শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ২২:৫৪

নয়া পল্টন নিয়ে যত কথা

পুলিশের ওপর পরিকল্পিত হামলা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশের ওপর পরিকল্পিত হামলা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা ও গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। সবাই যখন নির্বাচনের জন্য উন্মুখ, তখনই এ ঘটনা ঘটল। স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে, এটা উদ্দেশ্যমূলক, এটা নির্বাচনকে বানচাল করার ষড়যন্ত্র। গতকাল বিকালে সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, যখন দেশ একটি সুন্দর নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে, নির্বাচন কমিশন যখন শিডিউল ঘোষণা করেছে, মানুষ যখন একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে- সেই সময়ে এটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। নাশকতা তৈরি করে, ধূম্রজাল সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচালের এটা একটা অপচেষ্টা। পুলিশের ওপর হঠাৎ আক্রমণ সেটাই মনে করিয়ে দেয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানে ১৩ পুলিশ ও তিন আনসার সদস্য আহত হয়েছেন। তারা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। পুলিশের দুটি নতুন গাড়িতে তারা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন। একটি এপিসি (আর্মার্ড পারসোনাল ক্যারিয়ার-সাঁজোয়া যান) ভেহিক্যাল সেখানে ছিল, সেই এপিসি ভেহিক্যালেও তারা আগুন ধরানোর চেষ্টা করে। পুলিশ সক্রিয় থাকায় এপিসি ভেহিক্যাল রক্ষা পায়। আসাদুজ্জামান খান বলেন, এ ঘটনা যারা ঘটিয়েছে, ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, নয়াপল্টনে বিএনপির দুই মনোনয়ন প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও মেজর আখতার আসছিলেন মনোনয়ন পেপার সাবমিট করতে। এ সময় উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে নিজেদের মধ্যে হয় হাতাহাতি-মারামারি। পুলিশ আগে থেকেই বলেছিল, নয়াপল্টনের দুটি রাস্তার একটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে। কিন্তু সম্পূর্ণ রাস্তা বন্ধ করে এ দুই গ্রুপ ও অন্যান্য গ্রুপ এসে অবস্থান করছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ খেয়াল করে ওখানে উত্তেজনা সৃষ্টি, ধাক্কাধাক্কি ও অসহিষ্ণু পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এরপর দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের ওপরে তারা ইটপাটকেল ছোড়া শুরু করে। বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী— বিএনপি মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভিডিও ফুটেজে যা আছে, সাধারণ মানুষ যা দেখেছে- আমি সেটারই বর্ণনা করেছি। বিএনপি নেতা কী বলেছেন সেগুলোকে আমরা চ্যালেঞ্জ করতে চাই না। আমাদের পুলিশ তাদের (বিএনপি) নিরাপত্তা দেওয়ার জন্যই সেখানে অবস্থান করছিল। পুলিশ আগেভাগে কিছুই করেনি। দুই নেতা যখন ঢুকলেন তখনই এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে, পুলিশ মার খেয়েছে। পুলিশের মারমুখী আচরণ ছিল না। মারমুখী আচরণ থাকলে ১৬ পুলিশ আহত হতো না। আমরা মনে করি পুলিশ অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে এবং আহত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ তৈরি আছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার কোনো রাজনৈতিক মামলা রুজু করেনি।


আপনার মন্তব্য