Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২২:৫৯

সিনেটের পদ ছাড়লেন শোভন অভিযোগের পাহাড়

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ও জাবি প্রতিনিধি

সিনেটের পদ ছাড়লেন শোভন অভিযোগের পাহাড়
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি (উপরে), গোলাম রব্বানী ও সাদ্দাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে সিনেট সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ছাত্রলীগের সদ্যসাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। গতকাল বিকালে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।

এদিকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করার পর থেকেই ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠছে। এর মধ্যে রয়েছে কমিটি বাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, মাদকসহ পাহাড়সম অভিযোগ।

নতুন করে ফাঁস হচ্ছে আর্থিক লেনদেনের অডিও ক্লিপ। অন্যদিকে বিতর্কের ঝড় বইছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে নিয়েও। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অভিযোগ তদন্ত করতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-ইউজিসিকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। এজন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সূত্রে জানা গেছে।

কমিশন বাণিজ্যের অপরাধে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পদত্যাগ করতে হয়েছে। একই অভিযোগ উঠেছে জাবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের একটি পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে কয়েকদিন ধরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অপরাধ প্রমাণিত হলে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে তাকে। সূত্র জানায়, সোমবার বিকাল ৪টার দিকে সিনেটের সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে সিনেট সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান শোভন। ছাত্রলীগের দফতর সম্পাদক আহসান হাবীব, তার বন্ধু ফেরদৌস আল মাহমুদ পলাশ ও ঢাবি ছাত্রলীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ডাকসুর সদস্য রফিকুল ইসলাম সবুজ শোভনের পক্ষে উপাচার্যের কার্যালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগপত্রে শোভন লিখেছেন, ‘আমি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। বর্তমানে আমার ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় আমি উক্ত পদ থেকে পদত্যাগ করতে আগ্রহী।’

বিকালে পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে সে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছে। এটি এখন বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হবে। পরবর্তী যে কোনো পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধান মোতাবেক নেওয়া হবে।’

এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে গোলাম রাব্বানী ও শাখা ছাত্রলীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের মধ্যকার নতুন একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। বিতর্কে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে এখন উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এদিকে ফোনালাপের তথ্য ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও উপাচার্যপন্থি শিক্ষকরা। অন্যদিকে গতকাল শাখা ছাত্রলীগের একটি পক্ষ ক্যাম্পাসে শোডাউন করেছে।

ফাঁস হওয়া ফোনালাপে জানা যায়, উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে ১ কোটি টাকা ভাগ করে দিয়েছেন। উপাচার্যের বাসায় টাকা বাটোয়ারার ওই বৈঠকে সাদ্দাম নিজেও উপস্থিত ছিলেন। তবে ফাঁস হওয়া ফোনালাপের তথ্যকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে পৃথক বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও উপাচার্যপন্থি আওয়ামী শিক্ষকদের একাংশের সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ’।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘রাব্বানীর সঙ্গে শাখা ছাত্রলীগ নেতার ফোনালাপ পরিকল্পিত ও ষড়যন্ত্রের অংশ। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে উপাচার্যকে পদত্যাগে বাধ্য করার ষড়যন্ত্রের অংশ এটি। আমরা মনে করি, স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তাদের অন্যায় দাবি মেটাতে পারেনি বলেই তারা উপাচার্যের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।’

তবে ফোনালাপের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ‘উপাচার্য ও তার পরিবারের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আমাদের এই আর্থিক সহযোগিতা করেছিলেন। তিনি কোথা থেকে এ টাকা দিয়েছেন তা তিনিই জানেন।’

প্রক্টরের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতার ফোনালাপ : রাব্বানীর সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁসের পর শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি হামজা রহমান অন্তরকে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান ‘হুমকি’ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রক্টর ও অন্তরের মধ্যকার আরেকটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হামজা রহমান অন্তর বলেন, ‘শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের অনেকেই এই টাকার ভাগ পেয়েছেন। যেহেতু ছাত্রলীগ টাকা নিয়েছে তাই দলের কেন্দ্রীয় নেতাকে বিষয়টি জানানো প্রয়োজন বলে মনে করেছি।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফোনালাপ থেকে জানা যায়, একপর্যায়ে প্রক্টর অন্তরকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ফোনটা যেহেতু তোমার, তোমাকেই কিন্তু দায়টা নিতে হবে। তোমার ফোনে কথোপকথন, তুমি কিন্তু দায়টা এড়াতে পারো না।’ এ সময় অন্তর বলেন, ‘ক্যাম্পাসের ৪৪-৪৫ ব্যাচ পর্যন্ত টাকা পাইছে স্যার। আমি এটা গোপন রাখার কী আছে স্যার? স্যার আপনি যদি চান, আমি আপনাকে প্রমাণ দেখাতে পারব। ৪৪-৪৫ ব্যাচও টাকা পাইছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘তার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকায় তাকে ফোন করেছিলাম। তবে সে যে অভিযোগ করেছে তা মিথ্যা। আমার মনে হয়, সে হতাশা থেকে এমনটা করেছে।’


আপনার মন্তব্য