বুধবার, ৩ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা
গ্লাসগোতে প্রবাসীদের সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী

দেশে বিনিয়োগ করুন বাধা থাকলে দূর করব

প্রতিদিন ডেস্ক

দেশে বিনিয়োগ করুন বাধা থাকলে দূর করব

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মাইক্রোসফটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস -পিআইডি

প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে আরও বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নানা উদ্যোগের পরও কোথাও কোনো বাধা থেকে থাকলে সরকার তা দূর করবে।

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে স্থানীয় সময় সোমবার রাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক নাগরিক সংবর্ধনায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রবাসীদের জন্য কিন্তু বিশেষ ব্যবস্থা করা আছে। তারপরও আপনারা যখন বলছেন, আপনারা যদি আমাকে একটু জানান যে কে কে কোথায় কোন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন, অবশ্যই আমি তদন্ত করে দেখব যে কী সমস্যাটা হয়েছিল, কেন হলে, কেন পারলেন না। এটাতো না পারার কথা না। বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে সমস্যা থাকলে তা দূর করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগের জন্য সব রকম সুযোগ-সুবিধা আমরা দিচ্ছি। এমনকি আমরা রোড শোও করছি। কীভাবে বিনিয়োগ করতে হবে সেসব নির্দেশনা অনলাইনেই পাওয়া যায় জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ইতিমধ্যে বিডাতে (বাংলাদেশ বিনিয়োগ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) সব ধরনের নির্দেশনা দেওয়া আছে, যা আপনারা বিডাতে অনলাইনে গেলে সব পেয়ে যাবেন।

প্রধানমন্ত্রী দেশের ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রবাসীদের বিনিয়োগ করার সুযোগের কথা তুলে ধরে বলেন, বিনিয়োগ বন্ড ও প্রিমিয়াম বন্ডেও প্রবাসীরা বিনিয়োগ করতে পারেন। দেশে ‘প্রচুর’ বিদেশি বিনিয়োগ আসছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি এইটুকু বলব যে বাংলাদেশকে আমরা সার্বিকভাবে উন্নতি করে দিচ্ছি। রেমিট্যান্স পাঠালে তার ওপর নগদ প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ২ শতাংশ প্রণোদনার দাবি কেউ উঠাননি। এটা কোনোদিন কারও মাথায়ও আসেনি। স্বেচ্ছায় আমি নিজে থেকে দিয়েছিলাম।

দারিদ্র্য দূর করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, আপনারা জেনে খুশি হবেন, আমাদের প্রায় ৪৯৫টা উপজেলা, প্রত্যেকটা ইউনিয়ন আমরা কিন্তু সার্ভে করি। এই সার্ভে করে পেলাম মাত্র ১০টা উপজেলায় এখনো কিছু দরিদ্র মানুষ আছে। মাত্র ১০টা উপজেলায় সেই কুড়িগ্রামের ২/৩টা, দিনাজপুরের একটা এ রকম কয়েকটা। আমি ইতিমধ্যে নির্দেশ দিয়েছি যে এই ১০ জায়গায় কী কারণে এখনো মানুষ বেশি দরিদ্র আছে, এটা দেখতে হবে। এই দারিদ্র্য কীভাবে দূর করব, তার প্ল্যান প্রোগাম করতে ইতিমধ্যে আমি নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি। ইনশা আল্লাহ কয়েক মাসের মধ্যেই আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন করে ফেলব। কাজেই বাংলাদেশে আর হতদরিদ্র থাকবে না।

বিএনপি আর কী চায় : দুর্নীতিতে দন্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাময়িক মুক্তি দিয়ে ‘উন্নত চিকিৎসার সুযোগ’ করে দেওয়ার পরও কেন দলটি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কথা বলে, সেই প্রশ্ন রেখে শেখ হাসিনা বলেন, যে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে, তাকে আমি এইটুকু সুযোগও দিয়েছি। আর কী চায় তারা? তারপরও কীসের ডেমোনস্ট্রেশন? খালেদা জিয়ার বড় ছেলে যাবজ্জীবন সাজার রায় মাথায় নিয়ে লন্ডনে পালিয়ে থাকা তারেক রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, সাহস থাকলে তার দেশে ফেরা উচিত, রাজনীতি করতে হলে ‘সাহস দেখাতে হয়’। তিনি বলেন, আজকে আমি শুনলাম আমার বিরুদ্ধে অনেক ডেমোনস্ট্রেশন হচ্ছে। আমার প্রশ্ন, আমি অন্যায়টা কী করেছি? আমি বাংলাদেশের উন্নতি করেছি, দারিদ্র্যের হার কমিয়েছি, বাংলাদেশের মানুষকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছি। সরকার যে সাক্ষরতার হার বাড়াচ্ছে, দেশের মানুষ যে শিক্ষিত হচ্ছে, সেটা বিএনপির ‘পছন্দ না’ মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, অবশ্য সেটা পছন্দ নাই হতে পারে। কারণ খালেদা জিয়া মেট্রিক পাস করেননি। জিয়াউর রহমান কেবলই ইন্টারমিডিয়েট পাস ছিলেন। আর তারেক জিয়া তো ফেল করতে করতে এখন নাকি অখ্যাত কোথা থেকে সে পাস করেছে শোনা যায়। দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে খালেদা জিয়ার জেলে থাকার বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু সে অসুস্থ, তাকে আমরা তার বাসায় থাকতে দিয়েছি এবং তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কই জেলখানায় এই রকম কখনো তো কাউকে এই সুযোগ দেওয়া হয় না। এমনকি তিনি মেইড সার্ভেন্টও নিয়ে গেছেন। কারাগারে মেইউ সার্ভেন্ট পাওয়া যায়- এটা কখনো শুনেছেন আপনারা? খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান শুধু অনলাইনে যোগাযোগ করে দেশে আন্দোলন করতে বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, এত ভয় কীসের? দেশে যায় না কেন? আমার বিরুদ্ধে যখন মামলা দিয়েছে আমি তো জোর করে দেশে গিয়েছি, তখন আমাকে আসতে দেয় না। তো দেশে চলে আসুক যদি সাহস থাকে। আর রাজনীতি করতে হলে সাহস দেখাতে হবে। পলায়ে থেকে খালি বোমা মেরে, আগুন দিয়ে, আর ডেমোনস্ট্রেশন দিয়ে তো চলবে না। বিএনপিকে মানুষ কেন ভোট দেবে- সেই প্রশ্ন রেখে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, তারা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলে! আমার কথা হচ্ছে তারা ভোটটা পাবে কোত্থেকে, যেখানে নেতৃত্বশূন্যতা রয়েছে। নেতৃত্বে সাজাপ্রাপ্ত আসামি, পলাতক আসামি। সেই নেতৃত্বকে কি জনগণ ভোট দেবে? আপনারা বলেন, কোন আশায় দেবে? বিএনপি-জামায়াত দেশকে পিছিয়ে নিতে চায় মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন, বাংলাদেশ আর দরিদ্র থাকবে না, আর পেছাবে না। এরা চাচ্ছে বাংলাদেশ পিছিয়ে যাক। কারণ আমি থাকলে ডেভেলপমেন্ট হবে এবং আমি না থাকলে এগুলো স্থবির হবে। আর ওদের মতো চোর-চোট্টারা যদি ক্ষমতায় আসে তো বাংলাদেশ রসাতলে যাবে।

দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ওরা বলে যাবে, আন্দোলন করে যাবে, আমি আমার ডেভেলপমেন্ট করে যাব, আমি আমার উন্নয়ন করে যাব। কারণ আমরা আন্দোলন করেই এখানে এসেছি। আর খালেদা জিয়া ভোট চুরি করেছিল বলে আন্দোলন করে তাকে আমরা ক্ষমতা থেকে উৎখাত করেছিলাম। বিএনপির সময়ে টিআইয়ের দুর্নীতির সূচকে চার বার বাংলাদেশের শীর্ষে থাকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে তারা অর্থ বানায়নি। আজকে যদি চুরি করে এই অর্থ না বানাত, তাহলে নিশ্চয় লন্ডনে এত বিলাসী জীবনযাপন করতে পারত না। এত শান শওকতে থাকতে পারত না, এত টাকাও খরচ করতে পারত না।’ চুরি করে টাকা পাচার করেছে এটা আমার কথা না, আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের তদন্তে সেটা বের হয়েছে। তারা আন্দোলন করে আমার বিরুদ্ধে, কেন? সেটা আমার প্রশ্ন। শেখ হাসিনা বলেন, আমার অপরাধটা কী? বাংলাদেশের উন্নতি করেছি এটাই তো তাদের কাছে অপরাধ? তাহলে এর অর্থটা কী দাঁড়ায়? এরা স্বাধীনতা চায় না, বাংলাদেশের উন্নতিটা চায় না। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য ফিরুক, সেটা চায় না। কিন্তু আমি আপনাদেরকে কথা দিচ্ছি বাংলাদেশের একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। বাংলাদেশের মানুষের জীবনকে ‘সুন্দর করতে’ যা যা করতে হয়, তার সবই আওয়ামী লীগ সরকার ‘করে দিচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

সর্বশেষ খবর