শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০২

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ

চারজনের জড়িত থাকার প্রমাণ ডিএনএ টেস্টে

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

সিলেটে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনার দুই মাস পর আসামিদের ডিএনএ টেস্টের প্রতিবেদন পেয়েছে পুলিশ। ডিএনএ টেস্টে চার ধর্ষক শনাক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই ঘটনার মামলায় বাদবাকি যারা আসামি, তারা ধর্ষণে সহায়তা করেন। ডিএনএ টেস্টের প্রতিবেদন পাওয়ায় পুলিশ এখন মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের গতকাল বলেন, ডিএনএ টেস্টের প্রতিবেদন মামলার তদন্ত কর্মকর্তার হাতে পৌঁছেছে। ধর্ষণের সঙ্গে গ্রেফতারকৃত আসামিদের কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা টেস্টে প্রমাণিত হয়েছে। এই ডিএনএ টেস্টের প্রতিবেদনের জন্য মামলার চার্জশিট দাখিল সম্ভব হচ্ছিল না। এখন সেটি পেয়ে যাওয়ায় দ্রুতই চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ওই তরুণী (২৫)। করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ থাকা ছাত্রাবাসে জোরপূর্বক ওই তরুণী ও তার স্বামীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে স্বামীকে বেঁধে রেখে ধর্ষণ করা হয় তরুণীকে। ওই রাতেই তরুণীর স্বামী বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত তিন-চারজনকে আসামি করে নগরীর শাহপরান থানায় মামলা করেন। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে ওঠে। পরে ধর্ষণবিরোধী আইন সংশোধন করে মৃত্যুদে র বিধান সংযুক্ত করে সরকার। এদিকে, মামলার পর ১ ও ৩ অক্টোবর সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে এজাহারভুক্ত আসামি সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুম এবং সন্দেহভাজন আসামি মিসবাউর রহমান ওরফে রাজন ও আইনুদ্দিন নামের আরও দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়।

 এরা সবাই এমসি কলেজ ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যায়। গ্রেফতারকৃতদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকা পাঠায় পুলিশ। পরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন এসে পৌঁছেছে সিলেটে। ডিএনএ টেস্টে সাইফুর, তারেক, রনি ও অর্জুন ধর্ষক হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। গ্রেফতার আসামিদের প্রত্যেককে পর্যায়ক্রমে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তন্মধ্যে সাইফুর, তারেক, রনি ও অর্জুন ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন। ধর্ষণে সহায়তার কথা স্বীকার করেন রবিউল ও মাহফুজুর। অন্য দুজনও স্বীকারোক্তি দেন। পুলিশ ছাত্রাবাসে সাইফুরের কক্ষ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনেও মামলা হয়। ধর্ষণের শিকার তরুণীকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে তিন দিন চিকিৎসা দেওয়া হয়। তিনি বর্তমানে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও মানসিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তার স্বামী।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর