রবিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ টা

শেষ মুহূর্তে গ্রেফতার বাড়ি বাড়ি অভিযান

আরাফাত মুন্না, নারায়ণগঞ্জ থেকে

একেবারে শেষ মুহূর্তে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার ও বাড়ি বাড়ি তল্লাশির অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে তৈমূরের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারে নামে পুলিশ। গতকাল বিকালে গ্রেফতার ১০ জনকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। এ ছাড়া তৈমূরের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামালসহ শতাধিক নেতা-কর্মীর বাড়িতে পুলিশি অভিযান চালিয়েছে বলে দাবি করেন তৈমূর।

সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, তাঁর শতাধিক নেতা-কর্মীর বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে হুমকি-ধমকি দিয়েছে। শুক্রবার রাতে প্রেস কনফারেন্সের সময় যারা তাঁর বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি নির্বাচন কমিশনে এজেন্টদের যে তালিকা দিয়েছিলেন, হতে পারে সেই তালিকা ধরেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ির চাবি নিয়ে গেছে এবং চালককে আটক করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম জানান, আমরা কারও পক্ষ বা বিপক্ষে নই। যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে আমরা শুধু তাদেরই গ্রেফতার করেছি।

জানা গেছে, গতকাল বিকাল ৫টার দিকে নগরের ডন চেম্বার মিশন পাড়া এলাকায় এ টি এম কামালের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে ডিবি পুলিশ। এ সময় কামালকে বাড়িতে না পেয়ে তারা চলে যায়। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে গতকাল রাত সাড়ে ১২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তৈমূর আলম খন্দকারের গ্রেফতারকৃত নেতা-কর্মীরা হলেন- মো. মমতাজ মিয়া, মো. জামাল, মো. গিয়াসউদ্দিন প্রধান, আহসান হোসেন ভূইয়া, মনির হোসেন, আহসানউল্লাহ, কাজী জসিম উদ্দিন, মো. বোরহান উদ্দিন, আবু তাহের, জয়দেব চন্দ্র মন্ডল। এদের সবাইকে হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে করা নাশকতা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। এদিকে নগরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তিনগর এলাকায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, বিএনপি সমর্থক মহসিন, আফজাল হোসেন, তাহের হোসেন, ডা. আবদুল মান্নানের বাড়িতে শুক্রবার রাতে অভিযান চালানো হয়। এ ছাড়া ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি টি এইচ তোফা, মোক্তাদির হোসেন হৃদয়, জিল্লুর রহমান, ১ নম্বর ওয়ার্ডে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল হাই রাজু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ হালিম জুয়েল, বিএনপি নেতা মনির হোসেন, শহিদুল ইসলাম এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসেন এবং বর্তমান সভাপতি শামসুদ্দিন শেখের বাড়িতেও পুলিশ তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময় কেউ বাসায় ছিলেন না বলে জানা গেছে। নগরের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি টি এইচ তোফা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি গত এক সপ্তাহ ধরে বাড়িতে ঘুমাতে পারি না। রাত হলেই বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে পুলিশের গাড়ি। শুক্রবার রাতে আমাকে গ্রেফতার করতে আমার বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ তল্লাশির নামে ঘরের জিনিসপত্র ওলট-পালট করে গেছে।’ একই ওয়ার্ডের হারুন নামে বিএনপির কর্মীর বাড়িতে শুক্রবার মধ্যরাতে পুলিশি অভিযানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার রাত ২টার দিকে তৈমূর আলম খন্দকারের সমর্থক সন্দেহে নগরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার হাউস এলাকায় মোক্তাদির হোসেন হৃদয় নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। হৃদয়কে বাড়িতে না পেয়ে তার দুই ভাই তন্ময় ও উদয়কে মারধর করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে হৃদয় বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘যখন পুলিশ বাসায় আসে আমি তখন বাড়িতে ছিলাম না। পোশাকে এবং সাদা পোশাকে মিলিয়ে ৮ থেকে ১০ জন পুলিশ সদস্য আমাকে খুঁজতে বাড়িতে আসে। ঘরের দরজা-জানালা ভেঙে পুলিশ ঘরে প্রবেশ করে, আমাকে বাসায় না পেয়ে আমার ছোট দুই ভাইকে মারধর করে। আমি যেন কেন্দ্রে না যাই, এই বলেও হুমকি-ধমকি দেয় তারা।’ হৃদয় জানান, ‘আমি কোনো দিন হাতির জন্য কারও কাছে ভোট চাই নাই। আমি মূলত নৌকার নির্বাচনই করছি। কোনো একটা পক্ষ আমার বিষয়ে ভুল বুঝিয়ে এ কাজ করেছে।’ তিনি আরও জানান, ‘শনিবার সকালে পুলিশ আমাকে বাড়ি থেকে ধরে ফেলে। পরে আমার প্রতিবেশীরা আমার নৌকার পক্ষে কাজ করার বিষয়টি পুলিশকে জানালে আমাকে ছেড়ে দেয়।’ শুক্রবার রাত ২টার পর সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার হাউস এলাকার জিল্লুর রহমান নামে আরেক ব্যক্তির বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশ জিল্লুরকে খুঁজে না পেয়ে তার ঘরে তল্লাশি চালায়। নারায়ণগঞ্জে সুতা ব্যবসায়ীদের সংগঠন ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন সাহাকে (৫২) গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টায় নগরের টানবাজার ইয়ার্ন মার্চেন্ট ক্লাব থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। ক্লাবের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, এ সময় নিচে র‌্যাবের গাড়ি দেখেছেন তারা। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সন্ধ্যার পর লিটন সাহাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, গতকাল রাতে মহানগর ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সহ-সভাপতি ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি অর্ণব প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে সদ্য বিলুপ্ত কমিটির মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদকে আটক করা হয়। তাকে ঘণ্টাখানেক জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়। মধ্যরাতে বন্দরের ২১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তৈমূর আলম খন্দকারের সমর্থক কাজলকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

 

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর