শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৭

ক্যাসিনো বন্ধে অভিযান

গডফাদারদেরও ধরুন

ক্যাসিনো বন্ধে অভিযান

কথা দিয়ে কথা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছাত্রলীগের বিপথগামীদের পর যুবলীগের বিপথগামীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছেন তিনি। বুধবার সন্ধ্যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে যুবলীগের খালেদ মাহমুদ ভূইয়া নামে এক প্রতাপশালী নেতাকে। এর আগে এই যুবলীগ নেতার পরিচালনাধীন একটি অবৈধ ক্যাসিনোসহ বেশ কয়েকটি ক্যাসিনোয় অভিযান চালায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। কয়েকজন তরুণীসহ আটক করা হয় ১৪২ জনকে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, নানা অভিযোগের ভিত্তিতে খালেদের বাসায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ওই বাসা থেকে একটি অবৈধ অস্ত্র, দুটি মেয়াদোত্তীর্ণ অস্ত্র, নগদ ১০ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, ৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ ডলার ও ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া খালেদের মালিকানাধীন ফকিরাপুল ইয়াংমেন্স ক্লাবে অভিযান চালান র‌্যাব সদস্যরা। পরে শাহজাহানপুর, বনানী ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ কাওসারের মালিকানাধীন ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ক্যাসিনোতেও অভিযান চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, যুবলীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন ক্লাবে ক্যাসিনো বসিয়ে পরিচালিত হতো জুয়ার আসর। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে কয়েক দফা প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে টনক নড়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার। মতিঝিল থানার পাশে অবস্থিত ফকিরাপুল ইয়াংমেন্স ক্লাবটি ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলার জন্য ক্রীড়ামোদীদের কাছে পরিচিত হলেও সেখানে ক্যাসিনোর আদলে জুয়ার আসর চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর এই ক্লাবের কমিটিতে যুবলীগের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা অন্তর্ভুক্ত হন। বাংলাদেশে মদ ও জুয়া নিষিদ্ধ করে বঙ্গবন্ধু সরকার। ১৯৭৫ সালের পর প্রকাশ্যে না হলেও মদ ও জুয়ার পুনরুত্থান শুরু হয়। রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাবে যে জুয়ার আসর বসে তা একটি ওপেন সিক্রেট। যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে সে দলের যুব সংগঠনের বিপথগামী সদস্যদের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় অবৈধ ক্যাসিনো। ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কিছু বিপথগামী দুর্বিনীত নেতার কারণে সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের সব অর্জন যখন নিষ্প্রভ হয়ে পড়ছে, তখন প্রধানমন্ত্রীর কড়া পদক্ষেপ জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবেÑ আমরা এমনটিই আশা করতে চাই। আমাদের বিশ্বাস, দুর্বিনীতদের বিরুদ্ধে অভিযান দু-একটি ঘটনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। দুষ্কর্মের গডফাদারদেরও ধরা হবে।


আপনার মন্তব্য