শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:১৯

শিক্ষা ক্ষেত্রে বিত্তবানরা এগিয়ে আসুন : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষা ক্ষেত্রে বিত্তবানরা এগিয়ে আসুন : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের মাধ্যমে সারা দেশে লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। আমরা শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। এক্ষেত্রে বিত্তবানরা এগিয়ে আসুন। আমাদের শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ডে সহায়তা করুন বা নিজ নিজ এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহায়তা করুন। তিনি বলেন, নিজে যে প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন, সেটার উন্নয়নে ও সেখানকার শিক্ষার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে এলেই তো হয়। 

গতকাল প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থ সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তীতে বিভিন্ন উপজেলা প্রান্তে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মতবিনিময় করেন তিনি। গণভবন প্রান্তে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। সচিবালয় প্রান্তে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। শিক্ষা সহায়তায় সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শিক্ষার জন্য আমরা সবসময় সহায়তা দিয়ে থাকি। আমি আমার ছোট বোন, আমরা পৈতৃক যে সম্পত্তি বা যে টাকা-পয়সা পেয়েছিলাম, সেটা দিয়ে আমরা বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করি। এই ফান্ডের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান। একেবারে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত। সেখানে প্রায় ১৪০০ থেকে ১৫০০ শিক্ষার্থীকে আমরা বৃত্তি দিই। দুর্ভাগ্য যে, ২০০৭ সালে ইমারজেন্সি ডিক্লেয়ার করার পর এটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের ফাইলপত্র থেকে শুরু করে সবকিছু সিজ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পুনরায় আবার এটা চালু করেছি। শিক্ষা সহায়তায় সমাজের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের যারা বিত্তশালী তারাও এগিয়ে আসবেন। তারাও ট্রাস্ট ফান্ডে অর্থ বরাদ্দ দেবেন বা নিজ নিজ এলাকা বা নিজ নিজ স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় যে যেখানে পড়াশোনা করেছেন, সেগুলোর উন্নয়নে সবাই মনোযোগী হবেন। যেখান থেকে লেখাপড়া শিখে আজকে বিত্তশালী হয়েছেন, সেই জায়গাগুলোর প্রতি যদি সবাই যত্নবান হন তাহলে আমার মনে হয় কোনো অসুবিধা হয় না। ইনশাল্লাহ, জাতির পিতা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, আমরা সেই স্বপ্ন পূরণ করব আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। শিক্ষার খরচটাকে আমরা খরচ মনে করি না। এটাকে আমরা একটা বিনিয়োগ মনে করি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিনিয়োগ। বাংলাদেশ আজকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমরা যে স্বীকৃতি পেয়েছি, সেটা আমাদের ধরে রাখতে হবে। ধরে রাখার জন্যই দরকার শিক্ষার প্রসার, উপযুক্ত দক্ষ কারিগর এবং নাগরিক। আমরা সেই দক্ষ কারিগর এবং উপযুক্ত নাগরিকই গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কভিড-১৯ করোনাভাইরাসের কারণে স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। এটা একটা কষ্টকর ব্যাপার। আমরা আশা করছি যে, আগামী ৩০ মার্চ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে সক্ষম হব। এরই মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যত শিক্ষক-কর্মচারী আছেন তাদের সবাইকে টিকা নিতে হবে। সেই টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এরই মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছি। টিকা সবাইকে দেওয়া হবে। আর ইউনিভার্সিটি বা কলেজে ডব্লিউএইচওর নির্দেশনা মোতাবেক যে বয়স পর্যন্ত টিকা নেওয়া যাবে না, তার উপরের বয়সে যারা সেই শিক্ষার্থীদেরও টিকা দেওয়া হবে। কাজেই আমরা সবাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় থাকব, সেটিই আমরা চাই। শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে এই ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ নিই। ২০১২ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করি। এর মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে উপবৃত্তি, টিউশন ফি, ভর্তি সহায়তা ও চিকিৎসা অনুদান দেওয়া হচ্ছে। উচ্চশিক্ষায় ফেলোশিপ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি মনে করি, বিজ্ঞান প্রযুক্তি শিক্ষা বা কারিগরি শিক্ষা এটাই হচ্ছে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এটা শুধু দেশে না বিদেশেও। আমরা আমাদের ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করছি। সেখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে। সেখানে আমাদের অনেক টেকনিক্যাল লোক লাগবে। অনেক দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন হবে। কাজেই সেই দক্ষ জনশক্তিই আমরা সৃষ্টি করতে চাই। এই দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করলে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তারা ব্যাপক অবদান রাখতে পারবে। কাজেই সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী ২০২০-২০২১ অর্থবছরে স্নাতক পর্যায়ে ১ কোটি ৬৩ লাখ ৮৮২ জন ছাত্রছাত্রীর মাঝে উপবৃত্তি ও টিউশন ফি বাবদ ৮৭ কোটি ৪৩ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ টাকা ও ভর্তি সহায়তা বাবদ ১২৩ শিক্ষার্থীকে ৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, দুর্ঘটনায় আহতদের আর্থিক অনুদান বাবদ চারজন শিক্ষার্থীকে ২ লাখ টাকাসহ মোট ৮৭ কোটি ৫২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বিতরণের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।