বেনাপোল কাস্টমস হাউসের নিলাম শাখার গুদাম থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভান্ডারে নির্ধারিত পণ্যের চেয়ে অতিরিক্ত মালামাল পরিবহনের অভিযোগে কাস্টমসের এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে আটক এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ৫ জনকে সাসপেন্ড করেছে কর্তৃপক্ষ।
গত ২১ মে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের নিলাম শাখা থেকে ৩ হাজার ২২টি শাড়ি, ৫৮টি থ্রি-পিস, ২০৮টি চাদর, ২৬৩টি কম্বল এবং ৮টি ওড়না ঢাকার ত্রাণভান্ডারে পাঠানোর একটি চিঠি ইস্যু করা হয়। এ সংক্রান্ত একটি চিঠিতে সহকারী কমিশনার অব কাস্টমসের পক্ষে রাহাত হোসেন স্বাক্ষর করেন। এই পণ্য পরিবহনের দায়িত্বে ছিলেন বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী।
ইন্দ্রজিৎ মুখার্জীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি ত্রাণভান্ডারে পণ্য পাঠানোর আড়ালে অতিরিক্ত মালামাল পরিবহনের চেষ্টা করছিলেন। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে বেনাপোল বাজারের দুর্গাপুর সড়কের মুখ থেকে ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-৫৬২১ নম্বরের একটি কাভার্ডভ্যান আটক করে বিজিবি। কাভার্ডভ্যানটি ক্যাম্পে নিয়ে তল্লাশি করে গাড়িটিতে থাকা মালামালের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। যাচাই শেষে দেখা যায় ত্রাণভান্ডারে পাঠানো মালের মধ্যে অতিরিক্ত মালামাল রয়েছে। এ ঘটনার পর কাস্টমস হাউসের ভেতরে থাকা আরও একটি ট্রাকের গতিবিধিও নজরদারিতে নেওয়া হয়।
সোমবার রাতে বেনাপোল বিজিবি সদর ক্যাম্পে জব্দ করা মালামালের তালিকা প্রস্তুত করেছে বিজিবি। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় ৬ হাজার ৮টি শাড়ি, ৬৩টি থ্রি-পিচ, ৩৮৬টি কম্বল, ২০৮টি চাদর, ৮টি ওড়না ও ৩৩ হাজার ২২২টি বিভিন্ন প্রকার কসমেটিকস সামগ্রী। এ সমস্ত পণ্যের বৈধ কোনো কাগজপত্র না থাকায় বিজিবি তা জব্দ করে। যার আনুমানিক সিজার মূল্য ২ কোটি ৬৭ লাখ ৬৫ হাজার ৩১০ টাকা। এ সময় বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে বিজিবি জানতে পেরেছে, ত্রাণভান্ডারে পাঠানোর জন্য নির্ধারিত পণ্যের বাইরে অতিরিক্ত মালামাল পরিবহনের চেষ্টা করা হচ্ছিল।
পাসপোর্টধারী যাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে জব্দ করা পণ্য কাস্টমস হাউসে সংরক্ষণ করা হয়। এসব পণ্য পরে সরকারি বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তি বা হস্তান্তর করা হয়ে থাকে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন বলেন, সোমবারের ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। এটার সত্যতা আমরা যাচাই করছি। এর সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইন্দ্রজিৎ ছাড়াও অভিযুক্তের তালিকায় আরও আছেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফ হোসেন, সিপাহি জামশেদ, সিপাহি মো. সাগর ও সিপাহি হামিদুর রহমান। এ ঘটনায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা-ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি