শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৩৮

‘মৃত্যু’ হয়েছে অপরচুনিটির

‘মৃত্যু’ হয়েছে অপরচুনিটির

মঙ্গল গ্রহের অজানা অনেক তথ্য জানার সুযোগ করে দিয়েছে মহাকাশযান অপরচুনিটি। সেখানে পানির প্রবাহ থাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেছে দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে। তবে অপরচুনিটির এ মিশন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করে দিলেন নাসার গবেষকরা। দীর্ঘদিন অপরচুনিটির কাছ থেকে সাড়া না পেয়ে মিশন সমাপ্ত ঘোষণা করেছেন তারা। গত জুন থেকে এ বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১ হাজারটি সিগন্যাল পাঠানো হয়েছে রোভার অপরচুনিটিকে। বলা হয়েছে, ‘ওপি (অপরচুনিটির ডাক নাম) জেগে ওঠো। হাই, হ্যালো বলো। সাড়া দাও, প্লিজ।’ জাগিয়ে তোলার জন্য শেষ বারের মতো তাকে বার্তা (সিগন্যাল বা কম্যান্ড) পাঠিয়েছিল নাসা। ‘হাই ওপি, হাই... হ্যালো’। কিন্তু না, আর ঘুম থেকে জেগে ওঠেনি অপরচুনিটি। ফলে, বুধবার রাতে ওয়াশিংটনে সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে নাসা জানিয়ে দিল, অপরচুনিটি আর নেই। প্রায় ১৫ বছর ধরে মঙ্গল আর পৃথিবীর মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম সেতু হিসেবে কাজ করার পর অপরচুনিটি চলে গিয়েছে শেষ ঘুমে। গত বছরের জুন মাসে মঙ্গল গ্রহের ভয়ংকর এক ধূলিঝড়ে হারিয়ে যায় অপরচুনিটি। এরপর থেকে তার সঙ্গে গবেষকদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। মহাকাশবিজ্ঞানে অন্যতম সফল অভিযান বলে মনে করা হয় অপরচুনিটির এ অভিযানকে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাটারিতে চার্জ না থাকায় পৃথিবী থেকে পাঠানো অনেক সংকেতের কোনো সাড়া দিতে পারেনি অপরচুনিটি। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অপরচুনিটির সঙ্গে যোগাযোগের সর্বশেষ প্রচেষ্টা চালান গবেষকরা।

সর্বনাশা ঝড়ই শেষ : গত বছরের জুনে পাসাডেনায় নাসার জেট প্রোপালসান ল্যাবরেটরি (জেপিএল)-র সঙ্গে শেষ বারের মতো কথা হয়েছিল অপরচুনিটির। তার পর সেই ভয়ঙ্কর ঝড় উঠে মঙ্গলের এক প্রান্তে। আর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গোটা মঙ্গলে। অপরচুনিটি ছিল তখন মঙ্গলের প্রেজারভেন্স ভ্যালিতে। সেই ভয়ংকর ঝড় আর তার সঙ্গে ছড়ানো ধুলোবালিতেই ‘অন্ধ’ হয়ে যায় রোভার অপরচুনিটির ক্যামেরা, সিগন্যাল রিসিভার ও সেন্ডার যন্ত্রগুলো।

কত পথ হাঁটাহাঁটি মঙ্গলের বুকে : ২০০৩ সালে ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল এয়ারফোর্স স্টেশন থেকে রওনা হয় অপরচুনিটি। লাল গ্রহে পা ছোঁয়াবে বলে। সাত মাস পর ২০০৪-এর ২৪ জানুয়ারি মঙ্গলে নামে অপরচুনিটি। লাল গ্রহের ‘মেরিডিয়ানি প্লেনাম’ এলাকায়। তার ‘যমজ বোন’ রোভার ‘স্পিরিট’ মঙ্গলে পা ছুঁইয়েছিল ঠিক তার ২০ দিন আগে। স্পিরিট অবশ্য নেমেছিল মঙ্গলের আর এক প্রান্তে। ১০৩ মাইল (১৬৬ কিলোমিটার) চওড়া ‘গুসেভ ক্রেটার’ এলাকায়। স্পিরিট অবশ্য খুব বেশি দিন বাঁচেনি। মঙ্গলের বুকে স্পিরিট ঘুড়েছে ৮ কিলোমিটার এলাকা। ২০১১-য় শেষ হয়ে যায় স্পিরিটের মিশন। আর নাসার বিজ্ঞানীরা ভেবেছিলেন, লাল গ্রহে বড়জোর ৯০টি দিন (মঙ্গলের দিন) টিকতে পারবে অপরচুনিটি। সেই সব হিসাব ওলট-পালট করে দিয়ে মঙ্গলে ৫ হাজার দিন (মঙ্গলের দিন) সক্রিয় থেকেছে অপরচুনিটি। এখনো পর্যন্ত মঙ্গলের বুকে আর কোনো রোভারের এত বেশি দিন ধরে সক্রিয় থাকার রেকর্ড নেই। পাহাড় চুড়ো থেকে গভীর নদী খাতে : মঙ্গলে কাজও করেছে বিস্তর ৩৮৪ পাউন্ড (১৭৪ কিলোগ্রাম) ওজনের এই রোভার। কখনো অপরচুনিটি এগিয়েছে বিশাল বিশাল পাথর, দৈত্যাকার পাথরের ওপর দিয়ে, কখনো বা বড় বড় নুড়ি-পাথর বিছানো ঢালু পথ ধরে পাহাড়ে উঠেছে, নেমেছে। এক পাহাড় থেকে গিয়েছে অন্য পাহাড়ে। আবার তরতরিয়ে নেমে গিয়েছে শুকিয়ে যাওয়া নদীর গভীর খাদে। বিবিসি


আপনার মন্তব্য