Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ আগস্ট, ২০১৯ ১০:৩৫
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০১৯ ১৪:৪৯

নেত্রীকে দেখার পর যেন প্রাণটা ফিরে পেলাম

জুনাইদ আহমেদ পলক

নেত্রীকে দেখার পর যেন প্রাণটা ফিরে পেলাম
জুনাইদ আহমেদ পলক

২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট। বিকেলে সিংড়া উপজেলায় সদ্য প্রয়াত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম শাহজাহান আলী চাচার স্মরণসভার আয়োজন করেছিলাম। সিংড়া উপজেলা অডিটোরিয়ামে স্মরণ সভায় বক্তব্য চলছিল। আকস্মিক ঢাকা থেকে একটি দুঃসংবাদ আমাদের সকলকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল! আমরা জানলাম আমাদের প্রাণ প্রিয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উপরে গ্রেনেড হামলা হয়েছে! প্রাণপ্রিয় নেত্রী আর নেই!

দুঃসংবাদটি শোনার পর মুহূর্তেই এলোমেলো হয়ে গেলো সবকিছু। ক্ষোভে, দুঃখে, জীবনের মায়া ত্যাগ করে, বুকে সাহস নিয়ে প্রাণ প্রিয় নেত্রীর উপর গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে উত্তরবঙ্গের মধ্যে সিংড়ায় আমরাই প্রথম বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাজপথে নেমেছিলাম। আমাদের বিক্ষোভ মিছিলটি যখন সিংড়ার বাসস্ট্যান্ড এর কাছে পৌঁছলো তখন আমাদের প্রতিবাদ মিছিলে বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসী বাহিনী অস্ত্র নিয়ে, গুলি করে ও বোমা হামলা চালায়।

আমিসহ আমাদের নেতাকর্মীরা মারাত্মক আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন ছিলাম। সেখানেই জানতে পারি পরেরদিন ২২শে আগস্ট দুপুর আড়াইটায় সিংড়া থানায় আমি (জুনাইদ আহমেদ পলক) সহ তৎকালীন সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস, মজিবর রহমান চাঁদ, বাবু কাশিনাথ দাস, অ্যাড. জিল্লুর রহমান, লেলিন, ডন, চাঁন্দু, সোহেল, জাহাঙ্গীর, জাহিদুল ইসলাম, লেমন, আশুতোষ, খোকন, আরিফ, শরীফ, মমতাজ ও অরুপকে আসামি করে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেছে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা।

১৫ দিন আগে আমার প্রথম সন্তান অপূর্ব জন্মগ্রহণ করেছিল; আমি পিতা হয়েছিলাম; ১৫ দিনের শিশু সন্তানকে রেখে ফেরারি হতে হলো!

তবে একটু আশ্বস্ত হলাম এটা জেনে যে আমাদের প্রাণ প্রিয় নেত্রী বেঁচে আছেন। আহত হয়েছেন অগণিত আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ, নিহত ২৪ জন।

সারাদেশে আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক ও জননেত্রী শেখ হাসিনার অনুসারী হিসেবে কাজ করেছি তাদের উপর সীমাহীন নির্যাতন চালিয়েছে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা। ফেরারি অবস্থায় ঢাকায় এসে সুধাসদনে প্রাণপ্রিয় নেত্রীর সাথে দেখা করলাম। নেত্রীকে দেখার পর যেন প্রাণটা ফিরে পেলাম।

সেই দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী মাঠে নামতে বা প্রতিবাদ করতে সাহস করেনি। তখন তারা কেউ কোনদিন কল্পনাও করতে পারেনি যে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসতে পারে! কষ্ট হয় যখন দেখি, সেই সময় যারা বিএনপি-জামায়াতের সাথে আঁতাত করে চলতো আজ তাদের মধ্যে অনেকেই নেতৃত্ব পাওয়ার অসম প্রতিযোগিতায় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এবং দলে বিভেদ করার জন্য ব্যস্ত।

মহান আল্লাহ পাক ২১শে আগস্টের হামলায় নিহত সকল শহীদদের বেহেশত দান করুন। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সুস্থ দেহে দীর্ঘায়ু দান করুন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলার আধুনিক রূপ আমাদের প্রাণ প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার তৌফিক দান করুন। আমিন।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

বিডি-প্রতিদিন/মাহবুব


আপনার মন্তব্য