শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ জুলাই, ২০২০ ২৩:৫৬

সবাইকে ঘুষ দিয়েও নিজেকে নির্দোষ বলছেন এমপি পাপুল

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

সবাইকে ঘুষ দিয়েও নিজেকে নির্দোষ বলছেন এমপি পাপুল

অর্থ ও মানব পাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেফতার বাংলাদেশের সংসদ সদস্য (লক্ষ্মীপুর-২) মোহাম্মাদ শহীদ ইসলাম পাপুল নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তবে কুয়েতের কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। কুয়েতের রাজনীতিবিদ, কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়মিতই ঘুষ দিয়ে অন্যায় সুবিধা নিতেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল এ লেনদেন। কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউটরের কাছে তদন্তের সময় পাপুল এ বক্তব্য দিয়েছেন।

তবে জিজ্ঞাসাবাদে স্বেচ্ছায় ঘুষ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সংসদ সদস্য পাপুল। তার দাবি, তিনি কুয়েতি কর্মকর্তাদের বাধ্য হয়ে ঘুষ দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কুয়েতে আমার ৯ হাজার কর্মী রয়েছে এবং (এ বিষয়ে) আমার শতভাগ টেন্ডার রয়েছে। এ পর্যন্ত কেউ আমার কাজের অর্জন নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। অথচ (কুয়েতের) কিছু সরকারি কর্মকর্তা আমার টেন্ডার বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টায় রয়েছেন। তাদের টেন্ডারে রাজি করানোর একমাত্র মাধ্যম হলো ঘুষ প্রদান। তাই আমি এ ক্ষেত্রে কী আর করতে পারি?’ আরব টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশি এমপি আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে তদন্ত কর্মকর্তাদের বলেছেন, তার কোম্পানিতে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে তা অন্য কোম্পানিতে নেই। তার কোম্পানির কাজের মানের সাক্ষ্যস্বরূপ চুক্তিমাফিক সরকারি এজেন্সিগুলোর সব শর্তই তিনি পূরণ করে আসছেন। তবে সব সমস্যার মূলে রয়েছেন কিছু সরকারি কর্মকর্তা। পাপুল বলেছেন, তার কোম্পানিতে যে ধরনের ইকুইপমেন্ট আছে তা আর কোনো কোম্পানির নেই। তিনি গুণগতমানসম্পন্ন সেবা দিয়েছেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কুয়েতের কিছু কর্মকর্তা। প্রসিকিউটর অফিসের এক সূত্র জানিয়েছেন, এর সঙ্গে অনেক ব্যক্তি জড়িত। এদের সবার দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য অনেক সময়ের প্রয়োজন। কুয়েতের আরবি দৈনিক ‘আল কাবাস’-এর এক মন্তব্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহীদ ইসলামকে (পাপুল) জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে এ সপ্তাহের শুরুতে পাবলিক প্রসিকিউশনের দফতর পার্লামেন্টে একটি পর্যবেক্ষণ পাঠিয়েছে। যেখানে আইনের অসংগতি আর মামলায় অভিযুক্তদের শাস্তি নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছে। পাবলিক প্রসিকিউশনের দফতরের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বিদ্যমান আইনে বেশকিছু অসংগতির কারণে রেসিডেন্ট পারমিটের ডিলারশিপ আর অবৈধ মুদ্রা পাচারের অপরাধে জড়িত অনেকে ফাঁক গলে বের হয়ে যেতে পারেন। কুয়েতের অনেক সংসদ সদস্যসহ অনেককে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না। তেমনি অপরাধে মদদদানকারীদের অনেককে বাঁচানোর চেষ্টাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কোনো কোনো সংসদ সদস্য অভিযুক্ত সহকর্মীদের রক্ষার জন্য আইনে সংশোধনের চেষ্টাও করছেন। অথচ অভিযুক্ত সংসদ সদস্যরা বাংলাদেশের আটক সংসদ সদস্যের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন। ‘আল কাবাস’-এর প্রতিবেদনটিতে শহীদ ইসলামের বিচারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করতে গিয়ে দেশটির এয়ারবাস কেনাকাটার দুর্নীতিতে সংসদ সদস্যের ঘুষ নেওয়ার প্রসঙ্গটিও এসেছে। এতে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের সংসদ সদস্যের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার প্রেক্ষাপটে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা, দেশের ভাবমূর্তি আর পুরো নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। গত ৬ জুন মানব পাচার, ভিসা জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে সংসদ সদস্য পাপুলকে গ্রেফতার করে কুয়েতের পুলিশ। সে দেশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা তার বিরুদ্ধে মানব পাচার ও প্রায় ৫৩ মিলিয়ন কুয়েতি দিনার (প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা) পাচারের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পর এবং জামিনের আবেদন নাকচ হওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এমপি পাপুল কুয়েতের অপরাধ তদন্ত সংস্থার কাছে নিজের অপকর্মের কথা স্বীকার শুধু নয়, কুয়েতে তার সহযোগীদের নাম এবং ঘুষ দেওয়ার তথ্যও প্রকাশ করেছেন। স্বীকারোক্তির পর তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মারাফি কুয়েতের অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ১৩৮ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করারও উদ্যোগ নিয়েছে কুয়েত সরকার।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর