শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ জুলাই, ২০২০ ০০:১৬

দুই সঙ্গীসহ গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুই সঙ্গীসহ গ্রেফতার

দুবাই ড্যান্স ক্লাবে নারী পাচার চক্রের গডফাদার আজম খানকে দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আজমের দুই সহযোগী হলেন- আলামিন হোসেন ওরফে ডায়মন্ড এবং ময়না। সিআইডি বলছে, আজম দীর্ঘ ৮ বছর ধরে দুবাইতে কম বয়সী নারীদের পাচার করে আসছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে দুবাইতে উচ্চ বেতনে কাজের প্রলোভনে বিভিন্ন ড্যান্স ক্লাবে নারী পাচার করে আসছে। ওই অভিযোগ তদন্তে নেমে গডফাদার আজম খান ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়।

দুবাইতে ড্যান্স ক্লাবে, হোটেলে উচ্চ বেতনে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে দেশ থেকে কমবয়সী নারীদের দুবাই পাচার করতেন আজম। আজমের সহযোগীরা তরুণীদের ড্যান্স প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে মোটা অঙ্কের বেতনের প্রলোভন দেখাতেন। এজন্য তাদের অগ্রিম ১ মাসের বেতন বলে ২০, ৩০ অথবা ৫০ হাজার টাকাও দিতেন তারা। দুবাইতে ফরচুন পার্ল হোটেল অ্যান্ড ড্যান্স, হোটেল রয়েল ফরচুন, হোটেল ফরচুন গ্রান্ড ও হোটেল সিটি টাওয়ারের মালিকদের একজন আজম। এসব ক্লাব ও হোটেলে কাজের নামে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কম বয়সী সুন্দরী তরুণীদের আনা হতো। এরপর তাদের নানা অপকর্মে লিপ্ত হতে বাধ্য করতেন আজম ও তার সহযোগীরা। ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ আরও বলেন, গডফাদার আজম গত ৮ বছর ধরে সহস্রাধিক বাংলাদেশি তরুণীকে দুবাই পাচার করেছেন। এই কাজে সহযোগিতা করার জন্য দেশে তার অর্ধশতাধিক সহযোগী দালাল রয়েছে। নারী পাচারের জন্য নির্দিষ্ট কিছু এজেন্সি আছে এবং একটি বিশেষ এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে তিনি নারী পাচার করতেন। নারীরা তাদের কথামতো কাজ করতে রাজি না হলে মারধর করা হতো। নারীদের নির্যাতনের অনেক ভয়েস রেকর্ড আমরা আজমের মোবাইল থেকে পেয়েছি। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুবাই সরকার আমাদের অ্যাম্বাসিকে জানালে চক্রের গডফাদার আজমের পাসপোর্ট জব্দ করে তাকে দেশে ফেরত পাঠায় কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, নারী পাচারের অভিযোগে দুবাই পুলিশ আজমকে গ্রেফতার করেছিল। এক মাস তিনি জেলে ছিলেন। সেখানে তার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। এরপর তাকে দুবাই থেকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে আসার পর আজম আত্মগোপনে যান। বারবার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন। নতুন পাসপোর্ট করে তিনি পার্শ্ববর্তী দেশে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে তার আগেই দুই সহযোগীসহ তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আজম স্বীকার করেছেন, গত ৮ বছরে তিনি সহস্রাধিক বাংলাদেশি তরুণীকে দুবাই পাচার করেছেন। আজমের বিরুদ্ধে দেশে ১৫টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ৬টি হত্যা মামলা। সিআইডি বাদী হয়ে গত ২ জুলাই রাজধানীর লালবাগ থানায় আরও একটি মামলা করেছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর