শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:১৮

বিএনপির গুজব সন্ত্রাসে সতর্ক থাকতে হবে : কাদের

রফিকুল ইসলাম রনি, সড়ক যাত্রা, কক্সবাজার

বিএনপির গুজব সন্ত্রাসে সতর্ক থাকতে হবে : কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে কোটা আন্দোলনে ভর করেছিল। পরে ছাত্রদের কাঁধে ভর করে। ভিডিও প্রচার করে গুজব রটিয়ে সন্ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। বিএনপির গুজব সন্ত্রাস এখনো আছে। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। গতকাল চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার সড়ক যাত্রায় অংশ নিয়ে পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঘরের ভিতরে ঘর করবেন না। দলীয় কোন্দল করবেন না। আগামী সংসদ নির্বাচনে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক, তার পক্ষেই সবাইকে কাজ করতে হবে। সকাল ৯টায় শাহআমানত (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শুরু করেন কাদেরসহ সফরসঙ্গীরা। সেখানে হেফাজতের আমির আল্লামা আহমদ শফীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন কাদের। লোহাগাড়ায় চুনতি গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মিয়া মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের ‘পিতা ইসহাক মিয়া সড়ক’ উদ্বোধন শেষে সুধী সমাবেশে যোগ দেন তিনি। এরপর আবার সড়ক পথে কক্সবাজারের রামুতে রাত সাড়ে ৮টায় জনসভায় যোগ দেন। পথসভাগুলো রীতিমতো বড় সমাবেশে রূপ নেয়। এ ছাড়াও চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বাজার এলাকায় জনতার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। একাদশ সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের যাত্রাপথে শোডাউন করেন। রাস্তায় দুই ধারে হাত নেড়ে ও ফুল ছিটিয়ে অভিবাদন জানান স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। সংবাদ প্রচারে গণমাধ্যমের একাংশ আওয়ামী লীগের প্রতি অবিচার করছে বলে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, শনিবার ঢাকার মহানগর নাট্যমঞ্চে ৩০ দলের সমাবেশে দুই হাজার লোকও হয়নি। কিন্তু আওয়ামী লীগের সড়ক পথের পথসভা জনসভায় রূপান্তরিত হয়েছে। আমাদের পথসভায় লাখ লাখ মানুষের ঢল নেমেছে। মিডিয়ার একটি মহল তাদের ছবি বড় করে প্রচার করেছে, অথচ আমাদের সিঙ্গেল ছবি দিয়েছে, সমাবেশের লাখ লাখ মানুষের ছবি দেয়নি। সেতুমন্ত্রী বলেন, ছবি না দিয়ে আমাদের জনপ্রিয়তা ঢাকা যাবে না, আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা ঢাকা যাবে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সমাবেশ করার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। কিন্তু ঐক্যের নামে ৩০ দল সমাবেশ করেছে মহানগর নাট্যমঞ্চে।

তাদের আসলে জনসমর্থন নেই। জনসমর্থন থাকলে, সাহস থাকলে তারা সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করতেন। বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, সারা দেশে নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে। সবাই বলেন, ‘ধানের শীষ পেটের বিষ, ধানের শীষ সাপের বিষ।’

সভা-সমাবেশগুলোতে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বিজ্ঞান সম্পাদক আবদুস সবুর, আমিনুল ইসলাম আমিন, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, মাঈনুদ্দিন হাসান, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, সাইফুর রহমান সোহাগ ও এসএম জাকির হোসাইন প্রমুখ।

লোহাগাড়ায় সুধী সমাবেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির আন্দোলন না থাকায় বিএনপি-জামায়াত ষড়যন্ত্র করছে। শনিবার ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের কেউ কেউ মঞ্চে ঘুমিয়ে গেছেন, কেউ ঘুমিয়েছেন টেবিলে। যারা ঘুমিয়ে থাকেন তারা কীভাবে দেশ চালাবেন?

প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিবের প্রশংসা করে কাদের বলেন, (তিনি) একজন দক্ষ ও নিবেদিত কর্মকর্তা। তার আলোয় আজকে এই চুনতি গ্রাম আলোকিত। এ সময় গত সাড়ে নয় বছরে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন জনগণের সামনে তুলে ধরে সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতার জন্য আবারও আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। এ সময় স্থানীয় সড়ক, বিদ্যুৎ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও সুফলের কথা তুলে ধরে মেহেরুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল জান্নাত। সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বক্তৃতা করেন।

কক্সবাজারের চকরিয়ায় পথসভায় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, কোন্দল করবেন না। ঘরের ভিতরে ঘর তৈরি করবেন না। দলীয় কোন্দল করবেন না। সংসদ নির্বাচনে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক, তার পক্ষেই কাজ করতে হবে। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমাদের বিজয় আসবেই।

আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ঐক্য করে কোনো ফল হবে না। দেখলাম বি. চৌধুরী হঠাৎ গরম গলায় বললেন, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। কার ভরসায় তিনি গলায় এত জোর পেলেন? এই বিএনপিই তাকে বঙ্গভবন থেকে রেল লাইনে দৌড়ানি দিয়েছিল। সামনে তিনি কোন লাইনে দৌড়াবেন তা সময়ই বলে দেবে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে লাভ হবে না। এই দলের শিকড় অনেক গভীরে। যারাই এই দলটির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে, তারাই পরাজিত হয়েছে। জনবিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে ঐক্য করে সরকার হটানো যাবে না।

এনামুল হক শামীম বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দলকে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এনে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী করতে হবে।

হাছান মাহমুদ বলেন, ড. কামাল গংরা কখনই বিজয় দেখেননি। আগামীতেও তারা বিজয়ের মুখ দেখবেন না।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর