শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:০৯

জলবায়ুর পরিবর্তন ঠেকাতে বিশ্ব নেতাদের প্রধানমন্ত্রীর চার পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জলবায়ুর পরিবর্তন ঠেকাতে বিশ্ব নেতাদের প্রধানমন্ত্রীর চার পরামর্শ
Google News

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণ কমানো, ক্ষতি প্রশমন ও পুনর্বাসনে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার ফান্ড নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির দিকে বেশি মনোযোগী হওয়াসহ চার পরামর্শ বিশ্ব নেতাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আয়োজিত জলবায়ু বিষয়ক দুই দিনব্যাপী ‘লিডারস সামিটের’ উদ্বোধনী সেশনে ভিডিও বার্তায় এসব পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ স্থানীয় সময় গতকাল সন্ধ্যার পর এই সামিট অনুষ্ঠিত হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ সম্মেলনের (ভার্চুয়াল) উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪০ জন বিশ্ব নেতাকে এ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানান জো বাইডেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম পরামর্শ হলো- বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম রাখতে উন্নত দেশগুলোকে কার্বন নিঃসরণ কমাতে তাদের তাৎক্ষণিক ও উচ্চাভিলাষী অ্যাকশন প্ল্যান গ্রহণ করা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোকেও প্রশমন ব্যবস্থার দিকে মনোযোগী হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিতীয় পরামর্শ হলো, বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ১০০ মার্কিন ডলার তহবিল নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের প্রতি বিশেষ মনোযোগ প্রদানের মাধ্যমে এই তহবিলের ৫০ শতাংশ অভিযোজন ও ৫০ শতাংশ প্রশমনের জন্য কাজে লাগানো। প্রধানমন্ত্রীর তৃতীয় পরামর্শ হচ্ছে, উদ্ভাবন এবং জলবায়ু অর্থায়নে (concessional climate financing) বড় অর্থনীতির দেশ, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি সেক্টরগুলোকে এগিয়ে আসা। চতুর্থ পরামর্শ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবুজ অর্থনীতি এবং কার্বন নিরপেক্ষ প্রযুক্তিতে ট্রান্সফার হওয়া প্রয়োজন। শেখ হাসিনা বলেন, কভিড-১৯ মহামারী আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় বৈশ্বিক সংকট শুধুমাত্র সবার সম্মিলিত দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমেই মোকাবিলা করা যেতে পারে। সম্মেলন আয়োজনের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ফিরে আসা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করার আগ্রহকে বাংলাদেশ প্রশংসা করে। সম্পদের সীমাবদ্ধতার সঙ্গে জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ অভিযোজন এবং প্রশমনে বিশ্বে বাংলাদেশের সফলতার কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতি বছর বাংলাদেশ জলবায়ু অভিযোজন এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে, যা আমাদের জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশ। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ১ দশমিক ১ মিলিয়ন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশে আশ্রয় এবং এর ফলে পরিবেশের ক্ষতির কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ মুজিববর্ষ উদযাপন করছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা মুজিববর্ষে সারা দেশে ৩০ মিলিয়ন গাছ লাগানোর উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।