শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:১৯

ব্যয়বিলাসে নির্বাচন কমিশন

শুধু চলতি বছরই নির্বাচনী কাজের জন্য ১,১৫৭ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছে ইসি প্রশিক্ষণ খাতেও অতিরিক্ত ১৩৭ কোটি টাকা দাবি, প্রশিক্ষণ ব্যয় নিয়ে নানা বিতর্ক

মানিক মুনতাসির

ব্যয়বিলাসে নির্বাচন কমিশন

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের পুরো সময়ে সারা দেশে মোট ৪ হাজার ২০১টি নির্বাচন হবে। এর জন্য এ অর্থবছরের বাজেটে ইসির অনুকূলে বরাদ্দ রয়েছে ৪৩৩ কোটি টাকা। যদিও বাজেট ঘোষণার আগে এ খাতে ইসি চেয়েছিল ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নির্বাচন অনুষ্ঠিতও হয়েছে। বাকিগুলো সম্পন্ন করতে সংশোধিত বাজেট ২০২০-২১ থেকে শুধু চলতি বছরই নির্বাচনী কাজের জন্য অতিরিক্ত ১ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে ইসি, যা বাজেটে বরাদ্দের তুলনায় ২৬০ শতাংশ বেশি। ইসির সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যয়ের মধ্যে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ খাতেও অতিরিক্ত ৩৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর স্বাক্ষরিত অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদারকে লেখা একটি চাহিদাপত্র ঘেঁটে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর টেলিফোনে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘এটা তো কমিশনের বার্ষিক বাজেটেরই অংশ। আমরা যে টাকাটা চেয়েছি তা বাজেটের সময়ও চাওয়া হয়েছিল।’ নির্বাচন কমিশন সব ধরনের ব্যয়ের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে বলে জানান তিনি। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ চাহিদাকে অনেকটা

অযৌক্তিক বলে মত দিয়েছেন। বিশেষ নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ব্যয়ের ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে। কেননা এ খাতে ব্যয়ের অসামঞ্জস্য আর অস্বচ্ছতার অভিযোগও উঠেছে নিকট অতীতে। এ খাতের ব্যয়ের বিষয়ে অনেক অডিট আপত্তিও এসেছে। এমনকি বক্তাদের মোটা অঙ্কের সম্মানী প্রদানের ব্যাপারে অর্থ বিভাগ নানা প্রশ্নও তুলেছে সাম্প্রতিক সময়ে। শুধু তাই নয়, প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে বক্তাদের প্রদান করা মোটা অঙ্কের সম্মানী ফেরতও আনা হয়েছে পরবর্তী সময়ে।

৭ জানুয়ারি ইসি সচিব মো. আলমগীর স্বাক্ষরিত অর্থ সচিবকে পাঠানো চাহিদাপত্রে চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ের জন্য অন্যান্য খাতের ব্যয়বিভাজনের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে নির্বাচন কমিশন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ঘাটতি ব্যয় মেটাতেও অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইসির সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ কম্পিউটারসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি কেনার একটি ব্যয় পরিকল্পনা যুক্ত করা হয়েছে। এ খাতে চলতি অর্থবছরের জন্য চাওয়া হয়েছে ৩৪০ কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ইসির যেসব খাতে অর্থ ব্যয়ে অনিয়ম বা অস্বচ্ছতার অভিযোগ রয়েছে এর মধ্যে প্রশিক্ষণ খাত অন্যতম। কেননা একই ব্যক্তিকে দিয়ে শুধু বক্তৃতা করিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা সম্মানী হিসেবে ব্যয় দেখানোর নজির পেয়েছে অর্থ বিভাগ। ফলে বাজেট বরাদ্দ এবং সে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করে অর্থ বিভাগ। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নির্বাচন কমিশনের সামগ্রিক কর্মকান্ড নিয়ে নানা বিতর্ক তো রয়েছেই। তাদের বাজেট ব্যয়ের ব্যাপারেও প্রশ্ন আসতেই পারে। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ ব্যয়ের বিষয়ে তো আগে থেকেই নানা অভিযোগ এসেছে। এ ক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের অর্থ বরাদ্দ এবং ব্যয়ের বেলায় আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

ইসি সচিবের ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের বিভিন্ন পৌরসভার সাধারণ নির্বাচন, ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন, উপজেলা পরিষদের নির্বাচন, জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকারের শূন্য ঘোষিত কিছু আসনের উপনির্বাচন চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ে হওয়ার কথা।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর