শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:১৬

রাতে ফ্লাইট উপযোগী বিমানবন্দর করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

একনেকে চার প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাতে ফ্লাইট উপযোগী বিমানবন্দর করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোকে রাতে ফ্লাইট ওঠানামার উপযোগী করতে পর্যাপ্ত লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ নির্দেশনা দেন তিনি। এ ছাড়া সভায় চারটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এবং শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন ও প্রকল্পের সার্বিক বিষয়ে সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম। অভ্যন্তরীণ রুটে প্লেনের ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন বলে জানান তিনি। পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব বলেন, ‘রানওয়ের উন্নয়নের প্রকল্পের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এসব বিমানবন্দরের ব্যবহার যেহেতু বাড়ছে এবং রাতে বিমান ওঠা-নামা যাতে করতে পারে, এ জন্য লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। তখন বিমান মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, তাদের এই পরিকল্পনা আছে। তারা রানওয়ের উন্নয়নের পরে এ কাজ শুরু করতে পারবেন। এ সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় অনুশাসন ছিল, বিমানবন্দরগুলোর ব্যবহার যেহেতু বৃদ্ধি পাচ্ছে, ইকোনমিক জোন হচ্ছে, অন্যান্য কার্যক্রম হচ্ছে, সেহেতু বিমানবন্দরগুলোর যথাযথ উন্নয়ন ও সংস্কার প্রয়োজন।’

‘নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কদমরসুল অঞ্চলে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্প বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে সচিব বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রকল্পের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার যে সেন্টার করা হবে, সেটা যেন পানিকে দূষিত না করে। পানি রাখার বা জলাশয়ের পাশে যেন না করে। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব আরও বলেন, ‘খাদ্য উৎপাদন ও নিরাপত্তার বিষয়টা আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। সেই অনুযায়ী, কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমাতে হবে। নদীর পানি, বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রাস্তা বানানোর জন্য যে বরাদ্দ, সেটার যেন যথাযথ ব্যবহার হয়। এ জন্য মনিটরিং বাড়াতে হবে। আর গ্রামের রাস্তায় ভারী যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। উন্নয়ন কার্যক্রম হচ্ছে, গ্রাম ও শহরের পার্থক্য কমে যাবে। ফলে গ্রামের রাস্তায় যেন ভারী যানবাহন চলতে পারে, রাস্তাগুলো এখন থেকে সেভাবে নির্মাণ করতে হবে।

এক হাজার ৬৬৮ কোটি টাকার চার প্রকল্প অনুমোদন : একনেক সভায় ১ হাজার ৬৬৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা খরচে চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকার দেবে ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৭৮ লাখ এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৪৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা। একনেক সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম জানান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ‘যশোর বিমানবন্দর, সৈয়দপুর বিমানবন্দর ও শাহ মখদুম বিমানবন্দর, রাজশাহীর রানওয়ে সারফেসে অ্যাসফল্ট কংক্রিট ওভারলেকরণ’ প্রকল্প ৫৬৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা খরচে বাস্তবায়ন করা হবে। তার মধ্যে ৪৫৩ কোটি ৩৫ লাখ দেবে সরকার এবং ১১৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে ‘নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কদমরসুল অঞ্চলে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পে খরচ হবে ৩০১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। তার মধ্যে সরকার দেবে ২৭১ কোটি ১৯ লাখ এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩০ কোটি ১৬ লাখ টাকা। ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। আর একই মন্ত্রণালয়ের ‘মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী আনা হয়েছে একনেকে। এতে প্রকল্পের খরচ ৫৪৯ কোটি ৩ লাখ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৬০ কোটি ১৫ লাখ থেকে করা হয়েছে ২ হাজার ১০৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা। ২০১৭ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া প্রকল্প ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আজকের সংশোধনীতে ১ বছর সময় বাড়িয়ে তা করা হয়েছে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত।

সর্বশেষ ও চতুর্থ অনুমোদিত প্রকল্পটি হলো কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘ভূ-উপরিস্থ পানি উন্নয়নের মাধ্যমে বৃহত্তর দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলায় সেচ সম্প্রসারণ’। ২৫১ কোটি ১৫ লাখ টাকা খরচে এই প্রকল্প ২০২০ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর