শিরোনাম
১ ডিসেম্বর, ২০২২ ২০:২০

হুন্ডিতে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রবাসীদের না পাঠানো রেমিটেন্স : গভর্নর

অনলাইন ডেস্ক

হুন্ডিতে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রবাসীদের না পাঠানো রেমিটেন্স : গভর্নর

আব্দুর রউফ তালুকদার

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলেছেন, আশ্চর্যজনকভাবে দেখলাম- ২০ থেকে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত ওভার ইনভয়েসিং (অতিরিক্ত মূল্য দেখানো) করে পণ্য আমদানি করা হয়েছে। এ রকম ১০০ এলসি বন্ধ করেছি আমরা।

বৃহস্পতিবার গুলশানের হোটেল লেকশোরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বার্ষিক উন্নয়ন সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন। 

গভর্নরের বক্তৃতাকালে তিনি বৈদেশিক বাণিজ্যে পণ্যের দাম কম বা বেশি দেখিয়ে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ‘ট্রেড বেজড মানি লন্ডারিং’ বন্ধ করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন বলেন, ব্যবসায় ক্ষতি হয় আমরা এমন কোনও এলসি বন্ধ করিনি। আমরা ‘প্রাইস কন্ট্রোল’ (মূল্য নিয়ন্ত্রণ) করছি। যাতে সঠিক দরে পণ্য আমদানি ও রপ্তানি হয়।

তিনি বলেন, বিলাসী পণ্য আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে মাত্র। কারণ হচ্ছে, আপাতত এসব বিলাসী পণ্য কম এলেও কোনও সমস্যা হবে না। অতিরিক্ত ও কম মূল্য দেখিয়ে করতে চাওয়া এলসি বন্ধ করে দেয়া হলেও পরে তা সংশোধন করে প্রকৃত দরে আমদানি করতে চাইলে ব্যবসায়ীরা তা করতে পারছেন বলে জানান গভর্নর।

তিনি বলেন, ওভার ইনভয়েসিং হচ্ছে কিনা, তা দেখতে গত বছর এবং এবছরের অনেক এলসির তথ্য নিয়ে গত জুলাই থেকে যাচাই-বাছাই শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তখনই ২০-২০০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়িয়ে পণ্য আমদানির বিষয়টি তারা জানতে পারেন।

পণ্য বাণিজ্যে আন্ডার ইনভয়েসিং হচ্ছে কিনা- তা যাচাইয়েরও উদ্যোগ নেয়ার কথা উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, একলাখ ডলারের মূল্যর গাড়ি আমদানি করা হয়েছে মাত্র ২০ হাজার ডলারে। এতে বোঝা যায়, বাকি অর্থ তারা হুন্ডির মাধ্যমে দিয়েছে।

দেশের বাজারে আপেল বিক্রির উদাহরণ দিয়ে গভর্নর বলেন, বাজারে যে দরে আপেল বিক্রি হচ্ছে, তার চেয়ে কম দরে আমদানি করা হচ্ছে। দর কম দেখানোতে সরকারের রাজস্ব আয়ও কমছে এখান থেকে। এভাবে আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যম পণ্য আমদানি হচ্ছে, যে দর কম দেখানো হচ্ছে, তা হুন্ডির মাধ্যমে পরিশোধ করা হচ্ছে। হুন্ডিতে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রবাসীদের না পাঠানো রেমিটেন্স।

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর