শিরোনাম
৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৪:২১

দিল্লী পৌরসভার নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পথে আম আদমি পার্টি

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

দিল্লী পৌরসভার নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পথে আম আদমি পার্টি

ভারতের দিল্লীর পৌরসভা নির্বাচনে জয়জয়কার আম আদমি পার্টি (আপ)-এর। টানা তিনবারের জয়ী বিজেপিকে হারিয়ে পৌরসভার বোর্ড গঠন করতে চলেছে আপ। গত রবিবার দিল্লির পৌরসভার ২৫০ টি ওয়ার্ডের জন্য ভোট নেওয়া হয়। এই নির্বাচনে মোট প্রার্থী ছিল ১৩৪৯ জন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ভোট পড়ে শতকরা ৫০.৪৮ শতাংশ। নির্বাচন শেষ হওয়ার পরেই সোমবার সন্ধ্যায় একাধিক বুথ ফেরত জরিপে (এক্সিট পোলে) আপ'এর পক্ষে স্পষ্ট জয়ের পূর্বাভাস মিলেছিল।  

বুধবারের গণনাতেও সেই চিত্র সামনে এসেছে। বিজেপিকে হারিয়ে দিল্লী পৌরসভার বোর্ড গঠন করতে চলেছে আপ। দিল্লী পৌরসভার মোট ২৫০ টি ওয়ার্ড রয়েছে। বোর্ড গঠন করতে দরকার ১২৬ টি ওয়ার্ডে জয়। সেখানে এখনো পর্যন্ত আপ জয় পেয়েছে ১০৮টি ওয়ার্ডে, বিজেপির ঝুলিতে ৮৭ টি ওয়ার্ড। তবে নির্বাচনী ফলাফলের যে ট্রেন্ড এখনও সামনে এসেছে তাতে ম্যাজিক সংখ্যাটা ছোঁয়াটা আপের কাছে কেবল সময়ের অপেক্ষা। আর এই নির্বাচনে অনেক পিছনে থেকে দৌড় শেষ করতে চলেছে শতাব্দী প্রাচীন দল জাতীয় কংগ্রেস, মাত্র ৫টি ওয়ার্ডে জয় পেয়েছে তারা। 

সেক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির ১৫ বছরের শাসনের অবসান হতে চলেছ। অন্যদিকে এই প্রথমবারের জন্য দিল্লি পৌরসভা দখল করতে যাচ্ছে আপ। 

এদিন সকাল ৮ টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ৪২ টি ভোট গননা কেন্দ্রে পৌরসভার গণনা শুরু হয় এবং গননার শেষ সময় পর্যন্ত ক্ষমতাসীন বিজেপি এবং বিরোধী আপের মধ্যে জোর টক্কর চলে। কখনো বিজেপি এগিয়ে যেতে থাকে আবার কখনো আপের এগিয়ে যাওয়ার খবর আসতে থাকে। কিন্তু শেষ হাসিটা হাসতে চলেছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল আপ। 

বিজেপি, কংগ্রেসকে পেছনে ফেলার পরেই উৎসবে মেতে ওঠে আপের কর্মী সমর্থকরা। দিল্লিতে আপের সদর দপ্তরের সামনে বাজি ফাটিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন তারা, সেই সঙ্গে চলে মিষ্টিমুখ। 

এই জয়ের পর পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ও আপ নেতা ভগবন্ত মান জানান, দিল্লি থেকে ১৫ বছরের কংগ্রেস সরকারকে উৎখাত করেছিল অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এবার দিল্লী পৌরনিগম থেকে ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা দল বিজেপিকে সরাবে। বোঝা যাচ্ছে যে দিল্লির মানুষ ঘৃণার রাজনীতি পছন্দ করেন না। তারা স্কুল, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ, স্বচ্ছতা ও অবকাঠামোর জন্য ভোট দিয়েছে।

দিল্লির ভোট রাজনীতি যারা বোঝেন তাদের দাবি, রাজধানী শহরে আর্থিকভাবে উচ্চবিত্ত ও উচ্চবর্ণের ভোট এখন বিজেপির সম্পদ। অন্যদিকে মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে আপের আধিপত্য বেশি। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে দিল্লির বিধানসভায় ক্ষমতায় নেই বিজেপি, ফলে তাদের ভিত যে বেশ খানিকটা দুর্বল হয়েছে-এই ফলাফল থেকেই তা পরিষ্কার। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজেপির হারের পিছনে যে কারণগুলি রয়েছে সেগুলি হলো দিল্লি সরকারের কিছু দৃষ্টান্তমূলক কাজ। মধ্য ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের কথা ভেবে কেজরিওয়ালের সরকার অনেক প্রকল্পই এনেছে, বিশেষত শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে। প্রতি রবিবার পাড়ায় পাড়ায় মহল্লা ক্লিনিকে এইমসের চিকিৎসকদের নিয়ে এসে চিকিৎসা করানো বা সরকারি স্কুলগুলিতেই উন্নতমানের পঠনপাঠন চালু করা।

শেষবার ২০১৭ সালে দিল্লির তিনটি পৌরসভা মিলিয়ে  ২৭০ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮১ টি ওয়ার্ডে জয় লাভ করে বোর্ড গঠন করে বিজেপি। আপ জয় পায় ৪৮ ওয়ার্ডে এবং ৩০ ওয়ার্ডে জয়ী হয়ে কংগ্রেস তৃতীয় স্থান পায়। 


বিডি প্রতিদিন/ফারজানা

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর