শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ মার্চ, ২০২০ ২৩:১৮

ওসির রুমে মৃতদেহ পরিবারের দাবি হত্যা পুলিশ বলছে আত্মহত্যা

বরগুনা প্রতিনিধি

ওসির রুমে মৃতদেহ পরিবারের দাবি হত্যা পুলিশ বলছে আত্মহত্যা

বরগুনার আমতলী থানায় একটি হত্যা মামলার সন্দেহভাজন হিসেবে আটক শানু হাওলাদার নামের এক ব্যক্তির থানা হাজতে রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, থানার ওসি আবুল বাশার ও ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রির দাবি করা তিন লাখ টাকা না দেওয়ায় নির্যাতন করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, আত্মহত্যা করেছেন শানু হাওলাদার। এ ঘটনায় আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি ও ডিউটি অফিসার মো. আরিফুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। গতকাল সকালে বরগুনার আমতলী থানায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কলাগাছিয়া গ্রামে ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর ইব্রাহিম নামের একজনকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই হত্যা মামলার এজাহারে নিহত শানু হাওলাদারের সৎভাই মিজানুর রহমান হাওলাদারকে আসামি করা হয়। আসামি মিজানের ভাই শানু হাওলদারকে সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সহেন্দভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমতলী থানা পুলিশ ধরে নিয়ে আসে। শানুর ছেলে মঙ্গলবার থানায় এসে খাবার দিয়ে যান। পরদিন বুধবার পরিবারের লোকজন এসে শানু হাওলাদারের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে পুলিশ দেখা করতে দেয়নি। উল্টো পরিবারের লোকজনের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে তাড়িয়ে দেয়। গতকাল সকালে থানা থেকে খবর দেওয়া হয় শানু হাওলাদার ওসি তদন্তের কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে পরিবারের অভিযোগ, শানুকে ধরে নিয়ে আসার পর আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার  ও ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি তার পরিবারের কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করলে শানুর ছেলে ১০ হাজার টাকা ওসিকে দেন। দাবি করা বাকি টাকা দিতে না পারায় শানু হাওলাদারকে থানা হাজতে রেখে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেছে।

 নিহত শানু হাওলাদারের শ্যালক রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘দুলাভাইকে ধরে আনার পর থেকে আমি থানা প্রাঙ্গণে ছিলাম। পুলিশ তাকে টাকার জন্য বেধড়ক মারধর করেছে। তার ডাকচিৎকার শুনেছি। বহুবার চেষ্টা করেছি তার সঙ্গে দেখা করতে কিন্তু পুলিশ দেখা করতে দেয়নি। উল্টো আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে।’ নিহত শানু হাওলাদারের স্ত্রী মোসা. ঝরনা বেগম বলেন, ‘মুই টাকা দেতে রাজি অই নাই হেইয়্যার লইগ্যা মোর স্বামীকে পুলিশে পিডাইয়্যা মাইরা হালাইছে। মুই এইয়্যার বিচার চাই।’ থানার ভিতরে ঝরনা বেগম বিলাপ করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। আমতলী থানার ওসি মো. আবুল বাশার বলেন, ‘শানু হাওলাদার গতকাল ভোর সোয়া ৬টার দিকে ওয়াশরুমে যান। ওয়াশরুম থেকে ফিরে এসে এক ফাঁকে হাজতখানার ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।’ অথচ হাজতখানায় কোনো ফ্যানই নেই। টাকা না দেওয়ায় তাকে নির্যাতন করে হত্যা করেছেন- এমন প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যান। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, ‘শানু হাওলাদারের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছ। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে না।’ বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, ‘দায়িত্বে অবহেলার দায়ে ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি ও ডিউটি অফিসার এএসআই মো. আরিফুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’ বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ পুলিশ টাকা না পেয়ে নির্যাতন করে শানুকে হত্যা করেছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যান।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর