শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৭ জুন, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ জুন, ২০২০ ২৩:৪২

আইসিইউ-ভেন্টিলেটরশূন্য ৪৬ জেলার হাসপাতাল

জয়শ্রী ভাদুড়ী

ঢাকার বাইরে প্রতিদিন বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। অথচ দেশের ৪৬টি জেলার জটিল রোগীদের জন্য নেই অত্যাবশ্যকীয় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস সুবিধা বা ভেন্টিলেটর। এসব আধুনিক সুবিধা পেতে ঢাকামুখী রোগীর ভিড় বাড়ছে। রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে করোনা নির্ধারিত আইসিইউ হাসপাতালগুলো।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, দেশে করোনা আক্রান্তদের জন্য হাসপাতালে শয্যা রয়েছে ১৩ হাজার ৯৮৪টি। এর মধ্যে আইসিইউ সুবিধা রয়েছে ৩৯৯টিতে। ঢাকার হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ শয্যা রয়েছে ২১৮টি। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে আইসিইউ শয্যা রয়েছে ৪৭টি। বিভাগের ১৩ জেলার মধ্যে ৬ জেলায় আইসিইউ নেই। চট্টগ্রাম বিভাগে আইসিইউ রয়েছে ৩৪টি। বিভাগের ১১ জেলার মধ্যে আইসিইউ নেই ৯ জেলায়। ময়মনসিংহ বিভাগে আইসিইউ শয্যা রয়েছে সাতটি। বিভাগের চার জেলার মধ্যে আইসিইউ নেই তিন জেলায়। বরিশাল বিভাগে ১৮টি আইসিইউ রয়েছে। বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে আইসিইউ নেই পাঁচ জেলায়। সিলেট বিভাগে আইসিইউ ১৬টি। বিভাগের চার জেলার মধ্যে নেই তিন জেলায়। রাজশাহী বিভাগে ২৮টি আইসিইউ রয়েছে। বিভাগের আট জেলার মধ্যে আইসিইউ নেই ছয় জেলায়। খুলনা বিভাগে ১৮টি আইসিইউ রয়েছে। বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে আইসিইউ নেই ৮ জেলায়। রংপুর বিভাগে ১৩টি রয়েছে। বিভাগের ছয় জেলায় জরুরি রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালে নেই আইসিইউ-ভেন্টিলেশন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনা রোগীদের চিকিৎসায় এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আইসিইউ-ভেন্টিলেটশন সুবিধা সংবলিত চিকিৎসালয়। যার অভাবে প্রতিদিনই বিশ্বে হাজার হাজার করোনা আক্রান্ত রোগী মারা যাচ্ছেন। এর সংকট রয়েছে বাংলাদেশেও।  চিকিৎসকরা বলছেন, করোনার পাশাপাশি শ্বাসকষ্টসহ জটিল রোগে আক্রান্তদের জন্য ভেন্টিলেটর ও আইসিইউ অত্যাবশ্যকীয়।

রোগতত্ত্ব্, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকায় করোনা আক্রান্ত রোগী ছিল ১৯ হাজার ৩২৭ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২ হাজার ৮৭৫, নারায়ণগঞ্জে ২ হাজার ৪৬০, ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ৩৮০, কুমিল্লা বিভাগে ১ হাজার ১৭৩, গাজীপুরে ১ হাজার ১৫০, মুন্সীগঞ্জে ৯৮০, কক্সবাজারে ৯৬৯, নোয়াখালীতে ৮৩৮, সিলেটে ৬১৭, ময়মনসিংহে ৫১১, রংপুরে ৪৮৭, ফরিদপুরে ৩০৬, জামালপুরে ২৭৫, গোপালগঞ্জে ২৬৬, কিশোরগঞ্জে ২৬৪, ফেনীতে ২৫৭, চাঁদপুরে ২৩৮, নেত্রকোনায় ২৩১, মাদারীপুরে ১৯৬ ও নওগাঁয় ১৯৬ জন। একইভাবে অন্য জেলায়ও বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। গতকাল পর্যন্ত দেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৬৩ হাজার ২৬ ও মারা গেছেন ৮৪৬ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৩ হাজার ৩২৫ জন। কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘হাসপাতালে রোগীদের ভীষণ চাপ। অনেকের আইসিইউ, ভেন্টিলেশন সাপোর্ট প্রয়োজন। অনেক জটিল রোগী আছে যাদের আমরা আইসিইউ সুবিধা দিতে পারছি না। বিকল্পভাবে প্রচুর অক্সিজেন দিয়ে স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে।’ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনসংখ্যার অনুপাতে দেশে করোনা মোকাবিলায় কমপক্ষে সাড়ে ৩ হাজার আইসিইউ ও ৫ হাজার ভেন্টিলেটর দরকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা বলছে, করোনা আক্রান্ত মোট রোগীর ৮০-৮২ শতাংশ সাধারণ চিকিৎসাতেই সুস্থ হয়ে ওঠেন। বাকি ১৮-২০ শতাংশ রোগীর চিকিৎসা নিতে হয় হাসপাতালে। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ রোগীর জন্য প্রয়োজন হতে পারে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস সুবিধা বা ভেন্টিলেটর। আর জটিল ৫ শতাংশের জন্য লাগতে পারে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ। চিকিৎসকরা বলছেন, করোনা রোগীদের মধ্যে প্রায় ১৮ শতাংশ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত থাকায় আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ৫ শতাংশ রোগীর আইসিইউ-ভেন্টিলেশন সুবিধা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, দেশে জরুরি রোগীদের জন্য আগে থেকেই আইসিইউ, ভেন্টিলেশন সংকট ছিল। এ সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে করোনা আক্রান্ত জটিল রোগীদের জন্য। সঠিক মাত্রার অক্সিজের সরবরাহ ও ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করতে না পারলে করোনা আক্রান্ত অনেক রোগীকে ফেরানো সম্ভব হবে না।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর