একদিন খুব সকালে শুভ্র ঘুম ভাঙার পর চোখ কচলে দাদিকে বলল, জানো দাদি, আজ রাতে আমি একটা দারুণ স্বপ্ন দেখেছি! দাদি হেসে বললেন, কী স্বপ্ন দেখেছিস রে সোনা?
শুভ্র উত্তেজনায় প্রায় লাফিয়ে উঠল, আমি একটা ড্রাগন দ্বীপে গিয়েছিলাম! সেখানে লাল, নীল, আর হলুদ রঙের ড্রাগন ছিল। জানো, একটা হলুদ ড্রাগনের সাথে আমার খুব ভাব হয়ে গেল! ওর পিঠে চড়ে আমি পুরো দ্বীপটা ঘুরে দেখলাম। উফফ! কী সুন্দর দ্বীপ ছিল দাদি! অন্য সব দ্বীপের চেয়ে একদম আলাদা।
সেখানে ছিল থোকা থোকা নানা রঙের ফুল, কিছু ফুল তো আমার থেকেও বড়! কী অবাক কাণ্ড! বেগুনি রঙের নদী বয়ে যাচ্ছিল, আর ছিল হরেক রকম পশুপাখি। সবথেকে মজার ছিল নানা রঙের ফল! এত মজার আর এত রঙের ফল আমি আগে কখনো খাইনি!
দাদি আদর করে শুভ্রর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। বললেন, বোঝো কাণ্ড! মানুষ স্বপ্নে এমন অনেক কিছু দেখে যা বাস্তবে হয় না। স্বপ্ন তো একটা দরজার মতো, দাদু ভাই। যেখানে মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা সব ইচ্ছে পূরণ করা যায়। ছোটবেলায় শিশুরা এমন রঙিন স্বপ্নই দেখে।
দাদি একটু থেমে বললেন, ‘কিন্তু বড় হতে হতে এই স্বপ্নগুলো বদলে যায়। স্বপ্নের মতো সুন্দর জীবন গড়তে চাইলে সত্যিকারের স্বপ্ন দেখতে হবে। আর সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য খুব মন দিয়ে কাজ করতে হবে। চলার পথে অনেক বাধা আসতে পারে, কিন্তু থেমে গেলে চলবে না দাদু ভাই।
দাদি আরও বললেন, কখনো কখনো কালো রংও কিন্তু সুন্দর লাগে। তোর তো জেব্রা খুব পছন্দ, তাই না? জেব্রার গায়েও তো কালো দাগ আছে। সেই কালো দাগ আছে বলেই তো জেব্রা অন্য প্রাণীদের চেয়ে আলাদা আর সুন্দর! জীবনের নানা অংশে একটু কালো দাগ থাকতেই পারে। তবে তুই চেষ্টা করতে থাকলে একসময় রঙিন জীবনের পাতায় সেই কালো দাগও অনন্য হয়ে উঠবে। তোর জীবনও হবে পাবলো পিকাসোর তুলির মতো সুন্দর। সব সময় তোর জন্য দোয়া করি। বড় হয়ে আলোছায়ার ঘেরে একটা সুন্দর জীবন গড়বি কিন্তু।
শুভ্র হাসিমুখে মাথা নেড়ে বলল, ঠিকাছে দাদি! আমিও সত্যিকারের স্বপ্ন দেখব। দাদি খুব খুশি হয়ে শুভ্রকে একটা চকলেট খেতে দিলেন। শুভ্র সেদিন থেকে দাদির কথা মনে রেখে নিয়ম মেনে সব কাজ করতে শুরু করল। সে জানে, পিকাসোর ছবির মতো রঙিন জীবন গড়তে গেলে একটু কষ্ট তো করতেই হবে!