কারও ড্রাইভিং লাইসেন্সও নেই। এর ফলে মোটরসাইলেক দুর্ঘটনা ঘটছে। আর এর জন্য অভিভাবকদের দায়ী করছেন তারা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তানদের চাহিদা পূরুণ করতে তাদের মোটরসাইকেল কিনে দিচ্ছেন অভিভাবকরা। যার ফলে দুর্ঘটনা বেড়েই চলবে।
জানা যায়, ঈদ এলেই সড়কে মোটরসাইলেক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়ে যায়। নিয়ম-নীতি থাকলেও থামানো যাচ্ছে না বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালকদের। প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার অধিকাংশই ঘটছে মোটরসাইকেলে। এবারের ঈদুল আজহাতেও বগুড়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আর আহত হয়েছেন ছয়জন। ঈদের ছুটিতে রাস্তাঘাট এমনিতেই ফাঁকা হয়ে যায়। এই সুযোগে মোটরসাইকেল চালকরা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। ফলে দুর্ঘটনার শিকার হন। পাশাপাশি নিয়ম-নীতি না মানা, কমবয়সি কিশোর ও তরুণরা মদ্যপান করে সাপের মত এঁকেবেঁকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চালানোর কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। দল বেঁধে প্রতিযোগিতা ছাড়াও ট্রাফিক তদারকির অভাবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
বগুড়ার শেরপুরে ঈদের দিন ঘুরতে বেরিয়ে ত্রিমুখী মোটরসাইকেল সংঘর্ষে দুই তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত পৌনে ৯টার দিকে শেরপুর-ধুনট আঞ্চলিক সড়কের শুভগাছা (শাফলজানি) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুইজন হলেন-পৌর শহরের উলিপুর এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে আবু রায়হান (২০) এবং শাহ বন্দেগী ইউনিয়নের ফুলতলা এলাকার তামিম হোসেন (২০)। তাঁরা একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। আহত ব্যক্তিরা হলেন- রাজন, সিয়াম, হাসান ও ছামির।
স্থায়ী সূত্রে গেছে, ঈদের আনন্দ উদ্যাপন করতে কয়েকজন বন্ধু মোটরসাইকেল নিয়ে ধুনটের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে শুভগাছা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় পেছন থেকে আসা আরও একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দেয়।
এতে ঘটনাস্থলেই আবু রায়হানের মৃত্যু হয়। আহত পাঁচজনকে উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পথে তামিম হোসেন মারা যান।
শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মইনুদ্দিন জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে ঈদের পরে দিন শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে কাহালু উপজেলার বীরকেদার ইউনিয়নের বারোমাইল এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন বন্ধু নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন নওগাঁর খাস নওগাঁ এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে মো. রাহিম (২১), চকদেব নুনিয়াপট্টি এলাকার ইউসুফের ছেলে অপূর্ব (১৮) এবং একই এলাকার সুরুজের ছেলে প্রেম (২০)। তারা একে অপরের বন্ধু ছিলেন।
ওইদিন সন্ধ্যায় হালকা বৃষ্টির মধ্যে নওগাঁ থেকে তিন বন্ধু একটি মোটরসাইকেলে করে বগুড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। বারোমাইল এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা নওগাঁগামী আরেকটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাঁদের মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন বন্ধুর মৃত্যু হয়। এ সময় অপর মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হন।
স্থানীয়রা জানান, তিন বন্ধুকে বহনকারী মোটরসাইকেলটির গতি ছিল ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের ওপরে। মোটরাসাইকেলটির সাইলেন্সার পাইপ মডিফাই করায় বিকট শব্দ হচ্ছিল। বৃষ্টির মধ্যে এঁকেবেঁকে দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা অপর মোটরসাইকেলটির সঙ্গে সেটির সংঘর্ষ হয়।
কাহালু ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর সবুজ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে মরদেহগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কাহালু থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুব জানান, দুর্ঘটনায় নিহত তিন যুবকের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
বগুড়ার সচেতন নাগরিক মো. আনোয়ার হোসেন পলাশ জানান, ঈদের ছুটিতে রাস্তাঘাট এমনিতেই ফাঁকা হয়ে যায়। এই সুযোগে মোটরসাইকেল চালকরা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। যার বেশির ভাগই উঠতি বয়সী তরুণ। তারা নিয়ন-নীতি না মেনে সড়কে সাপের মত এঁকেবেঁকে মোটরসাইকেল চালায়। যার ফলে দুর্ঘটনার শিকার হন। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বিডি প্রতিদিন/নাজিম