রাত পোহালেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাত জেলার ১৪২ আসনে ভোট নেওয়া হবে। বুধবার এ ভোট শুরু হবে স্থানীয় সময় সকাল ৭টায়, চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
দ্বিতীয় দফায় মোট ভোটার ৩ কোটি ২১ লাখের কিছু বেশি। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ কোটি ৬৪ লাখ, নারী ভোটার ১ কোটি ৫৭ লাখ, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৭৯২ জন। ভোটগ্রহণে কেন্দ্র খোলা হয়েছে ৪১ হাজার ১টি। প্রতিটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রেই থাকছে ওয়েব কাস্টিং ব্যবস্থা।
ভোট নেওয়া হবে ‘ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন’ (ইভিএম)-এর মাধ্যমে। ভোট দেওয়ার সময় ভোটারদের ছবিসহ পরিচয়পত্র (ভোটার কার্ড) বা নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত পরিচয়পত্রগুলোর মধ্যে যেকোনো একটির মূল কপি অবশ্যই থাকতে হবে।
এদিকে ভোট শুরুর কয়েক ঘন্টা আগেই নির্বাচন কমিশন তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া ভোটারদের অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। দ্বিতীয় দফার আগে সেই নামের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৬৮। নাম বাদ পড়েছে ৬ জনের।
নিয়ম অনুযায়ী, যাদের নাম মূল তালিকায় ছিল না, কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ায় বৈধতা পেয়েছেন, তারাই এই তালিকায় স্থান পান। ইতোমধ্যেই এই সমস্ত আসনের অন্তর্গত ভোট সামগ্রী বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে (ডিসিআরসি) এসে পৌঁছেছেন ভোট কর্মীরা। সেখান থেকে ইভিএম, ভিভিপ্যাট, ভোটার তালিকা, ভোটের কালিসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের দিকে রওনা দিয়েছেন তারা।
এ দফায় নির্বাচনি লড়াইয়ে রয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী দল বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট জোট, আইএসএফ, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির মতো দলগুলো। যদিও বেশিরভাগ আসনেই মূল লড়াই হবে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে।
মঙ্গলবারই এই আসনগুলোর প্রচারণা পর্ব শেষ হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথসহ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রী বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা যেমন প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা ব্যানার্জি, অভিষেক ব্যানার্জি, কংগ্রেস সংসদ রাহুল গান্ধীরা নিজেদের দলের প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারণায় অংশ নেন। একই সঙ্গে তৃণমূলের প্রার্থীদের সমর্থনে রাজ্যে প্রচারে এসেছিলেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল, রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) সভাপতি তেজস্বী যাদব। পাশাপাশি বহু তারকাদেরও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারে অংশ নিতে দেখা যায়।
শেষ দফায় মোট ১ হাজার ৪৪৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে। তৃণমূলের উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি (ভবানীপুর), মন্ত্রী ও কলকাতার মেয়র ও ফিরহাদ হাকিম (কলকাতা বন্দর), মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (টালিগঞ্জ), মন্ত্রী শশী পাঁজাসহ অনেকে।
অন্যদিকে, প্রধান বিরোধীদল বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী (ভবানীপুর) ছাড়াও বিশিষ্টদের মধ্যে রয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত (রাসবিহারী), অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলী (সোনারপুর দক্ষিণ), রুদ্রনীল ঘোষ (শ্যামপুর)-সহ অনেকে।
নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন। প্রতিটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে মোতায়েন থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। মোট ২৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকছে এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি উত্তর চব্বিশ পরগনা থাকছে ৫০৭ কোম্পানি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৪০৯ কোম্পানি।
বিডি-প্রতিদিন/এমই