শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪৯

ইতিহাস গড়ে যুব বিশ্বকাপ ফাইনালে বাংলাদেশ

মেজবাহ্-উল-হক

ইতিহাস গড়ে যুব বিশ্বকাপ ফাইনালে বাংলাদেশ
নিউজিল্যান্ডের উইকেট শিকারের পর গতকাল যুব টাইগারদের উল্লাস -ইএসপিএন

একেই বলে প্রতিশোধ! প্রস্তুতি ম্যাচে যে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে হেরেছিল যুবারা, সেই কিউইদের উড়িয়ে দিয়েই প্রথমবারের মতো স্বপ্নের ফাইনালে উঠে গেল বাংলাদেশ। ৬ উইকেটের দুর্দান্ত এক জয়। গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে ৩৫ বল বাকি থাকতেই কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলার দামাল ছেলেরা।

২০১৬ সালে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে শক্তিশালী দল নিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল মেহেদি হাসান মিরাজের দল। সেটাই ছিল যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন। কিন্তু এবার তা ছাপিয়ে গেল। আকবর আলীর বাংলাদেশের এখন চোখ শিরোপায়। একই মাঠে ৯ ফেব্রুয়ারি ফাইনাল। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ভারত।

গতকাল প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে করেছিল ২১১ রান। বাংলাদেশ ৬ ওভার আগেই ৬ উইকেট হাতে রেখে জিতে যায়। সেঞ্চুরি ও দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়ে ম্যাচের প্রধান ফোকাস নিজেদের দিকে নিয়েছেন মাহমুদুল হাসান। তিনি কাঁটায় কাঁটায় ১০০ রান করেছেন। তার ১২৭ বলের অনবদ্য ইনিংসটি ছিল ১৩টি বাউন্ডারিতে সাজানো। বিশ্বকাপের মঞ্চে সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে সেরা ক্রিকেটার হয়ে যেন ভাষা হারিয়ে ফেলেন মাহমুদুল। ম্যাচ শেষে ঠিকমতো কথাই বলতে পারছিলেন না। আনন্দ অশ্রুতে চোখ ছলছল করছিল। প্রতিক্রিয়ায় বললেন, ‘সবকিছুই যেন আমার কাছে অবিশ্বাস্য লাগছে। এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না, আমরা নিউজিল্যান্ডকে সত্যি সত্যি হারিয়েছি! এ জয় আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।’ অধিনায়ক আকবর আলীর কাছেও অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। তবে জয়ের পেছনের কারণ হিসেবে ‘চাপমুক্ত’ থাকার মন্ত্রকেই কৃতিত্ব দিলেন। একইভাবে ফাইনালও জিততে চান তিনি। আকবর বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা ছিল নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শন করা। তা করতে পেরেছি বলেই জিতেছি। ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে আমরা একইভাবে খেলব।’ কালকের ম্যাচের দুই ইনিংসেরই প্রথমাংশ ছিল বেশ রহস্যময়। নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ২১২ রানের সহজ টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৩২ রানেই দুই ওপেনারের বিদায়। তখন মনে হচ্ছিল বেশ লড়াই হবে। কিন্তু তৃতীয় উইকেটে তৌহিদ হৃদয়কে নিয়ে ৬৮ রানের জুটি গড়েন মাহমুদুল। চতুর্থ উইকেটে শাহাদতের সঙ্গে আরেকটি ১০১ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান মাহমুদুল। তৌহিদ ও শাহাদত উভয়েই ৪০ করে রান করেছেন। আবার নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের প্রথম দিকে যুবা টাইগাররা এমনভাবে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরেছিল যেন দেড় শ রান হবে না তাদের। প্রথম ১০ ওভারে তাদের স্কোর ২৬/১। তারপর ২৫ ওভার শেষে কিউইরা করে ৩ উইকেট হারিয়ে ৭২! এমনকি ৪০ ওভারে কিউইদের স্কোর ছিল ১৩৯/৬। এমন অবস্থার পরও কিনা শেষ ১০ ওভারে ঝড়ো গতিতে ৭২ রান করে লড়াইয়ের পুঁজি পায় নিউজিল্যান্ড। ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নামা বেকহ্যাম হুইলার-গ্রিনাল খেলেছেন ৭৫ রানের হার না মানা এক ইনিংস। দলের মহাবিপদের সময় ৪৪ রানের ধৈর্যশীল এক ইনিংস খেলেছেন নিকোলাস লিডস্টোন। তবে শেষ পর্যন্ত যুবা টাইগারদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি কিউই বোলাররা। যেন হেসেখেলেই ফাইনালে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর